হ্যারি ব্রুকের তখন ফিফটিও হয়নি, কিন্তু ধারাভাষ্য কক্ষে সাবেক দুই ইংলিশ অধিনায়ক নাসের হুসেইন আর মাইক আথারটন এক সুরে বলছিলেন—টি-টোয়েন্টিতে এটাই ব্রুকের আসল পজিশন। সেই ধারণাকেই যেন বাস্তবে রূপ দিলেন ব্রুক। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের ৬০তম ম্যাচে এসে প্রথমবারের মতো ব্যাটিং অর্ডারের তিন নম্বরে নামলেন এবং উপহার দিলেন বিধ্বংসী এক সেঞ্চুরি। আর এই সাফল্যের পুরো কৃতিত্বই ব্রুক দিলেন তার কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালামকে।
‘বাজ’-এর সেই ফাটকা
ম্যাচ শেষে ব্রুক নিজেই ফাঁস করলেন ড্রেসিংরুমের সেই গোপন আলোচনা। তিনে নামার সিদ্ধান্তটি যে হুট করে নেওয়া, তা স্পষ্ট করলেন তিনি। ব্রুক বলেন, “আজ সকালেই ‘বাজ’ (ম্যাককালাম) এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর পেছনে মূল মাস্টারমাইন্ড তিনিই। এটা কাজে নাও লাগতে পারত, কিন্তু ভাগ্য ভালো যে আজ ক্লিক করেছে।”
ম্যাককালামের যুক্তি ছিল খুব সহজ—ব্রুক যেন পাওয়ার প্লে-র সুবিধা নিতে পারেন এবং ইনিংসের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে দলকে এগিয়ে নিতে পারেন।
রেকর্ডের ছড়াছড়ি ও দুর্দান্ত এক জয়
পাল্লেকেলেতে পাকিস্তানের ১৬৫ রান তাড়া করতে নেমে প্রথম বলেই উইকেট হারায় ইংল্যান্ড। পাওয়ার প্লের মধ্যেই বিদায় নেন বাটলার ও জেকব বেথেল। ৫৮ রানে ৪ উইকেট হারিয়ে যখন ধুঁকছিল দল, ঠিক তখনই শুরু হয় ব্রুক-তাণ্ডব। ১০টি চার আর ৪টি ছক্কায় মাত্র ৫১ বলে খেলেন ১০০ রানের অপরাজিত ইনিংস। এই ইনিংসের হাত ধরে ব্রুক গড়েছেন একাধিক রেকর্ড:
- বিশ্বকাপের ইতিহাসে কোনো অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি।
- টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে ইংল্যান্ডের কোনো অধিনায়কের প্রথম সেঞ্চুরি।
পাকিস্তান: ব্রুকের ‘প্রিয়’ প্রতিপক্ষ
পাকিস্তানের বিপক্ষে ব্রুকের ব্যাট যেন সবসময়ই একটু বেশি চওড়া থাকে। পাকিস্তানের বিরুদ্ধে খেলা ৬ টেস্টেই আছে ৪টি সেঞ্চুরি (যার মধ্যে একটি ট্রিপল সেঞ্চুরি)। টি-টোয়েন্টিতেও আগের ১০ ম্যাচে গড় ছিল ৫৫-র ওপরে। কোচ ম্যাককালাম সম্ভবত এই পরিসংখ্যানটি মাথায় রেখেই ব্রুককে বলেছিলেন, “তিনে খেললে কেমন হয়? পাকিস্তান তো তোমারই দল!” কোচের সেই আত্মবিশ্বাসই পাল্টে দিল ম্যাচের চিত্র।
আগামীর পরিকল্পনা
স্রেফ একটি ম্যাচের জন্য নয়, ব্রুক এখন থিতু হতে চান এই তিন নম্বর পজিশনেই। তিনি জানান, শুধু ইংল্যান্ডের হয়ে নয়, ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটেও তিনি এখন থেকে ওপরের সারিতেই ব্যাটিং করতে চান যাতে বেশি বল খেলার সুযোগ পান।