ফুটবলার থেকে রাজনীতিক, এবার আমিনুল হকের কাঁধে আরও বড় দায়িত্ব। নতুন সরকারের ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে এক দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে তুলে ধরলেন দেশের খেলাধুলার ভবিষ্যৎ রূপরেখা। নারী ফুটবলের অভাবনীয় সাফল্য, ছেলেদের সাফে ব্যর্থতা, হামজা-শোমিতের মতো প্রবাসীদের আগমন এবং তৃণমূলের খেলাধুলা—সব বিষয় নিয়েই খোলাখুলি কথা বললেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক এই অধিনায়ক।
অবকাঠামো নয়, খেলোয়াড়ই মূল ফোকাস
খেলোয়াড়দের অতীত বঞ্চনার কথা স্মরণ করে আমিনুল স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, সবকিছুর মূলে থাকবেন খেলোয়াড়রা। তিনি বলেন, “আমি অবকাঠামোর চেয়ে খেলোয়াড়দের দিকে বেশি মনোযোগ দিতে চাই। কারণ খেলোয়াড়রা ভালো থাকলে পরিবেশ ভালো থাকবে, ক্রীড়াঙ্গন ভালো থাকবে।”
ক্রীড়া শিক্ষক ও মাসিক বেতনের পরিকল্পনা
শপথ নেওয়ার পরপরই ক্রীড়াঙ্গনের উন্নতির পরিকল্পনা শুরু করে দিয়েছেন আমিনুল। প্রাথমিক থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, এমনকি মাদ্রাসাগুলোতেও ‘ক্রীড়া শিক্ষক’ নিয়োগ দেওয়ার কথা ভাবছেন তিনি, যেখানে সাবেক খেলোয়াড়দের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। এছাড়া, নিয়মিত খেলাধুলার আয়োজনের পাশাপাশি খেলোয়াড়দের সরকারিভাবে ‘মাসিক বেতন’ এর আওতায় আনার পরিকল্পনাও তার রয়েছে।
অন্য ফেডারেশনেও কর্পোরেট পৃষ্ঠপোষকতা
ফুটবল ও ক্রিকেট আর্থিকভাবে সচ্ছল হলেও অন্য খেলাগুলো দৈন্যদশায় ভোগে। এই চিত্র বদলাতে চান নতুন প্রতিমন্ত্রী। তিনি কর্পোরেট হাউসগুলোর সাথে বসে প্রতিটি ফেডারেশনকে পৃষ্ঠপোষকতার আওতায় এনে একটি বার্ষিক ক্রীড়াপঞ্জি তৈরি করার কথা জানান।
ফুটবলে পুরোনো গৌরব ফেরানোর লক্ষ্য
নারী ফুটবলাররা ২০২২ ও ২০২৪ সালে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করলেও, ২০০৩ সালের পর ছেলেরা বড় কোনো সাফল্য পায়নি। আমিনুলের বড় চাওয়া, আসছে সাফে যেন ছেলেদের খরা কাটে। হামজা চৌধুরীদের মতো প্রবাসী খেলোয়াড়দের সুযোগ কাজে লাগিয়ে ফুটবলে নতুন প্রাণ ফেরাতে বাফুফেকে পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
ক্রীড়াঙ্গনে পারিবারিক পরিবেশ
সর্বোপরি, ক্রীড়াবিদ, সংগঠক এবং সাংবাদিকদের মধ্যে একটি ‘পারিবারিক সম্পর্ক’ গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছেন আমিনুল। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন, ক্রীড়াঙ্গনে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ আর কাউকে দেওয়া হবে না।