১৭১ রানের লক্ষ্য। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের মতো দলের বিপক্ষে এই রান তাড়া করা সহজ কাজ ছিল না। কিন্তু নেপাল আজ গড়ার অপেক্ষায় ছিল নতুন ইতিহাস। ১২ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার পর টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জয়ের স্বাদ পেল এশিয়ার এই উঠতি ক্রিকেট শক্তি। মঙ্গলবার মুম্বাইয়ের ওয়াংখেড়ে স্টেডিয়ামে স্কটল্যান্ডকে ৭ উইকেটে হারিয়েছে রোহিত পাউডেলের দল।
দীপেন্দ্রের ঝড়ে জয় ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় শেষের নাটকীয়তায়। শেষ পাঁচ ওভারে নেপালের প্রয়োজন ছিল ৫৯ রান। দুরূহ সেই পথ পাড়ি দিতে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন দীপেন্দ্রা সিং আইরি। ২৩ বলে ৫০ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে যান তিনি। শেষ ওভারে যখন ৫ রান দরকার, তখন দীপেন্দ্রা নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন এবং পরের বলেই গুলশান ঝা বাউন্ডারি মেরে নেপালের জয় নিশ্চিত করেন। ডাগআউটে তখন উল্লাসে ফেটে পড়েছেন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফরা, আর গ্যালারিতে নেপালি সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস।
বল হাতে চমক সোমপালের ব্যাটিংয়ের আগে নেপালের জয়ের ভিত গড়ে দেন পেসার সোমপাল কামি। স্কটল্যান্ডের উদ্বোধনী জুটি যখন বিপজ্জনক হয়ে উঠছিল, তখন নিজের এক ওভারে জোড়া উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন তিনি। নির্ধারিত ৪ ওভারে মাত্র ২৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট তুলে নেন এই অভিজ্ঞ পেসার। স্কটল্যান্ড ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৭০ রান করতে সক্ষম হয়।
পুরানো স্মৃতি ফিরিয়ে আনা জয় ২০১৪ সালের পর বিশ্বকাপে এটিই নেপালের প্রথম জয়। এর আগে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের খুব কাছে গিয়েও ৪ রানে হেরে হৃদয় ভেঙেছিল তাদের। অবশেষে ওয়াংখেড়েতে সেই যন্ত্রণাদায়ক অপেক্ষার অবসান হলো।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- স্কটল্যান্ড: ১৭০/৭ (২০ ওভার)
- নেপাল: ১৭১/৩ (১৯.২ ওভার)
ফল: নেপাল ৭ উইকেটে জয়ী।
ম্যান অফ দ্য ম্যাচ: দীপেন্দ্রা সিং আইরি।