নেপালকে হারিয়ে বেঞ্চের শক্তি যাচাই করে খুশি বাংলাদেশ কোচ
নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে বেঞ্চের শক্তি যাচাই করতে পেরে খুশি ছিলেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের কোচ পিটার জেমস বাটলার।
রাউন্ড রবিন লিগে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়ে বাংলাদেশ শেষ করেছে সব ম্যাচ জয়ের তৃপ্তি নিয়ে। এবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে ভারতকে, যাদেরকে ইতোমধ্যে একবার হারিয়েছে মেয়েরা। সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ট্রফি জেতার জন্য আবার ভারতকে হারাতে হবে, এখন সেই ছক কষছেন বাটলার।
পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে বুধবার আলপি আক্তারের হ্যাটট্রিকে নিয়ে নেপালকে ৪-০ গোলে হারিয়েছে বাংলাদেশ। তিন জয়ে ৯ পয়েন্ট নিয়ে রাউন্ড রবিন লিগের শীর্ষে থাকে বাংলাদেশ। ৬ পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে ভারত। এই দুই দল আগামী শনিবার নামবে শিরোপা লড়াইয়ে।
নেপালের বিপক্ষে বেঞ্চের শক্তি পরীক্ষা করতে সেরা একাদশে সাতটি পরিবর্তন আনেন বাটলার। তৃতীয় মিনিটে প্রতিমা মুন্দার গোলে এগিয়ে যায় দল। পরে খেলায় গতি ও আক্রমণের ধার কমে যাওয়ায় আলপি আক্তার, শান্তি মার্দি, সুরভি আকন্দ প্রীতিদের নামান কোচ।
আলপির হ্যাটট্রিকে মিলিয়ে প্রত্যাশিত জয় হয়। রাউন্ড রবিন লিগে দলের পারফরম্যান্সে খুশি বাটলার:
“নেপালের বিপক্ষে যখনই খেলি, আমাদের লড়াই করতে হয়। তারা যোদ্ধা এবং সমান প্রচেষ্টা ও কমিটমেন্ট নিয়ে লড়তে হয়। আমার মনে হয়, মেয়েরা সেটা খুব ভালোভাবে করেছে, বিশেষ করে শুরুর ১৫-২০ মিনিট। এরপর আমাদের গতি কিছুটা কমেছিল।
“সাতটি পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম কয়েকজনকে বিশ্রাম দেওয়ার জন্য। আমার মনে হয়, আপনি ততটাই শক্তিশালী দল, যতটা আপনার বেঞ্চ শক্তিশালী। মৌমিতা অসাধারণ ছিল, সুরভি রানীও ভালো করেছে। আজকের ম্যাচ থেকে অনেক ইতিবাচক দিক ও শিক্ষণীয় বিষয় শিখেছি আমরা।”
দুদিন পর ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ; যাদেরকে রাউন্ড রবিন লিগে ২-০ গোলে হারিয়েছিল অর্পিতা ও আলপি। সেই জয়ের পুনরাবৃত্তিই লক্ষ্য বাটলারের।
“আমরা তাদের একবার হারিয়েছি, এবারও হারাতে হবে। আমরা সবসময় যেভাবে খেলি, সেভাবেই খেলব। যদি তারা ফাইনালের আগে আমাদের অনুশীলনের সুযোগ দেয়, আমরা এখানে অনুশীলন করব। আশা করি, তারা সেটা দিবে।”
“কিন্তু সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে, এখানে যা পাচ্ছি তা মূল্যবান—বাকি সবকিছু বোনাস। মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে। আমি সত্যিই তাদের নিবেদন ও মনোযোগে সন্তুষ্ট এবং আশা করি, আমরা কাজটি শেষ করতে পারব। ভারতের বিপক্ষে খেলা কঠিন হবে, কারণ তাদের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে। তারা শক্তিশালী, লম্বা এবং শারীরিকভাবে শক্তিশালী, তাই কঠিন ম্যাচ হবে।”
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এর আগে দুইবার ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছে বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২১ সালে ১-০ গোলে জিতে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করা হয়েছিল।