এতদিন তিনি মূলত পরিচিত ছিলেন কিংবদন্তি বাবার নামেই। এখন ধীরে ধীরে নিজের আলোয় উজ্জ্বল হয়ে উঠছেন জিনেদিন জিদানের ছেলে লুকা জিদান।
বিখ্যাত বাবার সন্তান হিসেবে পরিচিতি পাওয়া লুকা, বর্তমানে আলজেরিয়ার হয়ে খেলছেন এবং ফুটবলবিশ্বে এটি বড় খবর হিসেবে দেখা যাচ্ছে। আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে নজর কেড়েছেন গোলকিপার লুকা।
আফ্রিকার শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে গ্রুপ পর্বের দুই ম্যাচেই জয় পেয়েছে আলজেরিয়া। এখনও পর্যন্ত তারা কোনো গোল হজম করেনি। এই সাফল্যের পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা পালন করেছেন লুকা। প্রথম ম্যাচে সুদানকে ৩-০ গোলে হারানো থেকে শুরু করে পরের ম্যাচে বুর্কিনা ফাসোকে ১-০ গোলে জেতানো পর্যন্ত লুকার সেভগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
গত দুই আসরের আফ্রিকা কাপ অব নেশনসে আলজেরিয়া একটিমাত্র ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখতে পেরেছিল এবং গ্রুপ পর্ব থেকে বাদ পড়েছিল। এবার দুই ম্যাচেই তারা নিশ্চিত করেছে শেষ ষোলোর পথে যাত্রা। কোচ ভ্লাদিমির পেতকোভিচ বলেছেন, “দুটি জয়েই উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে লুকা। অল্প সময়ের মধ্যেই অভিজ্ঞতায় সমৃদ্ধ হয়েছে এবং দ্রুত দলের সঙ্গে মিশে গেছে।”
লুকার মূল কৃতিত্বই হলো দলের সঙ্গে দ্রুত একাত্ম হওয়া। মাত্র ছয় বছর বয়সে রেয়াল মাদ্রিদের একাডেমিতে যোগ দেওয়া লুকা, বাবার মতো মিডফিল্ডার না হয়ে গোলকিপারের দায়িত্ব নিয়েছেন। তিনি রেয়ালের যুবদল ও ‘বি’ দল হয়ে মূল স্কোয়াডে জায়গা করে নেন। ২০১৭ থেকে ২০২০ পর্যন্ত মূল স্কোয়াডের সদস্য ছিলেন, যদিও খেলাধুলার সুযোগ সীমিত ছিল।
২০২০ সালে রেয়াল মাদ্রিদ ছেড়ে তিনি রায়ো ভাইয়েকানোতে যোগ দেন। পরে দুই মৌসুম খেলার পর গত বছর গ্রানাদা ক্লাবে তিন বছরের চুক্তিতে সই করেন। বয়সভিত্তিক ফ্রান্স দলে খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৬ থেকে অনূর্ধ্ব-২০ পর্যন্ত। বর্তমানে আলজেরিয়ার হয়ে আফ্রিকার সেরা হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
লুকার জাতীয় দল নির্বাচনের পেছনে তার দাদার উৎসাহ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বাবাও পাশে আছেন এবং মরক্কো থেকে ছেলের খেলা দেখেছেন। জিনেদিন জিদান ফ্রান্সের হয়ে তিনটি বিশ্বকাপ খেলেছেন, ১৯৯৮ সালে জয়ী ও ২০০৬ সালে রানার্স আপ হয়েছেন। সব ঠিক থাকলে লুকাও আগামী বিশ্বকাপে আলজেরিয়ার হয়ে খেলবেন।
জিনেদিন জিদানের চার ছেলের মধ্যে লুকা দ্বিতীয়। মা ভেরোনিক ফের্নান্দেস স্প্যানিশ। বড় ভাই এন্সো, ছোট দুই ভাই তেও ও এলিয়াজও ফুটবলার, তবে কেউ বড় পর্যায়ে পৌঁছায়নি।