ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে দক্ষিণ কোরিয়া ২১ নম্বরে আর ইরান ৬৮তম। মাঠের লড়াইয়ে ব্যবধানটা কেমন হতে পারে তা সহজেই বোঝা যায়। স্কোরলাইনে কোরিয়া ৩-০ গোলে জিতলেও আসলে ম্যাচ শুরুর আগেই ইরানের মেয়েরা জিতে গিয়েছিল।
দেশের বাতাসে এখন বারুদের গন্ধ। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানে চারদিকে শুধু ধ্বংসস্তূপ। প্রাণ হারিয়েছেন সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। পাল্টা জবাবের ডামাডোলে সাধারণ মানুষের ক্ষয়ক্ষতিই সবচেয়ে বেশি। রেড ক্রিসেন্টের তথ্য মতে হামলায় এ পর্যন্ত ৫৫৫ জন ইরানি প্রাণ হারিয়েছেন।
সেই মৃত্যুপুরী আর স্বজনদের অনিশ্চিত জীবনের শঙ্কা বুকে চেপেই অস্ট্রেলিয়ার গোল্ড কোস্টে এশিয়ান কাপে খেলতে নামে ইরান। কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের ৩৭ মিনিটে প্রথম গোল হজম করে তারা। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে ৫৯ ও ৭৫ মিনিটে আরও দুই গোল দিয়ে বড় জয় পায় দক্ষিণ কোরিয়া।
তবে এটি কেবল মাঠের ফল। দেশের ধ্বংসযজ্ঞ আর আপনজনদের হারানোর ভয় মাথায় নিয়ে দাঁতে দাঁত চেপে লড়ে যাওয়া কি স্কোরলাইনের চেয়ে বড় নয়? ইরানের মেয়েরা ঠিক এই সাহসিকতার জন্যই গ্যালারির দর্শকদের অকুণ্ঠ সমর্থন পেয়েছেন। যখনই তারা কোরিয়ার রক্ষণভাগে আক্রমণ করেছে গ্যালারি থেকে ভেসে এসেছে করতালি।
দ্বিতীয়বারের মতো এশিয়ান কাপে খেলা ইরান ২০২২ সালে বিদায় নিয়েছিল গ্রুপ পর্ব থেকেই। এবার তাদের গ্রুপে কোরিয়া ছাড়াও আছে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন। আগামী ৫ মার্চ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়ার মুখোমুখি হবে লড়াকু এই দলটি। ১২ দলের এই টুর্নামেন্টে গ্রুপ সেরা দুই দলের পাশাপাশি তৃতীয় স্থানে থাকা সেরা দুটি দলও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ পাবে।