কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন সাঞ্জু স্যামসন। পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে এটিই এখন ভারতীয় কোনো ব্যাটসম্যানের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত সংগ্রহের রেকর্ড। ভারতের এই ঐতিহাসিক জয়ের পর স্যামসন আবেগাপ্লুত হয়ে বলেন এটি তার জীবনের অন্যতম সেরা একটি দিন।
কোহলিকে ছাড়িয়ে নতুন রেকর্ড
ভার্চুয়াল কোয়ার্টার ফাইনালে রূপ নেওয়া এই ম্যাচে স্যামসন ভেঙে দিয়েছেন বিরাট কোহলির দীর্ঘদিনের রেকর্ড। ২০১৬ বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এবং ২০২২ বিশ্বকাপে পাকিস্তানের বিপক্ষে কোহলির করা অপরাজিত ৮২ রানই ছিল এতদিন লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর। ম্যাচ শেষে স্যামসন জানান বিরাট কোহলি ও রোহিত শর্মাদের ব্যাটিং দেখেই তিনি ম্যাচ শেষ করার কৌশল শিখেছেন। আইপিএল ও আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে এই প্রথম ওপেন করতে নেমে অপরাজিত থেকে ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়লেন এই কেরালা পুত্র।
দীর্ঘ অপেক্ষার ফল
২০১৫ সালে মাত্র ২০ বছর বয়সে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হলেও নিয়মিত সুযোগ পেতে স্যামসনকে দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষা করতে হয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তিনি খেলেছেন মাত্র ৫৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ। চলতি বিশ্বকাপে ব্যাক-আপ ওপেনার হিসেবে দলে থাকলেও ভারতের বাঁহাতি টপ অর্ডারদের বিপক্ষে প্রতিপক্ষ অফস্পিনারদের লেলিয়ে দেওয়ায় সুযোগ পান স্যামসন। সুযোগ পেয়েই তিনি প্রমাণ করলেন কেন তাকে স্পেশাল ট্যালেন্ট বলা হয়।
ম্যাচ শেষে নিজের অনুভূতি জানিয়ে স্যামসন বলেন ছোটবেলা থেকেই দেশের হয়ে খেলার স্বপ্ন দেখতেন তিনি। অনেক চড়াই-উতরাই পার করে আসা এই জার্নিতে মাঝেমধ্যে নিজের ওপর সন্দেহ জাগলেও সৃষ্টিকর্তার ওপর বিশ্বাস হারাননি বলে জানান তিনি। স্যামসন আরও যোগ করেন চেন্নাইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে প্রথম বল থেকেই মারার পরিকল্পনা থাকলেও ইডেনের উইকেট বুঝে পরিস্থিতি অনুযায়ী পার্টনারশিপ গড়ার দিকে মন দিয়েছিলেন তিনি।
অধিনায়ক সূর্যকুমারের প্রশংসা
ম্যাচ শেষে সতীর্থের এমন সাফল্যে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন ভারত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। তিনি বলেন ভালো মানুষের সাথে সবসময় ভালো কিছু ঘটে যারা ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করতে জানে। ড্রেসিংরুমে বসে স্যামসন যে পরিশ্রম করেছেন আজ তারই ফল হাতেনাতে পেল দল। স্যামসনের একার ব্যাটিংই ভারতকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিয়েছে বলে মনে করেন অধিনায়ক।