গত বছরের বিসিবি নির্বাচনে অনিয়ম ও ক্ষমতা অপব্যবহারের অভিযোগ তদন্তে ক্রীড়া মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে। আর এর পরপরই বিসিবি সরকারকে কড়া বার্তা দিয়ে জানিয়েছে, বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপ থাকলে আইসিসি বাংলাদেশকে নিষিদ্ধ করতে পারে। এর আগে জিম্বাবুয়ে ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডও একই কারণে আইসিসির রোষানলে পড়েছিল।
মূল ঘটনাপ্রবাহ
- তদন্ত কমিটি গঠন: গত ১১ মার্চ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়ে ৫ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে মন্ত্রণালয়। আমিনুল ইসলামের পুনর্নির্বাচিত হওয়ার প্রক্রিয়ায় কোনো কারচুপি ছিল কি না, সেটিই তাদের মূল দেখার বিষয়।
- বিসিবির পালটা যুক্তি: বিসিবি এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিষয়টি নিয়ে তারা আইসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে অনানুষ্ঠানিক আলোচনা করেছে। আইসিসি ইঙ্গিত দিয়েছে যে, গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত বোর্ডে বাইরের হস্তক্ষেপ আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়মভঙ্গ হিসেবে গণ্য হতে পারে।
- তদন্ত বন্ধের অনুরোধ: বিসিবি সরাসরি জাতীয় ক্রীড়া পরিষদকে (NSC) অনুরোধ করেছে যেন এই তদন্ত প্রক্রিয়া বন্ধ করা হয়। তাদের মতে, দেশের ক্রিকেটের স্থিতিশীলতা ও আন্তর্জাতিক ইমেজ রক্ষা করতে বোর্ডকে স্বাধীনভাবে চলতে দেওয়া উচিত।
নেপথ্যে তামিম ইকবালের অভিযোগ
বিসিবি নির্বাচনের ঠিক আগে সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল অভিযোগ তুলেছিলেন যে, সভাপতি আমিনুল ইসলাম বিভিন্ন জেলার কাউন্সিলর পরিবর্তনে প্রভাব খাটাচ্ছেন। এছাড়া মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ বারবার পরিবর্তন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত ১ অক্টোবর তামিম তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
বর্তমান সংকট
নির্বাচনের পর ঢাকার ক্লাবগুলোর একটি বড় অংশ এই বর্তমান পরিচালনা পর্ষদকে ‘অবৈধ’ ঘোষণা করেছে। এমনকি প্রতিবাদ হিসেবে তারা ২০২৫-২৬ মৌসুমের ঢাকা লিগগুলো বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
একদিকে নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন, অন্যদিকে আইসিসির নিষেধাজ্ঞার ভয়। এই দুইয়ের চাপে দেশের ক্রিকেট এখন এক কঠিন মোড়ে দাঁড়িয়ে। বিসিবি চায় আলোচনা করে বিষয়টি সমাধান করতে, যাতে মাঠের খেলা কোনোভাবেই ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।