বিভিন্ন বয়সের ফুটবলারদের জন্য একটি শক্তিশালী পাইপলাইন গড়ে তোলার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বাফুফের ডেভেলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান মো. নাসের শাহরিয়ার জাহেদী।
এ বছর চারটি বয়সভিত্তিক আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে বাংলাদেশ। এসব টুর্নামেন্টে ভালো ফল করতে কী ধরনের প্রস্তুতি দরকার, তা নিয়ে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) ডেভেলপমেন্ট কমিটি বিস্তারিত আলোচনা করেছে। বৈঠক শেষে জাহেদী জানান, বয়সভিত্তিক দলগুলোর প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে।
রোববার অনুষ্ঠিত কমিটির ষষ্ঠ সভায় জাতীয় দলে খেলোয়াড় সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য একটি কার্যকর পাইপলাইন তৈরির বিষয়টি বিশেষ গুরুত্ব পায়। বিভিন্ন বয়সের ফুটবলারদের ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য আলাদা পাইপলাইন গড়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি।
জাহেদী বলেন, “২০২৬ সালে আমরা চারটি আন্তর্জাতিক বয়সভিত্তিক ইভেন্টে অংশ নেব। ২৩ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল মালদ্বীপে হবে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। এরপর ২৯ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাই। এছাড়া অনূর্ধ্ব-১৭ পর্যায়েও দুটি ইভেন্ট রয়েছে—সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ এবং নভেম্বরে অনূর্ধ্ব-১৭ এশিয়ান কাপ বাছাই। এই চারটি ইভেন্টকে সামনে রেখেই আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
তিনি আরও বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে সিদ্ধান্তটি আমরা নিয়েছি, তা হলো বয়সভিত্তিক একটি পাইপলাইন তৈরি করা। অনূর্ধ্ব-১৫, অনূর্ধ্ব-১৭, অনূর্ধ্ব-১৯ ও অনূর্ধ্ব-২০—এই ধাপগুলোতে খেলোয়াড়দের নিয়মিত প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। লক্ষ্য একটাই, আগামী তিন-চার বছরের মধ্যে যেন আমরা একটি শক্তিশালী জাতীয় দল গড়ে তুলতে পারি। জাতীয় দলের উন্নতির জন্য টেকসই পাইপলাইন তৈরি করাই ডেভেলপমেন্ট কমিটির মূল দায়িত্ব। সে অনুযায়ী আমরা একটি স্পষ্ট রোডম্যাপ তৈরির কাজ শুরু করেছি।”
সারা দেশে ছড়িয়ে থাকা তিনশোর বেশি ফুটবল একাডেমিকে নিয়ে ‘একাডেমি কাপ’ আয়োজনের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে জানান বাফুফের সহ-সভাপতির দায়িত্বে থাকা জাহেদী। এই টুর্নামেন্টে ছেলে ও মেয়ে—উভয়ই অংশ নিতে পারবে। পাশাপাশি তৃণমূল ফুটবলের উন্নয়নে প্রতি মাসে একটি করে ইভেন্ট আয়োজন এবং স্কুল ফুটবল নিয়ে কাজ করার বিষয়েও কথা হয়েছে।
জাহেদী বলেন, “২০২৬ সালে স্কুল ফুটবলকে আমরা বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাই। এ বিষয়ে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়ালের সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। আগামী এক্সিকিউটিভ কমিটির সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, যাতে স্কুলগুলোকে আমাদের ফুটবল উন্নয়ন কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত করা যায়। এ কাজে মন্ত্রণালয় ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকেও সহযোগিতার আশ্বাস পেয়েছি।”