আইপিএল ২০২৬ আসরে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু (আরসিবি) তাদের ঘরের মাঠের সাতটি ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি খেলবে বেঙ্গালুরুর এম চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। বাকি দুটি ম্যাচ তারা খেলবে রায়পুরের শহীদ বীর নারায়ণ সিং স্টেডিয়ামে। সোমবার কর্নাটক রাজ্য ক্রিকেট সংস্থা (কেএসসিএ) ও আরসিবি কর্মকর্তাদের দীর্ঘ বৈঠকের পর এই সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে।
চিন্নাস্বামীতেই শুরু হতে পারে আইপিএল
বিসিসিআই-কে ইতোমধ্যে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে এবং খুব দ্রুতই আইপিএলের পূর্ণাঙ্গ সূচি ঘোষণা করা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, আগামী ২৮ মার্চ আইপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামে। এছাড়া প্লে-অফ ও ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের দৌড়েও এগিয়ে আছে এই মাঠটি।
রায়পুরে কেন দুটি ম্যাচ?
আরসিবি কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে যে, ‘পূর্ব প্রতিশ্রুতি’ অনুযায়ী রায়পুরে দুটি হোম ম্যাচ খেলবে তারা। গত জানুয়ারিতে ছত্তিশগড় সরকারের সাথে এ বিষয়ে একটি চুক্তি (MoU) সই হয়। মুখ্যমন্ত্রী বিষ্ণু দেও সাই এই আয়োজনে পূর্ণ সমর্থন ও কর ছাড়ের আশ্বাস দিয়েছেন। আরসিবি-র সিইও রাজেশ মেনন জানিয়েছেন, ভেন্যু চূড়ান্ত করার জন্য সব ধরনের প্রয়োজনীয় অনুমতি নেওয়া সম্পন্ন হয়েছে।
নিরাপত্তা ও সংস্কার নিয়ে তোড়জোড়
গত বছর আইপিএল উদযাপনের সময় স্টেডিয়ামের বাইরে ১১ জনের মৃত্যুর ঘটনার পর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বেশ কড়াকড়ি আরোপ করেছে সরকার। স্টেডিয়ামের পরিকাঠামো উন্নয়নে ১৭ দফা সংস্কারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
- সংস্কার কাজ: জন জাস্টিস ডি’কুনহার অডিট রিপোর্ট অনুযায়ী, ভিড় সামলাতে স্টেডিয়ামের প্রবেশ ও বহির্গমন পথগুলো বড় করা হচ্ছে।
- ডেডলাইন: আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে সব কাজ শেষ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এনসিএ-র পুরনো ভবনটিকে বড় জমায়েতের জায়গা হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনাও চলছে।
- দর্শক ধারণক্ষমতা: আরসিবির অন্যতম বড় দুশ্চিন্তা ছিল দর্শক কমানো নিয়ে, তবে স্বস্তির খবর হলো গ্যালারির দর্শক সংখ্যা কমানোর কোনো নির্দেশনা এখন পর্যন্ত আসেনি।
আরসিবি এবং কর্নাটক পুলিশ ও সরকারের মধ্যে ‘আয়োজক’ হিসেবে কার কতটুকু দায়বদ্ধতা থাকবে, সে বিষয়েও সোমবারের বৈঠকে পরিষ্কার ধারণা দেওয়া হয়েছে। সব বাধা কাটিয়ে এখন শুধু চিন্নাস্বামীতে বল গড়ানোর অপেক্ষা।