আর্লিং হলান্ড— নামটা শুনলেই প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগে কাঁপুনি ধরে। ক্যারিয়ারের শুরু থেকে আজ পর্যন্ত তার দ্যুতি কেবল বেড়েই চলেছে। ক্লাব ফুটবলে নিজেকে সেরাদের কাতারে নিয়ে যাওয়ার পর, এবার তার লক্ষ্য আন্তর্জাতিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর। দীর্ঘ ২৮ বছর পর নরওয়েকে বিশ্বকাপে ফিরিয়ে আনার প্রধান নায়ক তিনিই।
কেন হলান্ড অপ্রতিদ্বন্দ্বী?
হলান্ডের গোল করার ক্ষমতা অনেকটা প্রাকৃতিক বিস্ময়ের মতো। ২০১৬ সালে যখন বিশ্ব ফুটবলে তার আবির্ভাব, অনেকটা ঝড়ের মতোই সব লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছেন তিনি। তার ক্যারিয়ারের কিছু ঝলক:
- অনূর্ধ্ব-২০ বিশ্বকাপ: এক ম্যাচেই হন্ডুরাসের বিপক্ষে একাই করেছিলেন ৯ গোল!
- ডর্টমুন্ড ও সিটি অধ্যায়: বরুশিয়া ডর্টমুন্ডের হয়ে ৮৯ ম্যাচে ৮৬ গোল করার পর ম্যানচেস্টার সিটিতে এসে গড়েছেন রেকর্ডের পাহাড়। সিটির ট্রেবল জয় এবং টানা দুইবার প্রিমিয়ার লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়া তার সামর্থ্যের প্রমাণ দেয়।
- জাতীয় দল: বিশ্বকাপ বাছাইয়ের মাত্র ৮ ম্যাচে তিনি করেছেন ১৬ গোল! অর্থাৎ প্রতি ম্যাচেই গড় গোল দুটি।
কিংবদন্তিদের চোখে হলান্ড
ম্যানসিটি কোচ পেপ গুয়ার্দিওলা তাকে মেসি-রোনালদোর কাতারেই দেখছেন। আবার গ্যারি নেভিলের মতে, হলান্ড যেন মাঠে “চারজন খেলোয়াড়ের সমষ্টি”। তার অবিশ্বাস্য গতি আর শক্তির কারণে তাকে ফুটবলের ‘দানব’ হিসেবে আখ্যা দেওয়া হয়।
পরিসংখ্যানের পাতায় হলান্ড
হলান্ড মানেই রেকর্ড ভাঙা-গড়ার খেলা। মাত্র ৪৬ ম্যাচে আন্তর্জাতিক ফুটবলে ৫০ গোলের মাইলফলক ছুঁয়েছেন তিনি, যা পেলের চেয়েও দ্রুততম। ২০২৫ সালে তিনি আন্তর্জাতিক ফুটবলে করেছেন সর্বোচ্চ ১৭টি গোল, যা তাকে ইতিহাসের সেরা গোলশিকারিদের তালিকায় তুলে এনেছে।
২০২৬ বিশ্বকাপ: নরওয়ের নতুন সূর্যোদয়
১৯৯৮ সালের পর নরওয়ে আর বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে উঠতে পারেনি। এবার সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে তারা বড় স্বপ্ন দেখছে। তবে নরওয়ে কেবল হলান্ড-নির্ভর দল নয়; আর্সেনাল অধিনায়ক মার্টিন ওদেগোর এবং আতলেতিকো মাদ্রিদের আলেকসান্দার সরলথদের নিয়ে গড়া এই দলটি বাছাইপর্বে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকেও গুঁড়িয়ে দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মাঠে এবার হলান্ডের সামনে চ্যালেঞ্জ ‘আই’ (Group I) গ্রুপে ফ্রান্স ও সেনেগালের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষকে সামলানো। নিজের প্রথম বিশ্বকাপকে স্মরণীয় করে রাখতে এই দীর্ঘদেহী স্ট্রাইকার যে মুখিয়ে আছেন, তা তার সাম্প্রতিক ফর্মই বলে দিচ্ছে।