BN

জয়খরা কাটিয়ে এবার বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়তে চান নিগার

জয়খরা কাটিয়ে এবার বিশ্বকাপে নতুন ইতিহাস গড়তে চান নিগার

এবারের উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত তিনটি ম্যাচ জয়ের দারুণ সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশ

এবারের উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অন্তত তিনটি ম্যাচ জয়ের দারুণ সুযোগ দেখছেন বাংলাদেশ দলের অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতি।

গত বিশ্বকাপের সেই আবেগঘন দৃশ্যটি হয়তো এখনও অনেকের চোখে ভাসতে পারে। প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডকে হারানোর পর উইকেটে মাথা নুইয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েছিলেন নিগার সুলতানা। বিশ্বকাপে দীর্ঘ ১০ বছর ও টানা ১৬ ম্যাচের জয়খরা কাটানোর পর নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি বাংলাদেশ অধিনায়ক। তবে সেই আনন্দাশ্রু দ্রুতই রূপ নিয়েছিল চরম হতাশায়। পরের তিনটি ম্যাচেই টানা হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল টাইগ্রেসদের।

অবশ্য নারী ক্রিকেটের প্রেক্ষাপটে এটি খুব একটা বিস্ময়কর কিছু ছিল না। বরং বিগত বছরগুলোর অনুমিত ও নিয়মিত চিত্রই ছিল এমন। আইসিসি উইমেন’স টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে মোট ২৫টি ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি। তবে হারের সেই চেনা গল্পটাই এবার বদলে দিতে চান নিগার। এবারের বিশ্বকাপে দুটি ম্যাচ তো নিশ্চিতভাবেই জিততে চান, সুযোগ দেখছেন এমনকি তিনটি ম্যাচ জয়েরও।

স্কটল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজ এবং এর পরপরই ইংল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠেয় বিশ্বকাপ খেলতে সোমবার ঢাকা ছাড়বেন নিগার ও তাঁর সতীর্থরা। দেশ ছাড়ার আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে দলের লক্ষ্যের কথা শোনালেন নিগার। দলে এখন পারফর্মারের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় লক্ষ্য পূরণের আত্মবিশ্বাসও অধিনায়কের অনেক উঁচুতে:

“গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দুবাইয়ে আমরা একটি ম্যাচ জিতেছিলাম। আরও কিছু ম্যাচ বেশ ভালো খেলেও শেষ পর্যন্ত জিততে পারিনি। তবে এবার আমাদের জয়ের সংখ্যা বাড়িয়ে নেওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। কারণ, টি-টোয়েন্টি দলে এখন অনেক নতুন পারফরমার যোগ হয়েছে, যা আগে ছিল না। আগে আমাদের স্রেফ দু-একজন ক্রিকেটারের ওপর নির্ভর করতে হতো, এখন অনেকেই দায়িত্ব নিয়ে এগিয়ে আসছে। মেয়েদের ভেতর সেই ক্ষুধাটা তৈরি হয়েছে যে, বিশ্বকাপের মতো মঞ্চে আমরা শুধু ভালো খেলতেই নয়, ম্যাচ জিততেও চাই।” “সেদিক থেকে চিন্তা করলে এবার আমাদের মাথায় দুই থেকে তিনটি ম্যাচ জয়ের পরিকল্পনা আছে। কিছু ক্রিকেটার এখন ব্যক্তিগতভাবে বেশ ধারাবাহিক এবং টি-টোয়েন্টিতে দারুণ ক্রিকেট খেলছে। আমরা যদি সবাই মিলে একটা দল হিসেবে খেলতে পারি, তবে অতীতের যেকোনো বিশ্বকাপের চেয়ে এবার সেরা ফল পাব।”

সেই কাঙ্ক্ষিত দুই-তিনটি জয় কোন কোন দলের বিপক্ষে আসতে পারে, তা সুনির্দিষ্ট করেই জানালেন টাইগ্রেস অধিনায়ক:

“দুটি ম্যাচে আমাদের জয়ের সুযোগ সবচেয়ে বেশি; একটি নেদারল্যান্ডস এবং অন্যটি পাকিস্তান। এছাড়া ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষেও অতীতে আমাদের ম্যাচ জয়ের অভিজ্ঞতা রয়েছে। আমরা আসলে ম্যাচ বাই ম্যাচ ধরে এগোতে চাই। শুরুটা যদি ভালো করতে পারি এবং একটা উইনিং মোমেন্টাম তৈরি হয়, তবে সেটি আমাদের অনেক দূর নিয়ে যাবে। যে গ্রুপে আমরা আছি, আমাদের সম্ভাব্য সেরা সুযোগ আছে তিনটি ম্যাচ জয়ের।”

বিশ্বকাপের আগে এবার বেশ লম্বা সময় ধরে ক্যাম্প করেছে বাংলাদেশ দল। কিছুদিন আগেই লঙ্কানদের বিপক্ষে সিরিজ খেলেছে তারা। বিশ্বকাপের ঠিক আগে স্কটল্যান্ডে খেলবে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও। তাই এবার প্রস্তুতিতে কোনো ফাঁক দেখছেন না নিগার:

