বিগ ব্যাশের অভিষেক মৌসুমটা স্বপ্নের মতো কাটলো রিশাদ হোসেনের। দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতি হিসেবে হোবার্ট হারিকেন্সের ‘প্লেয়ার অব দ্য ইয়ার’ নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের এই লেগ স্পিনার।
বুধবার ক্রিকেট তাসমানিয়ার জমকালো পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রিশাদের হাতে এই সম্মাননা তুলে দেওয়া হয়। এই সেরার লড়াইয়ে রিশাদ হারিয়েছেন অধিনায়ক ন্যাথান এলিস, অভিজ্ঞ ইংলিশ পেসার ক্রিস জর্ডান এবং টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান নিখিল চৌধুরিকে।
কেন রিশাদই সেরা হলেন?
গেল মৌসুমে দলে নাম থাকলেও খেলার সুযোগ পাননি, তবে এবার বিসিবি থেকে পুরো মৌসুমের অনুমতি পেয়েই নিজেকে প্রমাণ করেছেন রিশাদ। হারিকেন্সের হয়ে ১২ ম্যাচে তিনি শিকার করেছেন ১৫টি উইকেট। তার ইকোনমি রেট ছিল মাত্র ৭.৮২, যা টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে বেশ ঈর্ষণীয়।
তার প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে ন্যাথান এলিস ৯ ম্যাচে ১৪ উইকেট নিলেও ওভারপ্রতি ৯-এর বেশি রান দিয়েছেন। ক্রিস জর্ডান নিয়েছিলেন ৭ উইকেট আর নিখিল চৌধুরী ৩০৭ রান করলেও রিশাদের ইমপ্যাক্টের কাছে তারা পিছিয়ে পড়েন।
অ্যাওয়ার্ড নাইটের অন্যান্য বিজয়ীরা
নারী বিগ ব্যাশে হারিকেন্সের সেরা ক্রিকেটার হয়েছেন ড্যানি ওয়াট-হজ। এছাড়া তাসমানিয়ার ঘরোয়া ক্রিকেটের বড় পুরস্কারগুলোতেও ছিল তারকার মেলা। বর্ষসেরা ওয়ানডে ক্রিকেটারের ‘জ্যাক সিমন্স মেডেল’ জিতেছেন অলরাউন্ডার বিউ ওয়েবস্টার। শেফিল্ড শিল্ড বা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেরা হয়ে ‘ডেভিড বুন মেডেল’ পেয়েছেন কিপার-ব্যাটসম্যান জেইক ডোরান।
পুরো আসরের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ সম্মান ‘রিকি পন্টিং মেডেল’ বা বর্ষসেরা ক্রিকেটারের পুরস্কার জিতে নিয়েছেন অভিজ্ঞ জর্ডান সিল্ক। আর নারী ক্রিকেট লিগে সেরা হয়ে ‘ভেরোনিক পাইক মেডেল’ জিতেছেন র্যাচেল ট্রেনামান।
বিদেশের মাটিতে রিশাদ হোসেনের এই সাফল্য বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য এক বড় প্রাপ্তি। অস্ট্রেলিয়ার বৈরী কন্ডিশনে একজন লেগ স্পিনার হিসেবে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়ে তিনি বিশ্ব ক্রিকেটে লাল-সবুজের পতাকাকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছেন।