লিগ শেষ। এখন সামনে নতুন চ্যালেঞ্জ। আগামী মার্চে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া উইমেন’স এশিয়ান কাপকে সামনে রেখে পুরো মনোযোগ প্রস্তুতিতে দেওয়ার তাগিদ দিলেন আফঈদা খন্দকার।
এবারের উইমেন’স ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টার্স ছিল একেবারেই অপ্রতিরোধ্য। ১০ ম্যাচের সবকটিতে জয়, প্রতিপক্ষের জালে ৯০ গোলের ঝড়, আর পুরো আসরজুড়ে ‘ক্লিনশিট’—সব মিলিয়ে ছিল তাদের দাপুটে পথচলা। প্রথমবার লিগে খেলেই অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর শিউলি, ঋতুপর্ণা ও আফঈদারা জানালেন, গতবারের তুলনায় এবারের লিগ ছিল অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ।
গত মৌসুমেও শিরোপা দৌড়ে ছিল তিন দল। তিন পয়েন্টে এআরবি কলেজকে পিছনে ফেলে চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়া নাসরিন একাডেমি। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী শেষ করেছিল ১৮ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে।
এবারও সেনাবাহিনী শেষ রাউন্ড পর্যন্ত শিরোপার সম্ভাবনা ধরে রেখেছিল। তবে শুক্রবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে তারা ৩-০ গোলে হেরে যায় রাজশাহী স্টার্সের কাছে। তাদের চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারিত হবে ফরাশগঞ্জের ম্যাচের ফলের ওপর।
এই ম্যাচে সেনাবাহিনী জিতলে শিরোপা লড়াই গড়াতে পারত প্লে-অফে। কিন্তু ঋতুপর্ণা ও আলপিরা সে সুযোগ দেননি। দ্বিতীয়ার্ধে তিন গোল করে নিশ্চিত করেন স্বস্তির জয়। যদিও ড্র করলেও শিরোপা নিশ্চিত ছিল রাজশাহীর। তবু কোচ মাহমুদা শরীফা অদিতি জানালেন, ড্র তাদের ভাবনায়ই ছিল না।
“আমাদের পরিকল্পনা ছিল ম্যাচ বাই ম্যাচ তিন পয়েন্ট নেওয়া। এই ম্যাচেও ড্রয়ের কথা মাথায় আনিনি। আমরা জয়ের জন্যই মাঠে নেমেছিলাম। ড্র করার কোনো মানসিকতা ছিল না।”
অধিনায়ক শিউলি আজিমও জানালেন, সেনাবাহিনীর শক্তি সম্পর্কে সচেতন হয়েই খেলতে নেমেছিলেন তারা।
“ফরাশগঞ্জ আর সেনাবাহিনী—এই দুই দলকে আমার কাছে সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষ মনে হয়েছে। ফুটবল তো অনিশ্চিত খেলা। যে দলই হোক, রুখে দেওয়া সম্ভব। আমরা জানতাম সেনাবাহিনী ভারসাম্যপূর্ণ ও ভালো দল। সেই ভাবনা নিয়েই মাঠে নেমেছি।”
তিনি আরও বলেন, “এবারের লিগটা সত্যিই বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ছিল। জাতীয় দলের খেলোয়াড়রা চার-পাঁচটি দলে ছড়িয়ে যাওয়ায় প্রতিটি ম্যাচেই লড়াই হয়েছে। আগের মতো একপাক্ষিক খেলা হয়নি।”
ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমাও একই সুরে বললেন, অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া মোটেও সহজ ছিল না।
“এই লিগটা আগের চেয়ে অনেক কঠিন ছিল। আমাদের এবং ক্লাবের লক্ষ্য ছিল শিরোপা জেতা, সেটা পূরণ করতে পেরে আমরা আনন্দিত।”
তবে উদযাপনের সময় খুব বেশি নেই। মার্চের উইমেন’স এশিয়ান কাপ সামনে রেখে প্রস্তুতিতে নামতে হবে দ্রুতই। পিটার জেমন বাটলারের অধীনে সেই প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। জাতীয় দলের অধিনায়ক এবং রাজশাহী স্টার্সের ডিফেন্ডার আফঈদা খন্দকার মনে করেন, লিগের ম্যাচগুলো তাদের আন্তর্জাতিক মঞ্চে কাজে দেবে।
“লিগ হওয়ায় আমাদের অনেক সুবিধা হয়েছে। আমরা ম্যাচের মধ্যে থাকতে পেরেছি, গেম টাইম পেয়েছি। এখানকার ভুলগুলো শুধরে নিয়ে এশিয়া কাপের জন্য আরও ভালোভাবে প্রস্তুত হতে পারব।”
তিনি যোগ করেন, “চীন, কোরিয়া—ওরা এশিয়ার সেরা দলগুলোর মধ্যে। ওদের বিপক্ষে খেলতে পারলে অনেক অভিজ্ঞতা হবে। ওদের পর্যায়ে যেতে হলে কতটা কঠোর পরিশ্রম দরকার, সেটা বোঝা যাবে। আমরা অবশ্যই চেষ্টা করব ওদের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করতে। আর উপরওয়ালার ওপর তো ভরসা আছেই।”