২০২২ থেকে ২০২৬ বিশ্বকাপ। মাঝের এই চার বছরে ভিতিনিয়ার বয়স যেমন বেড়েছে, তেমনি অভিজ্ঞতার ঝুলিও হয়েছে বেশ ভারী। মাঠের খেলায় এখন তিনি অনেক বেশি পরিপক্ক এবং স্বাভাবিকভাবেই জাতীয় দলে তাঁর দায়িত্বও বেড়েছে। উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে নিজের ভূমিকা, পর্তুগালের সম্ভাবনা এবং দলের মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে নিয়ে ফিফাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন এই মিডফিল্ডার।
কাতার বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন ভিতিনিয়া, যার মধ্যে মরক্কোর বিপক্ষে হেরে যাওয়া সেই কোয়ার্টার ফাইনালটিতে নেমেছিলেন বদলি হিসেবে। তবে এবারের আসরে পর্তুগিজ সমর্থকেরা তাঁকে দেখতে চাইবে দলের মাঝমাঠের মূল চালিকাশক্তি বা ‘অর্কেস্ট্রা’র ভূমিকায়। জাতীয় দলের হয়ে উয়েফা নেশনস লিগের শিরোপা এবং পিএসজির হয়ে ক্লাব ক্যারিয়ারে দারুণ সফল ভিতিনিয়াও বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরতে অধীর আগ্রহে দিন গুনছেন।
বিশ্বকাপের আঙিনায় পর্তুগালের সেরা সাফল্যের অপেক্ষাটা অবশ্য এখনো ফুরোনি। ১৯৬৬ বিশ্বকাপের তৃতীয় স্থানটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বমঞ্চে তাদের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। গত বিশ্বকাপেও দারুণ সম্ভাবনা জাগিয়েও শেষ চারে ওঠার লড়াইয়ে হেরে বিদায় নিতে হয়েছিল তাদের।
তবে এবারের পর্তুগাল দলটি গড়া হয়েছে অভিজ্ঞ ও নতুনের এক চমৎকার সমন্বয়ে। জোয়াও কানসেলো, ব্রুনো ফার্নান্দেস, বার্নার্দো সিলভা ও রুবেন দিয়াসের মতো অভিজ্ঞদের পাশাপাশি ভিতিনিয়ার প্রজন্মের ডিয়াগো কস্তা, জোয়াও ফেলিক্স, রাফায়েল লিয়াও এবং পেদ্রো নেতোর মতো তারকারা আছেন। দলে যেমন জোয়াও নেভিসের মতো ২১ বছর বয়সী তরুণ তুর্কি আছেন, ঠিক তেমনি আছেন ৪১ বছর বয়সী চিরসবুজ রোনালদো।
বিশ্বমঞ্চের এই অধরা সাফল্য পেতে দলের শক্তির পাশাপাশি ভাগ্যের একটু ছোঁয়াও খুব করে চাইছেন ভিতিনিয়া, “কখনো কখনো অনেক ছোট ছোট বিষয় নিখুঁতভাবে হওয়ার ওপর বড় সাফল্য নির্ভর করে। বিশ্বকাপ জিততে না পারাটা আমাদের কোনো কাঠামোগত বা বড় সমস্যা নয়। সত্যি বলতে, আপনাকে ভাগ্যেরও একটু ছোঁয়া পেতে হবে—এটা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।”
তিনি আরও যোগ করেন:
“আমি অতীতের সেই সোনালী প্রজন্মগুলোর খেলা পুরোপুরি মনে রাখার মতো অত বড় হইনি। তবে আগে যেমন পর্তুগালের অসাধারণ মানসম্পন্ন দল ছিল, এখনো আছে। দারুণ কিছু অর্জন করার জন্য প্রয়োজনীয় সবকিছুই আমাদের আছে এবং আমরা সে লক্ষ্যেই কঠোর পরিশ্রম করছি। যখন সঠিক সময় আসবে এবং ভাগ্যকে কিছুটা পাশে পাব, তখন আমরা বিশ্বকাপ জয়ের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যাব।”
অলৌকিক কিছু না ঘটলে এটিই হতে যাচ্ছে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ। এই মহাতারকার সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করার অভিজ্ঞতা জানাতে গিয়ে ভিতিনিয়া তাঁর চরম পেশাদার মানসিকতার প্রশংসা করেন। এই ২৬ বছর বয়সী মিডফিল্ডারের মনে মনে ইচ্ছে, রোনালদোর শেষটা যেন বিশ্বকাপ জয় দিয়েই হয়, “রোনালদোর সাথে থাকতে পারাটা চমৎকার। ও ইতিহাসের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়। ওর সাথে ড্রেসিংরুম ভাগাভাগি করতে পারা, ওর কাছ থেকে প্রতিদিন শেখা এবং ওর পেশাদারত্ব খুব কাছ থেকে দেখতে পাওয়া আমার জন্য গর্বের। আশা করি, রোনালদোকে সাথে নিয়ে এবং ওর জন্যই আমরা এবার বিশ্বকাপ জিততে পারব।”
রোনালদোর কোন গুণটি সবচেয়ে বেশি টানে—এমন প্রশ্নে ভিতিনিয়া বলেন, “মূলত ফুটবলের প্রতি ওর দৃষ্টিভঙ্গি আমাকে অনুপ্রাণিত করে। ও ভীষণ পেশাদার ও খেলাটার প্রতি সম্পূর্ণ নিবেদিত। ও কোনো কিছুই ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দেয় না। মাঠে যখন নামে, এটা জেনেই নামে যে ও শতভাগ প্রস্তুত এবং দলের জন্য সম্ভাব্য সবকিছু করতে সক্ষম।”