টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে নিজেদের দাপট ধরে রাখল ইংল্যান্ড। হ্যারি ব্রুকের অনবদ্য এক সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানকে ২ উইকেটে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে ইংলিশরা। এই জয়ের ফলে বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের ব্যবধান এখন ৪-০। শুধু তাই নয়, ক্রিকেটের এই সংক্ষিপ্ত ফরম্যাটে দুই দলের শেষ ছয় লড়াইয়ের সবকটিতেই হাসল ইংল্যান্ড।
বিপর্যয়ে ব্রুকের বীরত্ব
রান তাড়া করতে নেমে শুরুতেই মহাবিপদে পড়েছিল ইংল্যান্ড। ইনিংসের প্রথম বলেই শূন্য রানে ফেরেন ফিল সল্ট। অধিনায়ক জস বাটলার (২) এবং জ্যাকব বেথেলও (৮) দ্রুত বিদায় নিলে মাত্র ৩৫ রানেই ৩ উইকেট হারিয়ে কাঁপতে থাকে ইংলিশরা। শাহিন শাহ আফ্রিদির আগুনে বোলিংয়ে তখন মনে হচ্ছিল ম্যাচ পাকিস্তানের পকেটে।
ঠিক সেই মুহূর্তে তিন নম্বরে ব্যাটিংয়ের কঠিন চ্যালেঞ্জ কাঁধে তুলে নেন হ্যারি ব্রুক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে এই পজিশনে প্রথমবার নেমেই ইতিহাস গড়লেন তিনি। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম অধিনায়ক হিসেবে সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়লেন ব্রুক। ৫১ বলে ১০০ রানের সেই টর্নেডো ইনিংসে ছিল ১০টি চার ও ৪টি ছক্কার মার। মূলত ব্রুকের এই ইনিংসই ম্যাচ থেকে পাকিস্তানকে ছিটকে দেয়।
রোমাঞ্চকর শেষ মুহূর্ত
ব্রুক যখন আউট হন, জয়ের জন্য ইংল্যান্ডের প্রয়োজন ছিল ১৮ বলে মাত্র ১০ রান। কিন্তু শেষ দিকে উইল জ্যাকস ও জেমি ওভারটন দ্রুত বিদায় নিলে ম্যাচে কিছুটা নাটকীয়তা তৈরি হয়। তবে শেষ ওভারের প্রথম বলে বাউন্ডারি মেরে সব শঙ্কা উড়িয়ে জয় নিশ্চিত করেন জফ্রা আর্চার। ৫ বল হাতে রেখেই ১৬৬ রান তুলে ফেলে ইংল্যান্ড।
পাকিস্তানের লড়াই ও ডসনের স্পিন বিষ
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান সংগ্রহ করে পাকিস্তান। ওপেনার সাহিবজাদা ফারহানের ৪৫ বলে ৬৩ রানের লড়াকু ইনিংসের ওপর ভর করেই লড়াকু পুঁজি পায় তারা। অধিনায়ক বাবর আজম (২৫) এবং ফাখার জামান (২৫) শুরুটা ভালো করলেও বড় ইনিংস খেলতে পারেননি। ইংল্যান্ডের পক্ষে বল হাতে উজ্জ্বল ছিলেন লিয়াম ডসন। মাত্র ২৪ রান দিয়ে ৩ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দেন তিনি। এছাড়া আর্চার ও ওভারটন নেন ২টি করে উইকেট।
পয়েন্ট টেবিলের চিত্র
সুপার এইটের দুই ম্যাচে দুই জয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ-২ এর শীর্ষে এখন ইংল্যান্ড। অন্যদিকে ২ ম্যাচে মাত্র ১ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের দুইয়ে থাকলেও সেমির পথ কিছুটা কঠিন হয়ে গেল পাকিস্তানের জন্য।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- পাকিস্তান: ১৬৪/৯ (২০ ওভার) – সাহিবজাদা ৬৩, বাবর ২৫; ডসন ৩/২৪।
- ইংল্যান্ড: ১৬৬/৮ (১৯.১ ওভার) – ব্রুক ১০০, জ্যাকস ২৮; আফ্রিদি ৪/৩০।
- ফল: ইংল্যান্ড ২ উইকেটে জয়ী।
- ম্যাচ সেরা: হ্যারি ব্রুক।