পঞ্চাশ ছোঁয়া ঝড়ো ইনিংস খেলে কানাডার বিপক্ষে দলকে জয় উপহার দিলেন নিউ জিল্যান্ডের বিস্ফোরক ব্যাটসম্যান গ্লেন ফিলিপস।
ইনিংসের চতুর্থ ওভারে ক্রিজে নামার পর থেকেই ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে তুলে নেন তিনি। কানাডার বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে খেলেন দাপুটে এক ইনিংস, যা শেষ পর্যন্ত তাকে এনে দেয় ম্যাচ সেরার পুরস্কার। এই কৃতিত্বের মাধ্যমে একদিকে গড়লেন নতুন মাইলফলক, অন্যদিকে ছুঁয়ে ফেললেন আরেকটি রেকর্ডের দুয়ার।
চেন্নাইয়ে মঙ্গলবার কানাডার বিপক্ষে কিউইদের ৮ উইকেটের জয়ে বড় অবদান ছিল ফিলিপসের। ১৭৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় তিনি মাত্র ৩৬ বলে ৭৬ রান করেন। ইনিংসটি সাজান অর্ধডজন ছক্কা ও চারটি চারে। শুরুতে একটু ধীর থাকলেও দ্রুতই গতি বাড়ান এই ডানহাতি ব্যাটার।
শুধু ব্যাটেই নয়, ফিল্ডিংয়েও ছিলেন উজ্জ্বল। প্রথম ইনিংসে নেন তিনটি ক্যাচ। এক ওভার বল করে উইকেট না পেলেও খরচ করেন মাত্র ছয় রান। সব মিলিয়ে ম্যাচের সেরা খেলোয়াড় হওয়ার জন্য যা যা দরকার, সবই দেখান তিনি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এটি তার দ্বিতীয় ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ পুরস্কার। নিউ জিল্যান্ডের হয়ে এর চেয়ে বেশি বার কেউ এই স্বীকৃতি পাননি। দুইবার করে এই পুরস্কার জিতেছেন ইয়ান বাটলার, মার্টিন গাপটিল, ব্র্যান্ডন ম্যাককালাম, ন্যাথান ম্যাককালাম, টিম সাইফার্ট ও কেন উইলিয়ামসন।
আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি ফিলিপসের নবম ম্যাচ সেরা হওয়া। নিউ জিল্যান্ডের ক্রিকেটারদের মধ্যে তার চেয়ে বেশি বার এই সম্মান পেয়েছেন কেবল মার্টিন গাপটিল, যিনি ১২২ ম্যাচে ১০ বার ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হয়েছেন। মাত্র ৯২ ম্যাচ খেলেই গাপটিলের রেকর্ডের খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছেন ফিলিপস।
কানাডার বিপক্ষে ম্যাচে প্রথম ছয় বলে করেন পাঁচ রান। তবে সপ্তম ওভারে সাদ বিন জাফারকে টানা দুই চার মেরে খোলস ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। এরপরের চার ওভারে হাঁকান পাঁচটি ছক্কা। ২২ বলে পঞ্চম ছক্কা হাঁকিয়ে পূর্ণ করেন ফিফটি। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এটি তার দ্বাদশ অর্ধশতক।
এরপরও থামেননি ফিলিপস। অপরপ্রান্তে তাকে দারুণ সঙ্গ দেন রাচিন রাভিন্দ্রা, যিনি তিনটি ছক্কা ও চারটি চারে ৫৯ রানে অপরাজিত থাকেন। তাদের দুজনের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে মাত্র ৭৩ বলে যোগ হয় ১৪৬ রান।
ফিলিপস ও রাভিন্দ্রার বিধ্বংসী জুটিতে ২৯ বল হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে নিউ জিল্যান্ড। এই জয়ে বিশ্বকাপের সুপার এইটে জায়গা করে নেয় কিউইরা।