পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর জন্য মেলবোর্ন যাচ্ছেন বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল। তবে দেশে ফিরে তিনি মেয়াদের চার বছর সম্পূর্ণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।
বিসিবি সভাপতি ফোনে বলেন, “আপনারা তো প্রতিদিন সন্ধ্যায় বাসায় ফেরেন, বোর্ড পরিচালকরাও সবাই পরিবারে থাকেন। আমি তো পরিবারকে দেখিনি… তাই এবার একটু সময় দিতে চাই।” দেশের ক্রিকেট আঙিনায় সোমবার দুপুর থেকেই খবর ছড়িয়ে পড়ে, তিনি অস্ট্রেলিয়ায় যাচ্ছেন। নিজেই এই খবরের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “পারিবারিক কারণে যাচ্ছি, দেশে ফিরে মেয়াদের শেষ পর্যন্ত থাকব।”
আমিনুলের পরিবার দীর্ঘদিন ধরেই মেলবোর্নে বসবাস করছে। আইসিসিতে কাজ করার সময় তিনি মেলবোর্ন থেকেই ক্রিকেটের নানা সফরে যেতেন। বিসিবি সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর ঢাকাতেই প্রধানত অবস্থান করছেন।
সোমবার সকালে বিসিবি পরিচালকদের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে বার্তা দিয়ে তিনি জানান, জরুরি পারিবারিক প্রয়োজনে মেলবোর্ন যাচ্ছেন এবং শিগগিরই ফিরে আসবেন। দেশের ক্রিকেট মহলে তার দেশ ত্যাগের খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। কিছু প্রশ্নও উঠেছিল, তিনি কি পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছেন কি না।
বিকেলে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বললেন, “স্রেফ কয়েক দিনের জন্য পরিবারের সঙ্গে সময় কাটাতে যাচ্ছি। রোজা শুরু হচ্ছে, আড়াই মাস ধরে পরিবারকে দেখিনি। দুটো ছেলে, স্ত্রী আছে—একটু সময় দিতে যাচ্ছি। আমি তো প্রেসিডেন্ট, আমার ছুটি নেওয়ার প্রয়োজন নেই, সবসময় অনলাইনে আছি। এই বিষয়কে কেন অন্য দিকে ঘোরানো হচ্ছে, বুঝি না।”
তিনি আরও বলেন, “যাহোক, আমি কয়েক দিনের জন্য বাড়ি যাচ্ছি, পরিবারের সঙ্গে সময় কাটিয়ে আবার ফিরে আসব। আমি চার বছরের জন্য নির্বাচিত সভাপতি। ইনশাল্লাহ পুরো মেয়াদই থাকব। প্রেসিডেন্টকে ছুটি নিতে হয় না কি? আমি অনলাইনে আছি, পরিচালকদের সঙ্গে যোগাযোগ আছে।”
জাতীয় নির্বাচনের পর তাঁর অস্ট্রেলিয়া সফর নিয়ে নানা চর্চা ছিল। গত মে মাসে ফারুক আহমেদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দায়িত্ব পান আমিনুল। অক্টোবরের শুরুতে নির্বাচিত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব নেন। এই নির্বাচন নিয়ে বিতর্ক ও প্রশ্ন ওঠে—বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচন, পরিচালকদের নিয়োগ, সরকারী হস্তক্ষেপ—সবই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।
নির্বাচনে অনিয়ম ও ফিক্সিং অভিযোগে মোট ২১ প্রার্থী সরে দাঁড়ান। ক্লাব ক্যাটেগরির নির্বাচনে প্রথমে ৩০ জন থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১৫ জনে নাম কমে আসে। ঢাকার ৪৫টি ক্লাব এই বোর্ডকে ‘অবৈধ’ দাবি করে অক্টোবর থেকে সব ক্রিকেট কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে।