মিরপুর টেস্টের দ্বিতীয় দিনটা বাংলাদেশের জন্য বেশ অম্লমধুর কাটল। তবে দ্বিতীয় দিনের হতাশা ঝেড়ে ফেলে তৃতীয় দিনেই দল দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়াবে—এমনটাই বিশ্বাস সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাউদ্দিনের।
দিনের খেলা শেষ করে সংবাদ সম্মেলনে যখন এলেন, তখনো ড্রেসিংরুমে পুরো দিনের ব্যবচ্ছেদ করার সুযোগ পাননি সালাউদ্দিন। কিন্তু প্রথম প্রশ্নের উত্তরেই তিনি যা বললেন, তাতে ফুটে উঠল দলের ভেতরের আসল চিত্র। ব্যাটিংয়ের ঘাটতি থেকে শুরু করে বোলিংয়ের এলোমেলো ভাব—সবই অকপটে স্বীকার করলেন তিনি।
ব্যাটিং ও বোলিংয়ের খতিয়ান
প্রথম দিনটা ছিল পুরোপুরি বাংলাদেশের। দ্বিতীয় দিন সেই নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিল পাকিস্তান। প্রথম দিন ৪ উইকেটে ৩০১ রান করা বাংলাদেশ এদিন অলআউট হয় ৪১৩ রানে। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দিন শেষ করেছে পাকিস্তান।
দিনের শুরুতে মুমিনুল হকের আশা ছিল স্কোরবোর্ডে ৫০০ রান তোলার। মুশফিক ও লিটন শুরুটাও করেছিলেন দেখেশুনে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ৪১৩ রানেই থামতে হয় দলকে। সালাউদ্দিন বলেন:
“সকালে পাকিস্তান আসলে খুব ভালো বল করেছে। রান করাটা কঠিন ছিল। আরও একটা ভালো জুটি হলে আমাদের জন্য ভালো হতো। যদিও আমরা ৪০০ পার করেছি, তবে স্কোরবোর্ডে আরও ৫০-৬০ রান থাকলে স্বস্তিতে থাকতাম। আর বোলিংটা আজ আমরা কিছুটা এলোমেলো করে ফেলেছি।”
আব্বাস বনাম বাংলাদেশের পেসত্রয়ি
যে উইকেটে তাসকিন, ইবাদত আর নাহিদ রানারা ধারহীন ছিলেন, সেখানেই বাজিমাত করেছেন মোহাম্মদ আব্বাস। অথচ তার গতি ১৩০ কিলোমিটারের ওপরে ওঠে না বললেই চলে। আব্বাসের সাফল্যের রহস্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে সালাউদ্দিন বলেন:
“আব্বাস তার জায়গা ছাড়েনি। ধারাবাহিকভাবে এক জায়গায় বল করতে পারাটাই তার শক্তি। উইকেটে মুভমেন্ট ছিল আর সেটার পূর্ণ সুযোগ সে নিয়েছে।”
মনস্তাত্ত্বিক লড়াই ও গতির ফাঁদ
পাকিস্তানের দুই অভিষিক্ত ওপেনার আজান আওয়াইস (৮৫*) এবং আবদুল্লাহ ফাজাল (৩৭*) সহজেই সামলেছেন বাংলাদেশের পেসারদের। অভিজ্ঞ বোলাররা কেন খাবি খেলেন? সালাউদ্দিনের মতে, এটি পুরোপুরি মনস্তাত্ত্বিক।