দেড় বছরের দীর্ঘ বিরতি কাটিয়ে আবারও সাদা পোশাকের ক্রিকেটে ফিরছেন তাসকিন আহমেদ। ইনজুরি আর ওয়ার্কলোড ম্যানেজমেন্টের কারণে দীর্ঘ সময় টেস্টের বাইরে থাকলেও পাকিস্তানের বিপক্ষে মিরপুর টেস্ট দিয়ে লাল বলের ক্রিকেটে তাসকিনের প্রত্যাবর্তন এখন সময়ের ব্যাপার। ফেরার আগে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তাসকিন কথা বলেছেন তাঁর বর্তমান শারীরিক অবস্থা, বোলিং পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ স্বপ্ন নিয়ে।
তাসকিনের সাক্ষাৎকারের মূল অংশগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
১. টেস্ট ক্রিকেটের প্রতি টান
তাসকিন জানান, টেস্ট ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য হলো এর চ্যালেঞ্জ। সবটুকু নিংড়ে দিয়ে বোলিং করার যে আনন্দ, সেটি অন্য কোনো ফরম্যাটে নেই। সবশেষ টেস্ট সিরিজে ‘ম্যান অব দ্য সিরিজ’ হওয়ার স্মৃতি তাঁকে দারুণভাবে অনুপ্রাণিত করছে। মিরপুরের স্পোর্টিং উইকেটে বোলিং করার জন্য তিনি মুখিয়ে আছেন।
২. শারীরিক অবস্থা ও ইনজুরি ম্যানেজমেন্ট
নিজের ফিটনেস নিয়ে তাসকিন বেশ সৎ। তিনি জানান:
- বর্তমানে তিনি ফিট থাকলেও শরীরে কিছু ‘নিগলস’ (ছোটখাটো ব্যথা) রয়ে গেছে।
- এই ব্যথাগুলো ম্যানেজ করেই তিনি খেলে যেতে চান।
- আগামী কয়েক বছর তিন ফরম্যাটেই খেলা চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা তাঁর আছে, তবে তা পুরোপুরি শরীরের অবস্থার ওপর নির্ভর করবে।
৩. অস্ট্রেলিয়া সফরের রোমাঞ্চ
আসন্ন অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর তাসকিনের টেস্টে ফেরার অন্যতম বড় কারণ। বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়ায় টেস্ট খেলার সুযোগ তিনি কোনোভাবেই হাতছাড়া করতে চান না। ২০১২ অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ থেকে শুরু করে ২০১৫ ও ২০২২ বিশ্বকাপ—অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে তাসকিনের অনেক সুখস্মৃতি রয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশের টেস্ট খেলার সম্ভাবনা তাঁকে রোমাঞ্চিত করছে।
৪. নাহিদ রানার গতি ও পেস বোলিং ইউনিট
সতীর্থ নাহিদ রানার ১৫০ কিমি গতিতে বোলিং করাকে তাসকিন দারুণ উপভোগ করেন। তিনি মনে করেন, রানার এই গতি প্রতিপক্ষ ব্যাটসম্যানদের মনে ভীতি ছড়ায়, যা অন্য বোলারদের কাজ সহজ করে দেয়। নিজের গতি এখন ১৩৫-১৪০ কিমি-র মধ্যে থাকলেও তাসকিন মনে করেন, অভিজ্ঞতার কারণে তাঁর ‘গেম অ্যাওয়ারনেস’ ও স্কিল আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে।
৫. বোলিং কোচদের ভূমিকা
শন টেইটের বর্তমান কোচিং স্টাইল তাসকিনের খুব পছন্দ। টেইটের ‘কিপ ইট সিম্পল’ নীতি বোলারদের চাপমুক্ত থাকতে সাহায্য করে। তাসকিনের মতে, ওটিস গিবসন, অ্যালান ডোনাল্ড এবং শন টেইট—এই তিন কোচের ভিন্ন ভিন্ন দর্শন বাংলাদেশের পেস ইউনিটের আজকের এই উন্নতির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে।