নাহিদ রানার ১৪০.৯ কিলোমিটার গতির সেই গোলাটি যখন আজান আওয়াইসের হেলমেটে আঘাত করল, ২১ বছর বয়সী এই তরুণের জন্য অভিষেকটা তখন বেশ বিভীষিকাময় হতে পারত। পুল করতে গিয়ে শরীরের রিফ্লেক্স ঠিকঠাক কাজ না করায় বল সরাসরি ছোবল দেয় হেলমেটে। এতটাই জোরে যে, স্টাম্পের ওপর পড়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল তার। ফিজিওর পরীক্ষা আর হেলমেট বদলের সেই বিরতি শেষে মাঠে ফিরে যা দেখালেন আজান, তাকে স্রেফ বীরত্বই বলা চলে।
দিনের খেলা শেষে যখন মাঠ ছাড়ছেন, আজানের নামের পাশে ৮৫ রান অপরাজিত। নাহিদ রানার সেই গতির জবাব তিনি দিয়েছেন টানা চার মেরে। তরুণ এই সতীর্থের এমন দৃঢ়তায় মুগ্ধ ওপেনার ইমাম-উল-হক।
গতির ঝাপটা ও ঘুরে দাঁড়ানো
বাংলাদেশের ইনিংস ৪১৩ রানে থামার পর আজান আর ইমাম মিলে পাকিস্তানকে দুর্দান্ত এক শুরু এনে দেন। অধিনায়ক শান্ত যখন নাহিদ রানাকে আক্রমণে আনলেন, প্রথম বলেই তিনি শরীরের ওপর শর্ট ডেলিভারি করেন। আজান সেই ধাক্কা সামলে নিয়ে পরে যেভাবে ব্যাটিং করেছেন, তা ছিল চোখে পড়ার মতো। চা বিরতির ঠিক পরেই নাহিদের প্রথম বলে চার মেরে যেন বুঝিয়ে দিলেন—তিনি দমে যাওয়ার পাত্র নন।
আজানের এই লড়াকু মানসিকতা নিয়ে ইমাম-উল-হক বলেন:
“আমরা জানতাম নাহিদ রানা এমন আক্রমণ করবে, টিম মিটিংয়েও এটা নিয়ে আলাপ হয়েছিল। তবে ছেলেটিকে কৃতিত্ব দিতেই হবে। প্রথম বলেই ওভাবে চোট পাওয়ার পর সে যেভাবে জবাব দিয়েছে, তা সত্যিই দারুণ।”
ইমামের পরামর্শ ও আজানের ধৈর্য
মাঝমাঠে আজানকে কী পরামর্শ দিয়েছিলেন? ইমাম জানালেন সাধারণ এক টোটকার কথা—স্রেফ বলের ওপর চোখ রাখা। ইমামের ভাষায়:
“ওকে শুধু বলেছি, যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন খেলায় মন দাও। এই উইকেটে মুভমেন্ট ছিল, ব্যাটিং করা কঠিন ছিল। কিন্তু আজান যেভাবে পরিস্থিতি বুঝে রান তুলেছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে।”
এখনও বাকি তিন দিন
৪ উইকেটে ৩০১ রান নিয়ে দিন শুরু করা বাংলাদেশ শেষ পর্যন্ত ১১২ রান তুলতেই বাকি সব উইকেট হারায়। জবাবে ১ উইকেটে ১৭৯ রান তুলে দিন শেষ করা পাকিস্তানকে এখন সুবিধাজনক অবস্থানে দেখছেন অনেকেই। তবে ইমাম পা রাখছেন মাটিতেই। তার মতে, টেস্ট ক্রিকেটের সৌন্দর্যই হলো এটি যেকোনো সময় বদলে যেতে পারে। কালকের দিনটিই ঠিক করে দেবে মিরপুর টেস্ট আসলে কোন দিকে মোড় নিচ্ছে।