সিঙ্গাপুরের গ্যালারিতে প্রবাসী সমর্থকদের গগনবিদারী চিৎকার আর হামজা-শোমিতদের লড়াকু ফুটবল—সবই ছিল। শুধু ছিল না কাঙ্ক্ষিত সেই গোল। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ার পর একের পর এক আক্রমণ করেও জালের দেখা পেল না বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত হারের বিষাদ নিয়েই এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের মিশন শেষ করল হাভিয়ের কাবরেরার দল।
মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের জাতীয় স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদের কাছে ১-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। এই জয়ে ‘সি’ গ্রুপের শীর্ষস্থান মজবুত করল সিঙ্গাপুর। অন্যদিকে এক জয় আর দুই ড্র নিয়ে টেবিলের তিনে থেকে মাঠ ছাড়ল লাল-সবুজরা।
খেলার ধারার বিপরীতে গোল হজম
ম্যাচের শুরু থেকেই উজ্জীবিত ফুটবল খেলছিল বাংলাদেশ। ১৫ মিনিটে সাদউদ্দিনের ক্রসে শোমিত সোমের হেড অল্পের জন্য লক্ষ্যভ্রষ্ট হয়। কিন্তু খেলার ধারার বিপরীতে ৩১ মিনিটে গোল হজম করে বসে কাবরেরার শিষ্যরা। গ্লেইন কিউইর শট গোলকিপার মিতুল মারমা ঠেকিয়ে দিলেও পুরোপুরি বিপদমুক্ত করতে পারেননি। ফিরতি বলে ইখসান ফান্দির পা হয়ে বল পান হ্যারিস স্টুয়ার্ট। নিখুঁত শটে তিনি বল জালে জড়ান।
৩৯ মিনিটে সমতায় ফেরার সুবর্ণ সুযোগ পেয়েছিল বাংলাদেশ। মোরসালিনের শট ব্লক হওয়ার পর বল পেয়েছিলেন ফাহিম। কিন্তু শট নেওয়ার আগেই প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের বাধায় পড়ে যান তিনি। পেনাল্টির জোরালো আবেদন করলেও রেফারির সাড়া মেলেনি।
দ্বিতীয়ার্ধে শুধুই আক্ষেপ
বিরতির পর গোল শোধে মরিয়া হয়ে লড়ে বাংলাদেশ। ম্যাচের শেষ দিকে যেন আক্রমণের ঢেউ আছড়ে পড়ছিল সিঙ্গাপুরের বক্সে। ৭৯ মিনিটে সবচেয়ে বড় সুযোগটি হারান মিরাজুল। হামজার ক্রস থেকে তার নেওয়া দারুণ শটটি গোলপোস্টে লেগে ফিরে এলে গ্যালারিজুড়ে হাহাকার ছড়িয়ে পড়ে।
যোগ করা সময়েও সুযোগ এসেছিল। ইমনের পাস থেকে মিরাজুল পা ছোঁয়ালেও গোলকিপারকে পরাস্ত করতে পারেননি। রহমতের ক্রসে হামজার হেডও প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডার দারুণ ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন। বারবার সুযোগ তৈরি করেও ফিনিশিংয়ের অভাবে শেষ হাসি আর হাসা হলো না বাংলাদেশের।
সব মিলিয়ে লড়াই করেও হারের তেতো স্বাদ নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে জামাল ভূঁইয়াদের। আর পুরো ম্যাচেই ডাগআউটে বসে দলের পরাজয় দেখতে হয়েছে অধিনায়ক জামালকে।