“আগে প্রতিবার আইসিসি টুর্নামেন্টের আগে আমরা আন্তর্জাতিক সিরিজ বা এমন আদর্শ কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেতাম না বললেই চলে। এটি নিয়ে আমাদের একটা আক্ষেপ থাকত। তবে এবার আর সেই অজুহাত নেই। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিনটি ম্যাচ খেলেছি, সামনে ত্রিদেশীয় সিরিজে আরও চারটি ম্যাচ খেলব। আমাদের জন্য এর চেয়ে বড় ও আদর্শ প্রস্তুতি আর হতে পারে না। এর বাইরে আইসিসির দুটি অফিশিয়াল অনুশীলন ম্যাচও আছে। সব মিলিয়ে বড় টুর্নামেন্টের আগে দলের কম্বিনেশন ঝালিয়ে নেওয়ার জন্য আমরা যথেষ্ট সময় পাচ্ছি।”

নিগারের মতে, বিশ্বকাপে ভালো করতে পারলে দেশের নারী ক্রিকেট নিয়ে গোটা বিশ্বে যেমন ইতিবাচক বার্তা ছড়াবে, তেমনি বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোয় বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের খেলার দুয়ার খুলে যাবে:

“এটি আমাদের জন্য মস্ত বড় এক সুযোগ। দল হিসেবে আমরা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে এক্সপোজার একটু কমই পাই। বিশ্বকাপের মতো মঞ্চ হলো সবচেয়ে বড় স্পটলাইট, যেখানে বিশ্বক্রিকেটের সবার নজর থাকে। এসব জায়গায় যখন কেউ ভালো পারফর্ম করে, তখন দল নিয়ে অনেক আলোচনা হয়। ক্রিকেটাররা ব্যক্তিগতভাবে আলো ছড়ালে তাদের সামনে বিভিন্ন ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগের সুযোগ আসে। দলের সবাই বর্তমানে দারুণ ইতিবাচক মানসিকতায় আছে। এই দল যদি বিশ্বকাপে ভালো ক্রিকেট খেলতে পারে, তবে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ অনেক বদলে যাবে।”

তবে দলকে ভালো করতে হলে অধিনায়কের নিজের জ্বলে ওঠা বড্ড জরুরি। নিগারের নিজের ব্যাট অবশ্য বেশ কিছুদিন ধরেই প্রত্যাশার সুরে তাল মেলাতে পারছে না। দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হওয়া সত্ত্বেও এই সংস্করণের মারকুটে দাবি তিনি মেটাতে পারছেন না। তবে বিশ্বকাপের আগেই নিজের চেনা রূপ ফিরে পেতে দারুণ আত্মবিশ্বাসী ২৮ বছর বয়সী এই কিপার-ব্যাটার:

“আমি যেখানে ব্যাটিং করি, সেটি দলের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ একটি জায়গা। গত দুই-তিন বছর ধরে… বা বলতে পারেন পুরো ক্যারিয়ারে যেভাবে ব্যাট করে আসছি, গত কিছুদিনের পারফরম্যান্স হয়তো তার সাথে মেলেনি। তবে নিজের ওপর আমার পূর্ণ বিশ্বাস আছে, টিম ম্যানেজমেন্টও আমার ওপর আস্থা রাখছে। গত কিছুদিন ধরে যেভাবে কঠোর অনুশীলন করছি, এখন স্রেফ একটা ভালো মোমেন্টামের অপেক্ষা। সামনে যে ত্রিদেশীয় সিরিজ আছে, চেষ্টা করব সেখানে নিজেকে আগের ফর্মে ফিরিয়ে আনতে। প্রতিবারই দেখা যায়, দু-একটা ছোট জায়গার ঘাটতির কারণে আমরা ম্যাচগুলো হেরে যাই। দলের জয়ের জন্য আমার পারফরম্যান্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ। আমি সামনে তাকিয়ে আছি যেন নিজের সেরা খেলাটা খেলতে পারি।”

এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ পর্দা উঠবে আগামী ১২ জুন। ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে নিজেদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করবে বাংলাদেশ। এরপর ১৭ জুন লিডসে শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে তারা। ২০ জুন ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে পাকিস্তানের বিপক্ষে লড়াইয়ের পর একই মাঠে ভারতের মুখোমুখি হবে শান্ত-নিগাররা। গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে ২৮ জুন লর্ডসের ঐতিহাসিক মাঠে দক্ষিণ আফ্রিকার মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

তার আগে এডিনবরায় ত্রিদেশীয় সিরিজে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ মাঠে গড়াবে আগামী শনিবার।

বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্কোয়াড

নিগার সুলতানা জ্যোতি (অধিনায়ক), নাহিদা আক্তার (সহ-অধিনায়ক), শারমিন আক্তার সুপ্তা, সোবহানা মোস্তারি, স্বর্ণা আক্তার, রিতু মনি, রাবেয়া খান, ফাহিমা খাতুন, ফারিহা ইসলাম তৃষ্ণা, মারুফা আক্তার, সানজিদা আক্তার মেঘলা, সুলতানা খাতুন, দিলারা আক্তার, জুয়ায়রিয়া ফেরদৌস ও তাজ নেহার।

সর্বশেষ সংবাদ

প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত

গত পাঁচ বছরে সাফল্য, ব্যর্থতা আর চোটের সাথে লড়াকু

লা লিগায় মরসুম সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরলেন

ফুটবল

প্রশান্ত মহাসাগরের কোল ঘেঁষে এবং মেক্সিকো ও যুক্তরাষ্ট্রের সীমান্ত ঘেঁষে

ফুটবল

গত পাঁচ বছরে সাফল্য, ব্যর্থতা আর চোটের সাথে লড়াকু দিনগুলোতে

ফুটবল

লা লিগায় মরসুম সেরা গোলরক্ষকের পুরস্কার নিজের ঝুলিতে পুরলেন তিনি।

ফুটবল

লিগ টেবিলে দলের অবস্থান যেমনই হোক না কেন, টটেনহ্যাম হটস্পারের