BN

ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতায় এসেছে উইন্ডিজ

ম্যাচ জিতে সিরিজে সমতায় এসেছে উইন্ডিজ

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাজে পারফরম্যান্সের ধারায় তীব্র সমালোচনার মধ্যেই পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে

ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাজে পারফরম্যান্সের ধারায় তীব্র সমালোচনার মধ্যেই পাকিস্তানকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ওয়ানডে সিরিজে সমতা ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় তারা।

অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে টানা ৮ ম্যাচ হারের পর পাকিস্তানের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি সিরিজে হারের পরই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ক্রিকেটে যেন গভীর মন্দার সংকেত পাওয়া যাচ্ছে। সেই বিপর্যয় কাটাতে ক্যারিবিয়ান বোর্ড জরুরি ‘স্ট্র্যাটেজিক মিটিং’ ডেকেছে, যেখানে ক্লাইভ লয়েড, ভিভ রিচার্ডস, ডেসমন্ড হেইন্স, শিবনারাইন চান্দারপলসহ অনেক বড় তারকা ও বর্তমান দলের সিনিয়র ক্রিকেটার এবং কোচরা অংশ নিচ্ছেন। ত্রিনিদাদের হোটেলে সভার প্রথম দিনে মাঠে এসেছিল স্বস্তির এক জয়।

বৃষ্টির কারণে বিভক্ত দ্বিতীয় ওয়ানডেতে পাকিস্তান ৩৭ ওভারে ১৭১ রান করে থামে। ডাকওয়ার্থ-লুইস-স্টার্ন পদ্ধতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের লক্ষ্য নির্ধারিত হয় ৩৫ ওভারে ১৮১ রান। ১০ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেটে জয় তুলে নেয় তারা।

বল হাতে এক উইকেট শিকার করা রোস্টন চেইস ৪৯ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন এবং ম্যাচ সেরার পুরস্কার পান। এছাড়া ৩ উইকেট নেওয়া পেসার জেডেন সিলসের বোলিং ছিল উল্লেখযোগ্য।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে শুরুতেই ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং (১) ও এভিন লুইস (৭)কে হারায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দুজনেই হাসান আলির বলে ক্যাচ হয়ে আউট হন।

তিন নম্বর ব্যাটসম্যান কেসি কার্টি প্রথম ২৬ বলে মাত্র ৩ রান করে ক্রিজে নিস্তব্ধ ছিলেন এবং শেষে ৪২ বলে ১৬ রান করে আবরার আহমেদের গুগলিতে বোল্ড হন।

রান বাড়ানোর দায়িত্ব নিয়ে ছিলেন শেই হোপ ও শেরফেন রাদারফোর্ড। দুজনের জুটিতে মাত্র ৪০ বলে ৫৪ রান আসে। হোপ ৩৫ বলে ৩২ রান করে ফিরে যান। রাদারফোর্ড ৩৩ বলে ৪৫ রান করে ম্যাচের পেস বদলিয়ে দেন। মোহাম্মাদ নাওয়াজ তাঁকে ফিরিয়েছিলেন।

পাকিস্তানের দুই স্পিন অলরাউন্ডার সাইম আইয়ুব ও সালমান আলি আগার বোলিংয়ের সময় দল কিছুটা সম্ভাবনা দেখিয়েছিল, তবে শেষপর্যায়ে দুই স্পিনারের উপর ক্যারিবিয়ান ব্যাটসম্যানরা আক্রমণ চালিয়ে সুবিধা নিয়েছিলেন।

শেষ পর্যন্ত ৭২ বলে ৭৭ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে ম্যাচ জিতিয়ে দেন রোস্টন চেইস ও জাস্টিন গ্রেভস। চেইস অপরাজিত ৪৯ রানে থাকেন, আর গ্রেভস ৩১ বলে ২৬ রান করে মাঠ ছাড়েন।

