দীর্ঘ আট মৌসুমের অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পাকিস্তান সুপার লিগের (পিএসএল) রাজত্ব ফিরে পেল পেশাওয়ার জালমি। হুনাইন শাহর করা ডেলিভারিটি যখন বাউন্ডারি লাইন স্পর্শ করল, তখন ডাগআউট থেকে ক্রিকেটারদের বাঁধভাঙা উল্লাসই বলে দিচ্ছিল এই শিরোপা তাদের জন্য কতটা আকাঙ্ক্ষিত ছিল। বাবর আজমের নেতৃত্বে নবাগত হায়দরাবাদ কিংস মেনকে ৫ উইকেটে হারিয়ে আসরের একাদশ আসরে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করল জালমি।
রোববার লাহোরে অনুষ্ঠিত ফাইনালে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নামা হায়দরাবাদ কিংস মেনের শুরুটা মন্দ ছিল না। সাইম আইয়ুবের লড়াকু ৫৪ রানের ওপর ভর করে এক পর্যায়ে ২ উইকেটে ৭১ রান তুলেছিল তারা। কিন্তু এরপরই দৃশ্যপটে হাজির হন বাংলাদেশের গতিদানব নাহিদ রানা ও অস্ট্রেলিয়ার অ্যারন হার্ডি। এই দুই পেসারের তোপে মাত্র ৪৮ রানের ব্যবধানে শেষ ৭ উইকেট হারিয়ে ১২৯ রানেই গুটিয়ে যায় হায়দরাবাদ।
পিএসএলে নিজের প্রথম আসরে খেলতে নেমেই বাজিমাত করেছেন নাহিদ রানা। প্রথম ওভারে ১৩ রান দিলেও পরের ৩ ওভারে মাত্র ৯ রান দিয়ে নেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ও হুনাইন শাহর গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। বিসিবির বিশেষ অনুমতি নিয়ে ফাইনালে খেলতে গিয়ে ৪ ওভারে ২২ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়ে জালমির জয়ে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। অন্যদিকে অ্যারন হার্ডি ২৭ রানে ৪ উইকেট নেওয়ার পাশাপাশি ব্যাট হাতে অপরাজিত ৫৬ রানের ইনিংস খেলে ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন।
১৩০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ৪০ রানেই ৪ উইকেট হারিয়ে চরম বিপদে পড়েছিল পেশাওয়ার জালমি। অধিনায়ক বাবর আজম ও মোহাম্মদ হারিস দ্রুত বিদায় নিলে হারের শঙ্কা জেগেছিল। তবে অ্যারন হার্ডি ও সামাদ আলমের ৮৫ রানের চমৎকার জুটি সব শঙ্কা উড়িয়ে দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেয়। সামাদ ৪৮ রান করে আউট হলেও হার্ডি জয় নিশ্চিত করেই মাঠ ছাড়েন। পেশাওয়ার জালমি এর আগে ২০১৭ সালে দ্বিতীয় আসরে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছিল।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
- হায়দরাবাদ কিংস মেন: ১৮ ওভারে ১২৯ (সাইম ৫৪, লাবুশেন ২০; হার্ডি ৪/২৭, নাহিদ ২/২২)
- পেশাওয়ার জালমি: ১৫.২ ওভারে ১৩০/৫ (হার্ডি ৫৬*, সামাদ ৪৮; আলি ৩/৩৮)
- ফল: পেশাওয়ার জালমি ৫ উইকেটে জয়ী ও চ্যাম্পিয়ন।