বিশ্বকাপ শুরু হতে আর মাত্র দুই মাস বাকি থাকলেও ইরানের অংশগ্রহণ নিয়ে ধোঁয়াশা এখনো কাটেনি। দেশটির ক্রীড়ামন্ত্রী আহমাদ দানিয়ামালি স্পষ্ট জানিয়েছেন, তাদের ম্যাচগুলো যুক্তরাষ্ট্র থেকে সরিয়ে মেক্সিকোতে না নেওয়া পর্যন্ত বিশ্বকাপে খেলার বিষয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
রোববার তুরস্কের বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ম্যাচ স্থানান্তরের বিষয়ে ফিফার কাছে করা আবেদন এখনো বহাল আছে, কিন্তু তারা কোনো সাড়া দেয়নি। দানিয়ামালি জোর দিয়ে বলেন, “যদি আমাদের অনুরোধ রাখা হয়, তবেই ইরানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে। ফিফা এখনো কোনো উত্তর না দেওয়ায় এই মুহূর্তে যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ম্যাচ খেলার সম্ভাবনা খুবই কম।”
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, গ্রুপ পর্বে ইরানের তিনটি ম্যাচই যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। ১৬ জুন লস অ্যাঞ্জেলেসে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করার কথা রয়েছে। এরপর ২২ জুন একই শহরে বেলজিয়াম এবং ২৭ জুন সিয়াটলে মিসরের মুখোমুখি হওয়ার কথা দলটির। যদিও এবারের আসর মেক্সিকো ও কানাডাতেও হবে, তবে অধিকাংশ ম্যাচই অনুষ্ঠিত হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রে।
ইরানের ক্রীড়ামন্ত্রী জানান, তাদের ফুটবলাররা প্রস্তুতি চালিয়ে গেলেও দলের নিরাপত্তার বিষয়টি সরকার সবার আগে দেখছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পেলেই কেবল দল পাঠানোর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ চলায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানি দলকে স্বাগত জানানোর কথা বললেও তাদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহেদী তাজ বলেন, “যেহেতু মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিজেই নিরাপত্তার গ্যারান্টি দিতে পারছেন না, তাই আমরা সেখানে যাব না। আমরা বর্তমানে ম্যাচগুলো মেক্সিকোতে আয়োজনের জন্য ফিফার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।”
তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো গত বুধবার সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ড্র অনুযায়ী ম্যাচগুলো নির্ধারিত স্থানেই হবে। মেক্সিকোতে ম্যাচ সরানোর অনুরোধ নাকচ করে দিয়ে ফিফা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের কাছে ‘প্ল্যান বি’ বা অন্য কোনো বিকল্প পরিকল্পনা নেই; আগের সূচিই বহাল থাকবে। তবে ইরানি দল যাতে উপযুক্ত পরিবেশে খেলতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে তারা কাজ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন ফিফাপ্রধান।