পাকিস্তানের ইনিংস শুরু হয় টস হেরে ব্যাটিং দিয়ে। সাইম আইয়ুব ও আব্দুল্লাহ শাফিক ৩৭ রানের উদ্বোধনী জুটি গড়লেও গতি বৃদ্ধি করতে পারেননি। প্রথম ১০ ওভারে মাত্র ৫টি সিঙ্গল আসে।

সাইম ২৩ রানে আউট হন। এরপর বাবর আজম শূন্য রানে বোল্ড হন জেডেন সিলসের দুর্দান্ত বোলিংয়ে। শাফিক ২৬ রানে ফিরে যান। প্রথম ওয়ানডে উইকেট নেন বাঁহাতি পেসার জেডিয়াহ ব্লেডস।

মোহাম্মাদ রিজওয়ান ইনিংস থমকে যান, ৩৮ বলে ১৬ রান করেন। অন্যদিকে সালমান আলি আগার মাত্র ৯ রান করেন।

হুসাইন তালাত ৩১ রান করে ফেরেন, আর অভিষিক্ত হাসান নাওয়াজ অপরাজিত ৩০ বলে ৩৬ রান করে ম্যাচ সেরা হন। শেষ দিকে শাহিন শাহ আফ্রিদির একটি ছক্কা ও নাওয়াজের দুটি ছক্কায় পাকিস্তান ১৭০ রান ছুঁতে সক্ষম হয়, যা জয়ের জন্য যথেষ্ট ছিল না।

২০১৯ বিশ্বকাপের পর প্রথমবার ওয়ানডেতে পাকিস্তানকে হারালো ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

তিন ম্যাচের সিরিজ এখন ১-১ সমতায় এসে দাঁড়ালো।

পরবর্তী নির্ধারণী ম্যাচ একই মাঠে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

  • পাকিস্তান: ৩৭ ওভারে ১৭১/৭ (সাইম ২৩, শাফিক ২৬, বাবর ০, রিজওয়ান ১৬, তালাত ৩১, সালমান ৯, হাসান নাওয়াজ ৩৬*, মোহাম্মাদ নাওয়াজ ৫, আফ্রিদি ১১*; সিলস ৭-২-২৩-৩, ব্লেডস ৭-০-৪৬-১, শামার ৭-১-২৭-১, মোটি ৮-০-৩১-১, গ্রেভস ২-০-১৬-০, চেইস ৬-০-২৬-১)।
  • ওয়েস্ট ইন্ডিজ: (লক্ষ্য ৩৫ ওভারে ১৮১) ৩৩.২ ওভারে ১৮৪/৫ (কিং ১, লুইস ৭, কার্টি ১৬, হোপ ৩২, রাদারফোর্ড ৪৫, চেইস ৪৯*, গ্রেভস ২৬*; আফ্রিদি ৬-০-৩৫-০, হাসান ৬.২-০-৩৫-২, আবরার ৭-০-২৩-১, মোহাম্মাদ নাওয়াজ ৭-০-১৭-০, সাইম ৪-০-৩৩-০, সালমান ৩-০-৩৩-০)।

ফলাফল: ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৫ উইকেটে জয়ী।

ম্যান অব দা ম্যাচ: রোস্টন হেইস।

সর্বশেষ সংবাদ

চোট থেকে ফিরে মাঠে নামার পর প্রথমে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ।

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারলেও কোনো ধরনের ভয় বা দুশ্চিন্তা নেই

ফুটবল

চোট থেকে ফিরে মাঠে নামার পর প্রথমে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেননি

ফুটবল

চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ফাইনালের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তন এনেছে টুর্নামেন্ট কর্তৃপক্ষ। ইউরোপীয়

ক্রিকেট

নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারলেও কোনো ধরনের ভয় বা দুশ্চিন্তা নেই লিটন

ফুটবল

ফুটবল ফেডারেশনে সরকারি হস্তক্ষেপের কারণে ২০২২ সালের আগস্টে ভারতকে নিষিদ্ধ