পুরোনো ক্লাবের মাঠে ফিরে বার্সেলোনার গোলকিপার জোয়ান গার্সিয়া যে প্রবল বিরূপ আচরণের মুখোমুখি হয়েছেন, তাও তাকে থামাতে পারেনি। বরং দুর্দান্ত পারফরম্যান্সে তিনিই হয়ে উঠলেন ম্যাচের নায়ক।
গরমের আবহেই গ্যালারি থেকে ভেসে আসছিল দুয়োর সুর। দীর্ঘ সময় চলল সেই অপমান। দর্শকদের হাতে ছিল ইঁদুরের ছবি, ব্যাংক নোটের বড় ছবি, অপমানজনক ও আক্রমণাত্মক লেখা ব্যানার—সবই একমাত্র একজনকে লক্ষ্য করে। এস্পানিওলের সমর্থকদের কাছে তিনি এখন বিশ্বাসঘাতক ও খলনায়ক। তবে বার্সেলোনার জন্য তিনি ভরসার নাম। ম্যাচে তা ফুটে উঠল স্পষ্টভাবে। প্রতিকূল আবহকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে জ্বলে উঠলেন গার্সিয়া।
স্কোরশিটে অবশ্য নাম উঠেছে দানি ওলমো ও রবার্ত লেভানদোভস্কির। কিন্তু এস্পানিওলের মাঠে বার্সেলোনার ২-০ গোলের জয় নিশ্চিত করেছেন মূলত গার্সিয়া। গোলপোস্টে ছিলেন যেন অটল দেয়াল।
এই মাঠটি তার খুব পরিচিত। পুরোনো ঠিকানা হলেও, অনেক বছর এটিই ছিল তার নিজের। ১৫ বছর বয়সে এস্পানিওলের একাডেমিতে নাম লেখান গার্সিয়া। যুব দল, ‘বি’ দল হয়ে মূল দলে আসেন এবং হয়ে উঠেন ক্লাবের আস্থার প্রতীক। সমর্থকদের কাছেও ছিলেন সমাদৃত।
গত জুনে ৯ বছরের সম্পর্ক শেষ করে বার্সেলোনায় যোগ দেন গার্সিয়া। নতুন ক্লাবে নাম লেখানোর পর প্রথমবার পুরোনো ঠিকানায় ফিরলেন। এ কারণেই এস্পানিওলের সমর্থকরা তাকে ‘অভ্যর্থনা’ জানাতে প্রস্তুত হয়েছিল।
কিন্তু এসব তাকে কোনোভাবে বিচলিত করতে পারেনি। বরং আরও উজ্জীবিত হয়ে ম্যাচ জেতানো পারফরম্যান্স দেখান। থামিয়ে দেন এস্পানিওল সমর্থকদের দুয়ো এবং অপমানের সব স্লোগান।
বার্সেলোনার দুই গোল আসে নির্ধারিত সময়ের শেষ পাঁচ মিনিটে। তবে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত দলকে ম্যাচে রাখেন গার্সিয়া। পুরো ম্যাচে এস্পানিওল ১৩টি শট নিলেও ৮টি লক্ষ্যে যায়, কিন্তু একটিও গলে রূপ নেয়নি—গার্সিয়ার অসাধারণ প্রতিরোধের কারণে। ম্যাচ-সেরার পুরস্কারও পান তিনিই।
কোচ হান্সি ফ্লিকও প্রথমে জয়ের নায়কের নামই তুললেন।
“প্রথম যে কাজটি করতে হবে, তা হলো জোয়ান গার্সিয়াকে ধন্যবাদ দেওয়া। বিশ্বের সেরা গোলকিপারদের একজন সে। আমরা মাঠে ভুগেছি, তবে তিনটি পয়েন্ট পেয়েছি এবং লা লিগাকে বার্তাই দিচ্ছি।”
এস্পানিওল সমর্থকদের বিরূপ আচরণের বিষয়ে গার্সিয়ার সঙ্গে আলাদা কথা বলেছেন কোচ। তিনি জানান, গার্সিয়া নিজে থেকে শক্ত মানসিক অবস্থায় ছিলেন।
“অবশ্যই কথা বলেছি তার সঙ্গে। তবে তাকে ধীরস্থির দেখেছি, বরাবরের মতো মনোযোগী ও আত্মবিশ্বাসী। বিশ্বের সব দুর্দান্ত দলেরই গোলকিপার থাকে সেরাদের মধ্যে, সে তাদেরই একজন।”
“দুর্দান্ত মানসিকতা দেখিয়েছে। আমি মনে করি, সে ভুলবে না এখানে যা করেছে। এস্পানিওলের হয়ে এত বছর খেলেছে, তারা সুযোগ দিয়েছে তাকে। এখন সে আমাদের হয়ে খেলছে এবং তার কারণে আমরা জিতেছি।”
এই জয়ের পর ১৯ ম্যাচে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে বার্সেলোনা। এক ম্যাচ কম খেলে দুইয়ে রয়েছে রেয়াল মাদ্রিদ, তাদের থেকে সাত পয়েন্ট কম।