২৪ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান! নেচে-গেয়ে, রাজপথে পতাকা উড়িয়ে বিশ্বকাপে ফেরার আনন্দ উদযাপন করছে তুরস্ক। প্লে-অফ ফাইনালে কসোভোকে ১-০ গোলে হারিয়ে ২০০২ সালের পর প্রথমবারের মতো বিশ্বমঞ্চে জায়গা করে নিল তারা। আর এই ফেরার মাহেন্দ্রক্ষণকে ঘিরে তুর্কিদের স্বপ্নের পরিধি এবার আকাশছোঁয়া।
মঙ্গলবার রাতের সেই জয়ের পর পুরো তুরস্ক যেন উৎসবে মাতাল। ইস্তাম্বুল থেকে শুরু করে দেশের প্রতিটি বড় শহরের রাস্তায় মানুষের ঢল নামে। কেউ গাড়িতে পতাকা উড়িয়ে, কেউবা গান গেয়ে জানান দিচ্ছিলেন—ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসরে ফিরছে তাদের দেশ।
ইতিহাসের মাত্র তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে তুরস্ক। তাদের সবচেয়ে বড় সাফল্য ২০০২ সালের সেই রূপকথার মতো সেমিফাইনাল। এবারও তেমন কিছুর স্বপ্ন দেখছেন অধিনায়ক হাকান চালহানোলু। ইস্তাম্বুলে ফিরে তিনি বলেন:
“আমরা সেরা উপায়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করব। জাতিকে এই গর্বের মুহূর্ত উপহার দিতে পেরে আমরা ধন্য। আমাদের প্রথম লক্ষ্য গ্রুপ পর্ব পার হওয়া, এরপর ধাপে ধাপে এগোবো আমরা।”
রিয়াল মাদ্রিদের তরুণ তারকা আর্দা গিলেরের জন্ম ২০০৫ সালে। ২০০২ বিশ্বকাপের হাইলাইটস দেখেই বড় হয়েছেন তিনি। এবার নিজে সেই মঞ্চে নামার সুযোগ পেয়ে বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছেন এই মিডফিল্ডার। তিনি বলেন, ২০০২ সালের সেই ভিডিওগুলো এখনও গায়ে কাঁটা দেয়, এবার নিজেদের সেরাটা দেওয়ার পালা।
কিংবদন্তি স্ট্রাইকার হাকান সুকুর, যিনি বিশ্বকাপের ইতিহাসে দ্রুততম গোলের (১০.৮ সেকেন্ড) রেকর্ডধারী, তিনিও বর্তমান দলের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। তার মতে, এবার প্রথাগত স্ট্রাইকার ছাড়াও চালহানোলু আর গিলেররা প্রতিপক্ষকে কাঁপিয়ে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। গ্রুপ পর্বে ইউরোপের অন্য কোনো দল না থাকায় যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া ও প্যারাগুয়ের ভিন্ন ভিন্ন চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে তুরস্ককে।
তবে সবচেয়ে বড় স্বপ্নটা দেখছেন তুরস্ক ফুটবল ফেডারেশনের প্রধান ইব্রাহিম হাচিওসমানোলু। কোনো রাখঢাক না রেখেই তিনি ঘোষণা করেছেন:
“আমরা এবার শিরোপা জিততে চাই এবং ট্রফিটা আমাদের দেশেই নিয়ে আসব।”