এক পর্যায়ে মনে হচ্ছিল দেড়শ রান ছোঁয়াই হবে আকাশকুসুম কল্পনা। ৭ বলের ব্যবধানে কোনো রান নেই, নেই ৩ উইকেট। ৩২ বল ধরে বাউন্ডারির দেখা নেই কিউই শিবিরে। ঠিক সেই মুহূর্তে লঙ্কান বোলারদের ওপর রীতিমতো তান্ডব চালালেন মিচেল স্যান্টনার ও কোল ম্যাককঙ্কি। বুধবার কলম্বোর আর প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে ৪৭ বলে ৮৪ রানের এক বিস্ফোরক জুটিতে নতুন ইতিহাস গড়লেন এই দুই কিউই অলরাউন্ডার।
সুপার এইটের এই লড়াইয়ে সপ্তম উইকেটে তাঁদের এই জুটিটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রানের রেকর্ড। তারা ভেঙে দিয়েছেন প্রায় ১৬ বছর আগের এক পুরনো রেকর্ড। ২০১০ বিশ্বকাপে ব্রিজটাউনে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৬৫ রানে ৬ উইকেট হারানোর পর, স্টিভেন স্মিথ ও মাইক হাসি মিলে গড়েছিলেন ৭৪ রানের জুটি। আজ লঙ্কানদের বিপক্ষে সেই রেকর্ড টপকে নিজেদের নাম শীর্ষে তুললেন স্যান্টনার ও ম্যাককঙ্কি।
যেভাবে এলো এই মহাকাব্যিক জুটি
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউজিল্যান্ডের শুরুটা মন্দ ছিল না। তবে নবম ওভারের পর থেকেই লঙ্কান স্পিনার মাহিশ থিকশানা ও চামিরার তোপে খেই হারিয়ে ফেলে কিউইরা। ৮৪ রানেই নেই ৬ উইকেট! পাওয়ার প্লের পর থেকে রান তোলার গতি এতটাই কমে যায় যে, ৩৩ বল পর বাউন্ডারির মুখ দেখেন ম্যাককঙ্কি। ১৬তম ওভার শেষে কিউইদের সংগ্রহ ছিল ৬ উইকেটে ৯৮ রান।
এরপরই শুরু হয় আসল তাণ্ডব। শেষ চার ওভারে শ্রীলঙ্কার বোলারদের তুলোধোনা করে ৭০ রান তুলে নেন স্যান্টনার ও ম্যাককঙ্কি। স্যান্টনার ৪টি ছক্কা ও ২টি চারে ৪৭ রান করেন, আর ম্যাককঙ্কি ২৩ বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেটে ১৬৮ রানের লড়াকু পুঁজি পায় নিউজিল্যান্ড।
স্যান্টনারের অনন্য মাইলফলক
এই ইনিংসের পথেই আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন অধিনায়ক মিচেল স্যান্টনার। সেই সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টিতে ১০০০ রান ও ১০০ উইকেটের ‘ডাবল’ পূর্ণ করার কৃতিত্ব দেখালেন তিনি। বিশ্ব ক্রিকেটে সাকিব আল হাসান, মোহাম্মদ নবী, হার্দিক পান্ডিয়াদের মতো কিংবদন্তিদের এলিট ক্লাবে এখন স্যান্টনারের নামটিও যুক্ত হলো।
অন্যদিকে, চোটাক্রান্ত মাইকেল ব্রেসওয়েলের বদলি হিসেবে সুযোগ পাওয়া কোল ম্যাককঙ্কি প্রথমবার ব্যাটিংয়ে নেমেই প্রমাণ করলেন নিজের সামর্থ্য।
সপ্তম উইকেটে সর্বোচ্চ জুটি (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)
| জুটি | রান | প্রতিপক্ষ | সাল |
| মিচেল স্যান্টনার – কোল ম্যাককনকি | ৮৪ | শ্রীলঙ্কা | ২০২৬ |
| মাইক হাসি – স্টিভেন স্মিথ | ৭৪ | বাংলাদেশ | ২০১০ |