বিশ্ব ডোপবিরোধী সংস্থা (ওয়াডা) কর্তৃক দুই বছরের নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন দেশের অন্যতম সফল ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত। তবে এই শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করার ক্ষেত্রে আইনি লড়াইয়ের বিশাল খরচ এখন সোনাজয়ী এই অ্যাথলেটের জন্য বড় দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
গত বছর সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত ইসলামিক সলিডারিটি গেমসের আগে মাবিয়ার নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছিল। সেই পরীক্ষায় তার শরীরে নিষিদ্ধ ‘ফুরোসেমাইড’ ও ‘ক্যানরেনোন’-এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। সাউথ এশিয়া রিজিওনাল অ্যান্টি ডোপিং অর্গানাইজেশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওয়াডা তাকে নিষিদ্ধ করার এই সিদ্ধান্ত জানায়।
ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে মাবিয়া বলেন, টুর্নামেন্টের আগে তার পায়ে পানি জমতে শুরু করেছিল, যা মাঝে মাঝে সিরিঞ্জ দিয়েও বের করতে হতো। আর্থিক সংকটের কারণে দেশের বাইরে চিকিৎসা নিতে না পেরে দেশেই একজন চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন তিনি। মাবিয়ার দাবি, তিনি জেনেশুনে কোনো নিষিদ্ধ ওষুধ খাননি এবং চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী সব ওষুধ সেবন করেছেন। সেই প্রেসক্রিপশনগুলো তিনি এরই মধ্যে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনে (বিওএ) জমাও দিয়েছেন।
মাবিয়া আক্ষেপ করে বলেন, “আমাদের সবসময় বলা হয় ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ না খেতে, আমি সেটাই অনুসরণ করেছি। আমি তো আর রসায়নবিদ নই যে ওষুধের উপাদান দেখে বুঝতে পারব কোনটা নিষিদ্ধ। অথচ এখন সব দায় আমার ওপরই চাপানো হচ্ছে।”
এখন এই নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে আপিল করতে চান মাবিয়া, কিন্তু বাধ সাধছে অর্থ। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া বেশ ব্যয়বহুল। মাবিয়া জানান, বিওএ যদি এই খরচের দায়িত্ব নেয়, তবেই তার পক্ষে লড়াই করা সম্ভব। অন্যথায় শাস্তি মেনে নেওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না তার।
২০১২ সাল থেকে জাতীয় দলের হয়ে খেলা মাবিয়া আক্তার সীমান্ত এখন পর্যন্ত আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের হয়ে পাঁচবার সোনা জিতেছেন। বিশেষ করে ২০১৬ ও ২০১৯ এসএ গেমসে টানা দুবার সোনা জিতে তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনে অনন্য এক উচ্চতায় পৌঁছান। দেশের সেই গর্বিত অ্যাথলেট এখন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময় পার করছেন।