আইপিএলের রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় কপাল পুড়ল মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের। জাসপ্রিত বুমরাহ্র দুর্দান্ত বোলিংয়ে জয়ের আশা জাগলেও শেষ পর্যন্ত রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ২ উইকেটে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিশ্চিত হলো পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নদের। মুম্বাইয়ের এই হারে কপাল পুড়েছে লখনৌ সুপার জায়ান্টসেরও; প্লে-অফের দৌড় থেকে ছিটকে গেছে তারাও।
রায়পুরে রোববার রাতে ১৬৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শেষ বলের নাটকীয়তায় জয় ছিনিয়ে নেয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন বেঙ্গালুরু। এই জয়ের ফলে টেবিলের শীর্ষে উঠে এসেছে কোহলিরা, অন্যদিকে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিল মুম্বাই।
বুমরাহ্র লড়াই ও বাওয়ার ভুল
রান তাড়া করতে নেমে ৩৯ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকছিল বেঙ্গালুরু। টানা দ্বিতীয় ম্যাচে শূন্য রানে ফেরেন বিরাট কোহলি। তবে টপ অর্ডারের ব্যর্থতার দিনে একাই লড়াই করেন ক্রুনাল পান্ডিয়া। চোট নিয়ে ব্যাটিং চালিয়ে ৪৬ বলে ৭৩ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলে যখন তিনি বিদায় নেন, তখন শেষ ১২ বলে ১৮ রান দরকার ছিল বেঙ্গালুরুর।
১৯তম ওভারে অবিশ্বাস্য বোলিং করেন বুমরাহ। মাত্র ৩ রান দিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। শেষ ওভারে জয়ের জন্য বেঙ্গালুরুর প্রয়োজন ছিল ১৫ রান। ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব বল তুলে দেন রাজ বাওয়ার হাতে। কিন্তু স্নায়ুচাপ সামলাতে না পেরে একের পর এক ওয়াইড আর নো বল করে বসেন এই মিডিয়াম পেসার। ভুবনেশ্বর কুমারের একটি মহামূল্যবান ছক্কা আর শেষ বলে রাকিশ সালামের ডাইভে জয় নিশ্চিত হয় বেঙ্গালুরুর।
ভুবনেশ্বরের অলরাউন্ড নৈপুণ্য
ম্যাচে বল হাতে ২৩ রানে ৪ উইকেট নিয়ে মুম্বাইকে ১৬৬ রানে আটকে রাখতে বড় ভূমিকা রাখেন ভুবনেশ্বর কুমার। পরে ব্যাট হাতেও শেষ ওভারে সেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনিই। মুম্বাইয়ের পক্ষে তিলক ভার্মা (৫৭) ও নামান ধির (৪৭) কিছুটা প্রতিরোধ গড়লেও রোহিত শর্মার ২২ রানের ইনিংসটি বড় সংগ্রহের জন্য যথেষ্ট ছিল না।
১১ ম্যাচের ৮টিতেই হেরে মুম্বাই এখন খাদের কিনারায়, আর সমান ম্যাচে ৭ জয় নিয়ে ১৪ পয়েন্ট যোগ করে তালিকার মগডালে এখন বেঙ্গালুরু।