উইমেন’স সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে হ্যাটট্রিক শিরোপা জয়ের মহাজাগতিক মিশনে কোনো তাড়াহুড়ো না করে ধাপে ধাপে এগোতে চান বাংলাদেশ দলের নতুন অধিনায়ক মারিয়া মান্দা।
টুর্নামেন্ট শুরুর আগে প্রথা অনুযায়ী ছয় দেশের কোচ ও অধিনায়কদের নিয়ে এক অফিশিয়াল ফটোসেশনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ অধিনায়ক হিসেবে এতদিন চেনা মুখ আফঈদা খন্দকারের বদলে আকস্মিক উপস্থিত হন মারিয়া মান্দা। এবারের সাফে লাল-সবুজ জার্সিধারীদের হ্যাটট্রিক শিরোপা ধরে রাখার মিশনে নেতৃত্ব দেবেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারই। ফটোসেশন শেষে সংবাদ সম্মেলনে এসে নতুন এই অধিনায়ক দেশবাসীকে বড় স্বপ্নই দেখালেন। প্রত্যাশার পাহাড়সম চাপ মাথা পেতে নিয়ে মারিয়া বলেন, অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছাতে তাঁরা মাঠের ভেতর নিজেদের সামর্থ্যের সবটুকু নিংড়ে দিতে প্রস্তুত।
ভারতের গোয়ার জওহরলাল নেহেরু স্টেডিয়ামে সোমবার থেকেই পর্দা উঠছে দক্ষিণ এশিয়ার নারী ফুটবলের সর্বোচ্চ এই আসরের। তবে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ মাঠে নামবে আগামী বৃহস্পতিবার, মালদ্বীপের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে শুরু হবে তাদের গ্রুপ পর্বের লড়াই। এরপর ৩১ মে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ও শেষ ম্যাচে স্বাগতিক এবং সাফের রেকর্ড পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতের মুখোমুখি হবেন মারিয়ারা।
২০২২ সালে নেপালের মাটিতে ভারতকে হারিয়ে বাংলাদেশের প্রথম সাফ জয়ের ঐতিহাসিক ক্ষণে মাঝমাঠে আলো ছড়িয়েছিলেন মারিয়া। দুই বছর পর ২০২৪ সালের আসরেও তিনি ছিলেন দলের মাঝমাঠের আসল ভরসা। তবে এবার তাঁর কাঁধে কেবল মাঝমাঠ সামলানোর দায়িত্বই নয়, বরং পুরো দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার এক বিশাল ভার। মাঠের সব প্রতিপক্ষকে যথাযথ সমীহ করে ২৩ বছর বয়সী এই প্রতিভাবান মিডফিল্ডার শোনালেন সাফল্যের চূড়ায় পৌঁছানোর তীব্র আশাবাদ:
“আসলে বিগত দিনে আমরা যেভাবে খেলে আসছি, সেই অভিজ্ঞতা থেকে আমরা ভালো করেই জানি যে এখানকার প্রতিটি দলই অনেক উন্নত ও ভালো ফুটবল খেলে। তো চ্যাম্পিয়ন দল হিসেবে আমাদের ওপর একটা বাড়তি চাপ তো থাকবেই। কারণ, একদম নতুন করে আবার সাফ শুরু হচ্ছে। তবে আমাদের চেষ্টা থাকবে মাঠে নিজেদের সর্বোচ্চটা দিয়ে লড়াই করার।”
“আমরা এর আগে টানা দুইবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি এবং এবার আবার একদম নতুন করে টুর্নামেন্ট শুরু হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই এটি আমাদের জন্য মস্ত বড় একটা চ্যালেঞ্জ। তবে আমরা কোনো বাড়তি চাপ মাথায় না নিয়ে আমাদের চিরাচরিত স্বাভাবিক ফুটবলটাই খেলার চেষ্টা করব। আমাদের মূল লক্ষ্য থাকবে ‘ম্যাচ বাই ম্যাচ’ ধরে পরিকল্পনা করা এবং ধাপে ধাপে নিজেদের পারফরম্যান্স আরও উন্নত করা। সেই লক্ষ্য নিয়েই আমরা আমাদের সব প্রস্তুতি খুব ভালোভাবে সম্পন্ন করে এখানে এসেছি।”