সবশেষ টেস্ট সিরিজে ‘ম্যান অব দা সিরিজ’ হওয়ার পরও শরীরের চোটের কারণে দীর্ঘ দেড় বছর মাঠের বাইরে থাকতে হয়েছিল তাসকিন আহমেদকে। অবশেষে সেই দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। মিরপুর একাডেমি মাঠে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ট্রফি উন্মোচনের দিন অনুশীলনের ফাঁকে তাসকিন নিজেই জানালেন তাঁর রোমাঞ্চের কথা। একটানা ১৩ ওভার বোলিং করে এসে হাঁপাতে হাঁপাতে পরিচিত সাংবাদিকদের বলছিলেন, “লাল বলে বোলিংয়ের মজাই আলাদা।”
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে দুর্দান্ত বোলিং করার পর পায়ের ইনজুরির কারণে সাদা পোশাকের ক্রিকেট থেকে সাময়িক বিরতি নিতে বাধ্য হয়েছিলেন তাসকিন। সেই ইনজুরি কাটিয়ে আবারও তিনি ফিরছেন পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্টের দলে। সব ঠিক থাকলে শুক্রবার থেকেই তাঁকে আবার লাল বলে মাঠ মাতাতে দেখা যাবে। ৯ বছরের টেস্ট ক্যারিয়ারে ইনজুরির কারণে খেলেছেন মাত্র ১৭টি ম্যাচ, তবে এবার তাঁর লক্ষ্য কেবল উইকেট সংখ্যা বাড়ানো নয় বরং দীর্ঘ ফরম্যাটে ফেরার আনন্দ উপভোগ করা।
তাসকিন জানালেন, টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ সময় বোলিং করার যে কষ্ট, তার মধ্যেও এক ধরনের তৃপ্তি আছে। তাঁর ভাষায়, “কষ্ট হচ্ছে, শরীর চলছে না, গা ব্যথা—তার মধ্যেও সবটুকু দিয়ে পরের বলটি করাই হলো ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য।” শরীর কিছুটা বিগড়ে থাকলেও ছোটখাটো চোট বা ‘নিগলস’ ম্যানেজ করেই তিনি লম্বা স্পেলে বল করতে প্রস্তুত। বাংলাদেশের স্পোর্টিং উইকেটে পেসারদের জন্য কিছু না কিছু সুবিধা থাকবে বলেই তিনি বিশ্বাস করেন।
নিজের ফিটনেস নিয়ে আত্মবিশ্বাসী তাসকিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, চোট বা ব্যথা যদি না বাড়ে, তবে নিয়মিত টেস্ট খেলে যেতে তাঁর কোনো বাধা নেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচ খেলার পর শরীরের অবস্থা বুঝে তিনি দ্বিতীয় টেস্টের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। ৪ মে থেকে মিরপুরে শুরু হতে যাওয়া এই ম্যাচটি তাসকিনের জন্য কেবল একটি প্রত্যাবর্তন নয় বরং নতুন এক লড়াইয়ের শুরু।