মিরপুর টেস্টের স্কোরকার্ড বলছে বাংলাদেশ ৩৪ রানে এগিয়ে, কিন্তু মাঠের লড়াই বলছে পাল্লা এখন দুই পক্ষেরই সমান। তিন দিনে কয়েক দফায় ম্যাচের লাগাম হাতবদল হওয়ার পর লড়াই এখন কার্যত এক ইনিংসের। এই পরিস্থিতিতে দ্বিতীয় ইনিংসে ২৯০ থেকে ৩০০ রান করতে পারলেই জয়ের দেখা মিলবে বলে বিশ্বাস করেন মেহেদী হাসান মিরাজ।
প্রথম ইনিংসে শক্ত অবস্থানে থেকেও পাকিস্তান লিড নিতে পারেনি। ২৭ রানের লিড পকেটে নিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করা বাংলাদেশ তৃতীয় দিন শেষ করেছে বিনা উইকেটে ৭ রান তুলে। প্রথম দিন বাংলাদেশের দাপট, দ্বিতীয় দিন পাকিস্তানের ঘুরে দাঁড়ানো আর তৃতীয় দিন ফের টাইগার বোলারদের কামব্যাক—সব মিলিয়ে ম্যাচ এখন রোমাঞ্চকর মোড়ে দাঁড়িয়ে।
৫ উইকেট নিয়ে দিনের নায়ক মিরাজ মনে করেন, এই চড়াই-উতরাই টেস্ট ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য। তিনি বলেন:
“টেস্ট ক্রিকেটে এটাই মজা। কখনো আমরা ভালো করব, কখনো খারাপ। কিন্তু ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ সব সময় থাকে। ওরা এক উইকেটে ২০০ রান করার পর ২০ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়েছে, আবার নতুন জুটি গড়েছে। যারা ভুল কম করবে, তারাই শেষ পর্যন্ত এগিয়ে থাকবে।”
এখন সবটুকু দায়িত্ব বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের কাঁধে। চতুর্থ দিনে তারা কেমন করেন, তার ওপরই নির্ভর করছে ম্যাচের ভবিষ্যৎ। মিরাজ মনে করেন ম্যাচটি এখন ‘ফিফটি-ফিফটি’ অবস্থানে আছে। তার ভাষ্যমতে:
“এখনো দুই দিন বাকি এবং ম্যাচের ফল যেকোনো দিকে যেতে পারে। আমাদের অনেক বড় লিড নেই, তাই দায়িত্ব নিয়ে ব্যাটিং করাটা খুব জরুরি। মিরপুরে কত রান নিরাপদ তা বলা কঠিন, তবে বোলারদের লড়াই করার মতো একটা পুঁজি ব্যাটসম্যানদের দিতেই হবে।”
চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে মিরপুরের উইকেট যে ক্রমশ কঠিন হয়ে উঠবে, সেই ইঙ্গিতও দিয়ে রাখলেন এই অলরাউন্ডার। তার মতে ২৯০-৩০০ রান হতে পারে জয়ের জন্য আদর্শ লক্ষ্য। তিনি যোগ করেন:
“গত তিন দিন উইকেট খুব ভালো ছিল। কিন্তু একই উইকেটে যখন টানা খেলা হয়, তখন চতুর্থ ও পঞ্চম দিনে ব্যাটিং করা কিছুটা কঠিন হয়েই পড়ে। আমাদের ব্যাটসম্যানদের সেই চ্যালেঞ্জটা নিতে হবে এবং বড় লক্ষ্য দাঁড় করাতে হবে।”