ম্যাচের শুরুটা দুই দলের জন্যই ছিল অনেকটা একই রকম। ৫ ওভার শেষে দক্ষিণ আফ্রিকার স্কোর ছিল ৩ উইকেটে ৩১ আর ভারতের ৩ উইকেটে ২৯। তবে শুরুর সেই ধাক্কা সামলে দক্ষিণ আফ্রিকা যেভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে ভারত তার ধারের কাছেও যেতে পারেনি। ডেভিড মিলারের খুনে ব্যাটিংই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। ৩৫ বলে ৬৩ রানের এক দুর্দান্ত ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হন তিনি। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস (৪৫) এবং শেষ দিকে ট্রিস্টান স্টাবসের ঝড়ো ৪৪ রান। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৮৭ রানের বিশাল পুঁজি পায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
ভারতের ব্যাটিং বিপর্যয়
১৮৮ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপ। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে এক সময় ১০০ রানের আগেই অলআউট হওয়ার শঙ্কায় ছিল তারা। শিভাম দুবের ৪২ রান ছাড়া আর কেউ প্রোটিয়া বোলারদের সামনে দাঁড়াতেই পারেননি। শেষ পর্যন্ত ১১১ রানেই থেমে যায় ভারতের ইনিংস। বল হাতে দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে আগুন ঝরিয়েছেন মার্কো ইয়ানসেন। মাত্র ২২ রান দিয়ে তিনি শিকার করেন ৪টি উইকেট। এছাড়া কেশভ মহারাজ ৩টি ও কর্বিন বশ নেন ২টি উইকেট।
রেকর্ডের পাতায় ওলটপালট
- বিশাল হার: বিশ্বকাপের মঞ্চে রানের হিসেবে এটিই ভারতের সবচেয়ে বড় পরাজয়। এর আগে ২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৪৯ রানে হেরেছিল তারা।
- বিবর্ণ ভারত: বিশ্বকাপে এর চেয়ে কম রানে ভারত মাত্র একবারই অলআউট হয়েছিল (৭৯ রান, ২০১৬ সালে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে)।
- থামল জয়রথ: বিশ্বকাপে টানা ১২ ম্যাচ জেতার পর অবশেষে হারের স্বাদ পেল টিম ইন্ডিয়া।
জাসপ্রীত বুমরাহ মাত্র ১৫ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিলেও বাকি বোলারদের ব্যর্থতায় বড় স্কোর গড়ে ফেলে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচের সবকটিতে জেতার পর সুপার এইটেও নিজেদের দাপট বজায় রাখল মারক্রামের দল।