ইশান কিষানের আগুনঝরা ব্যাটিং আর পেস-স্পিনের দুর্দান্ত যৌথ আক্রমণে আরেকবার বিশ্বকাপে পাকিস্তানের ওপর নিজেদের দাপট দেখাল ভারত। নানা টানাপোড়েন, বিতর্ক আর বৃষ্টির শঙ্কা কাটিয়ে ম্যাচ মাঠে গড়াল ঠিকই, কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বিতা জমে ওঠার সুযোগই পায়নি। শুরুতে ধাক্কা খেলেও কিষানের বিধ্বংসী ইনিংস আর মাঝের দিকে কয়েকটি কার্যকর অবদানে লড়াইয়ের মতো সংগ্রহ দাঁড় করায় ভারত। জবাবে রান তাড়ায় নেমে একেবারেই ছন্দ খুঁজে পায়নি পাকিস্তান। বড় ব্যবধানে জিতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা নিশ্চিত করে শিরোপাধারীরা।
কলম্বোয় রোববার ‘এ’ গ্রুপের ম্যাচে ভারত জেতে ৬১ রানে। ১৭৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ১১৪ রানেই গুটিয়ে যায় পাকিস্তান।
বিশ্বকাপে দুই দলের নয়বারের দেখায় এটি ভারতের অষ্টম জয়। পাকিস্তানের একমাত্র সাফল্য আসে ২০২১ আসরে। চলতি আসরে এটি ভারতের টানা তৃতীয় জয়, আর বিশ্বকাপ মিলিয়ে টানা ১১ ম্যাচে অপরাজিত তারা।
কিষানের ৪০ বলে ৭৭ রানের ঝড়ো ইনিংসই ম্যাচের ভাগ্য গড়ে দেয়। ১০টি চার আর ৩টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংস তাকে এনে দেয় ম্যাচসেরার পুরস্কারও।
ম্যাচের আগে রাজনৈতিক টানাপোড়েনও কম ছিল না। বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেওয়া বাংলাদেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে প্রথমে ভারতের বিপক্ষে না খেলার ঘোষণা দিয়েছিল পাকিস্তান সরকার। পরে আইসিসি, পিসিবি ও বিসিবির বৈঠকের পর সেই সিদ্ধান্ত বদলায়। তবে এশিয়া কাপ থেকে চলে আসা এক অস্বস্তিকর আবহ বজায় রেখে ম্যাচের শুরু ও শেষে পাকিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে করমর্দন করেননি ভারতীয়রা।
আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামের উইকেট ছিল কিছুটা মন্থর। টস জিতে বোলিং নেওয়া পাকিস্তানের শুরুটা আশাব্যঞ্জকই ছিল। অধিনায়ক সালমান আলি আগা নিজেই প্রথম ওভার করেন। অফ স্পিনারের টানা তিন ডট বলের পর উইকেট ছুঁড়ে দেন অসুস্থতা কাটিয়ে ফেরা আভিশেক শর্মা। টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ব্যাটসম্যান নিজের প্রথম বিশ্বকাপে টানা দুই ম্যাচেই শূন্য রানে ফেরেন।
তবে তিন নম্বরে নামা তিলাক ভার্মাকে প্রায় দর্শক বানিয়ে ঝড় তোলেন কিষান। শাহিন শাহ আফ্রিদির বলে বিশাল ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন তাণ্ডব। পাওয়ার প্লেতে ভারতের ৫২ রানের মধ্যে ৪২-ই আসে তার ব্যাট থেকে। আবরার আহমেদকে টানা তিন বাউন্ডারি মেরে ২৭ বলেই পূর্ণ করেন ফিফটি।
নবম ওভারে সাইম আইয়ুবের দারুণ ডেলিভারিতে বোল্ড হওয়ার আগে দলের ৮৮ রানের মধ্যে ৭৭-ই ছিল কিষানের অবদান। ভারত-পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে এটি চতুর্থ সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত ইনিংস।
তার বিদায়ের পর কিছুটা মন্থর হয় রান তোলার গতি। সাইম পরপর দুই বলে তিলাক ও হার্দিক পান্ডিয়াকে ফিরিয়ে চাপ বাড়ান। তবে অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ, শিভাম দুবে ও রিঙ্কু সিংয়ের ছোট ছোট কার্যকর ইনিংসে ১৭৫ পর্যন্ত পৌঁছে যায় ভারত।
রান তাড়ায় শুরু থেকেই চাপে পড়ে পাকিস্তান। প্রথম ওভারেই সাহিবজাদা ফারহান আউট হন। জাসপ্রিত বুমরাহ দ্রুত সাইম ও সালমানকে ফিরিয়ে দিলে ১৩ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে দিশেহারা পাকিস্তান।
বাবর আজমও বড় কিছু করতে পারেননি; আকসার প্যাটেলের বলে বোল্ড হয়ে ফেরেন। উসমান খান ৩৪ বলে ৪৪ রান করে লড়াইয়ের ইঙ্গিত দিলেও তাকে ফিরিয়ে দেন আকসারই। এরপর আর কেউ দাঁড়াতে পারেননি। রহস্য স্পিনার ভারুন চক্রবর্তী পরপর দুই বলে ফাহিম আশরাফ ও আবরারকে ফিরিয়ে হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগান।
৯৭ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে একসময় একশর আগেই গুটিয়ে যাওয়ার শঙ্কা ছিল পাকিস্তানের। শেষদিকে আফ্রিদির ১৯ বলে ২৩ রানে তারা ১১৪ পর্যন্ত পৌঁছায়। ভারতের হয়ে পান্ডিয়া, বুমরাহ, আকসার ও ভারুন নেন দুটি করে উইকেট।
তিন ম্যাচে পূর্ণ ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষে ভারত। ৪ পয়েন্ট পাওয়া যুক্তরাষ্ট্রের সব ম্যাচ শেষ। সমান পয়েন্ট হলেও নেট রানরেটে পিছিয়ে তিন নম্বরে পাকিস্তান, শেষ ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ নামিবিয়া। নেদারল্যান্ডস শেষ ম্যাচে খেলবে ভারতের বিপক্ষে।