ভারতের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে হারের প্রতিশোধ নিয়ে আসর শেষ করল মাহবুবুর রহমান লিটুর দল।
ঘড়ির কাঁটায় তখন মাত্র ৩০ সেকেন্ড। কিক অফের পর ডান দিক থেকে আক্রমণ চালিয়ে মামনি চাকমা নিখুঁত ক্রস বাড়ালেন বক্সে। বুলেট গতির হেডে জাল খুঁজে নিলেন পুর্ণিমা মারমা। এ গোলের ফলে গড়া হলো সাফ অনুর্ধ্ব-১৭ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপের দ্রুততম গোলের রেকর্ড। তবে ভারতও পাল্টা জবাব দিল। সাত গোলের উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচ শেষে আগেই শিরোপা নিশ্চিত করা ভারতকে হারানোর আনন্দে ভাসল বাংলাদেশ।
রোববার ভুটানের চ্যাংলিমিথাং স্টেডিয়ামে রাউন্ড রবিন লিগের ফিরতি লেগে ভারতকে ৪-৩ গোলে পরাজিত করল বাংলাদেশ। এর আগে প্রথম লেগে তারা ২-০ গোলে হেরেছিল।
বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতা শুরু করে বাংলাদেশ ভুটানকে ৩-১ গোলে হারায় এবং ফিরতি লেগে তাদের সঙ্গে ১-১ ড্র করে। সেই দিনেই নেপালকে হারিয়ে শিরোপা নিশ্চিত করে ভারত।
এই আসরে একমাত্র নেপালকেই দুইবার পরাজিত করতে পেরেছে বাংলাদেশ, ২-০ ও ৪-১ গোলে। ছয় ম্যাচে চার জয় ও এক ড্রয়ের সঙ্গে ১৩ পয়েন্ট নিয়ে রানার্সআপ হলো বাংলাদেশ।
ভারতের বিপক্ষে এই ম্যাচটি বাংলাদেশের জন্য শেষ ভালো করার সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। পুর্ণিমার ত্বরিত গোল দলকে প্রত্যাশিত সূচনার সুযোগ দিল। আগের রেকর্ডটি ছিল ভারতের মেনাকা লৌরেমবামের; ২০২৩ সালে ভুটানকে ৯-০ গোলে হারানোর ম্যাচে তিনি তৃতীয় মিনিটে গোল করেছিলেন।
সপ্তম মিনিটে ভারতের আনুশকা কুমারির শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। দুই মিনিট পর বাংলাদেশ অধিনায়ক অর্পিতা বিশ্বাস বল হারালে সুযোগ কাজে লাগায় আনুশকা, গোলকিপারকে কাটিয়ে সমতা আনে।
২৪তম মিনিটে আনুশার দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসে। ১০ মিনিট পর সৌরভী আকন্দের শট ডিফেন্ডার ফিরিয়ে দিলে আলপি আক্তার ফিরতি শটে জাল খুঁজে নেন।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বাংলাদেশ ব্যবধান বাড়ায়। সতীর্থের লং পাস পেয়ে বক্সে ঢুকে ঠাণ্ডা মাথায় বল জালে পাঠান প্রীতি। ৬৪তম মিনিটে প্রীতিকা বর্মণ চিপ শটে গোল করে ম্যাচ উত্তেজনাপূর্ণ করে তোলে।
৭৬তম মিনিটে প্রীতির সামনে বড় সুযোগ আসে, তবে গোলকিপার প্রতিরোধ ভেঙে তিনি শট নিতে পারলেন না। পরে আরেকটি প্রচেষ্টা দূরের পোস্টের কাছে যায়।
নির্ধারিত সময়ের দুই মিনিট বাকি থাকতে নঙ্গমাইথেম বক্সের বাইরে থেকে উচুঁ শটে সমতা আনে, কিন্তু মেঘলা রানী রায় লাফিয়ে বল ধরে ফেলতে পারেননি।
দ্বিতীয়ার্ধের যোগ করা সময়ে প্রীতির কোনাকুনি শট গোলকিপারের ফিস্টে লাগার পর ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে জালে যায়। এরপর বাজে শেষের বাঁশি। জয়ের আনন্দে মাতোয়ারা হয়ে ওঠে বাংলাদেশের মেয়েরা।