BN

দাপুটে পারফরম্যান্সে চট্টগ্রামকে হারাল ঢাকা ক্যাপিটালস

দাপুটে পারফরম্যান্সে চট্টগ্রামকে হারাল ঢাকা ক্যাপিটালস

আগের আট ম্যাচে মিলিয়ে যেখানে মোট রান ছিল মাত্র ৬০, সেখান থেকে

আগের আট ম্যাচে মিলিয়ে যেখানে মোট রান ছিল মাত্র ৬০, সেখান থেকে শেষ ম্যাচে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক সাইফ হাসানকে দেখল দর্শকরা। পাঁচটি চার আর পাঁচটি ছক্কায় সাজানো আগ্রাসী ইনিংসে তিনি যেন সব হতাশার জবাব এক ম্যাচেই দিয়ে দিলেন।

টুর্নামেন্টের আগে আট ইনিংসে ৬০ রান—এর মধ্যে পাঁচবারই দু অঙ্কে পৌঁছানোর আগেই আউট। এমন হতাশাজনক পরিসংখ্যান নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন সাইফ। বিশ্বকাপের আগে নিজেকে প্রমাণ করার শেষ সুযোগ ছিল এই ম্যাচটি। পুরো মৌসুম জুড়েই ছিলেন নিষ্প্রভ, তবে শেষ ম্যাচে এসে ঠিকই জ্বলে উঠলেন তিনি। এক ইনিংসেই ছাড়িয়ে গেলেন আগের সব ম্যাচের মোট রান। তার এই দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ে হতাশায় ভরা মৌসুমের শেষটা জয় দিয়ে রাঙাতে পারল ঢাকা ক্যাপিটালসও।

বিপিএলের প্রাথমিক পর্বের শেষ ম্যাচে মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামে রোববার চট্টগ্রাম রয়্যালসকে ৪২ রানে হারায় ঢাকা। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে ঢাকার সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭০ রান।

ইনিংসের শুরুতে উসমান খান কিছু ঝলক দেখালেও থিতু হতে পারেননি। মাত্র ৬ বলে ১৬ রান করে তানভির ইসলামের বলে সীমানায় ক্যাচ দেন তিনি। অন্য প্রান্তে সাইফ শুরুটা করেছিলেন বেশ ধীরগতিতে—প্রথম আট বলে রান ছিল মাত্র তিন। তবে পঞ্চম ওভারে হঠাৎই বদলে যায় দৃশ্যপট। আমির জামালের এক ওভারেই চারটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকিয়ে আগ্রাসী রূপে আবির্ভূত হন সাইফ। পরের ওভারে মুকিদুল ইসলামকে মারেন চোখধাঁধানো দুটি ছক্কা।

হাসান নাওয়াজকে ছক্কা মেরে মাত্র ২৯ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। ১০ ওভারে ঢাকা তখন ৯৪ রানে পৌঁছে গেছে।

সাইফের সঙ্গী জুবাইদ আকবারি শুরুতে বেশ ধীর ছিলেন। বেশির ভাগ সময়ই শট খেলতে ভুগেছেন তিনি। পরে অবশ্য শেখ মেহেদি হাসান ও তানভির ইসলামের বলে দুটি ছক্কা মারেন। এই জুটির রান দাঁড়ায় ৬১ বলে ৯০। আকবারি আউট হন ৩০ বলে ২৯ রান করে।

এরপর দ্রুতই উইকেট হারাতে থাকে ঢাকা। আকবারির বিদায়ের পরের বলেই শামীম হোসেনকে ফেরান তানভির। কিছুক্ষণ পর অফ স্টাম্পের অনেক বাইরে থাকা মুকিদুলের বলে স্কুপ খেলতে গিয়ে শর্ট ফাইন লেগে ক্যাচ দেন সাইফ। ৪৪ বলে ৭৩ রানের দুর্দান্ত ইনিংসটি সেখানেই শেষ হয়।

শেষ দিকে বড় ঝড় তুলতে পারেননি ঢাকার ব্যাটাররা। সাব্বির রহমান ৯ বলে ৯, অধিনায়ক মোহাম্মদ মিঠুন ১২ বলে ১৫ রান করেন। শরিফুল ইসলামের এক ওভারেই আউট হন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন ও বিপিএলে প্রথম ম্যাচ খেলতে নামা তোফায়েল আহমেদ। আমির জামালের করা শেষ ওভারেও পড়ে দুটি উইকেট। শেষ চার উইকেট হারিয়ে ঢাকা থামে ১৯.৫ ওভারে ১৭০ রানে।

লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে চট্টগ্রাম রয়্যালস। ইনিংসের প্রথম বলেই তাসকিন আহমেদের ডেলিভারিতে স্টাম্প হারান মোহাম্মদ হারিস। প্রথম বলে বাউন্ডারি হাঁকানো মাহমুদুল হাসান জয় থেমে যান পরের ওভারেই। সাদমান ইসলাম আবারও রানের খাতা খুলতে ব্যর্থ হন।

কিছুটা লড়াই করার চেষ্টা করেন নাঈম শেখ (২১ বলে ১৮) ও হাসান নাওয়াজ (২১ বলে ১৯)। তবে অধিনায়ক শেখ মেহেদি হাসান (৩) কিংবা আসিফ আলি (১৮ বলে ১২) কেউই দলকে টেনে তুলতে পারেননি। এক পর্যায়ে ৭৮ রানেই ৮ উইকেট হারিয়ে বসে চট্টগ্রাম, তখন একশ রানও মনে হচ্ছিল দূরের পথ।

তবে শেষদিকে আমির জামাল ও শরিফুল ইসলামের ব্যাটে কিছুটা লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যায়। নবম উইকেটে ২১ বলে ৫০ রানের জুটি গড়েন তারা, যা বিপিএলের ইতিহাসে তৃতীয় সর্বোচ্চ নবম উইকেট জুটি। ২৬ বলে ৪২ রান করা জামাল শেষ ওভারে আউট হলে ম্যাচের পরিণতি প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায়। পরের বলেই মুকিদুল ইসলামকে বোল্ড করে নিজের চতুর্থ উইকেট নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ম্যাচ শেষ করেন মোহাম্মদ সাইফ উদ্দিন।

ঢাকার হয়ে সাইফ উদ্দিন ২০ রানে নেন চার উইকেট—বিপিএলে এটি তার ক্যারিয়ারসেরা বোলিং। তিনটি উইকেট নেন তাসকিন আহমেদ।

এই জয়ে ১০ ম্যাচে তিনটি জয় নিয়ে টেবিলের তলানি থেকে উঠে দুইয়ে আসর শেষ করে ঢাকা ক্যাপিটালস। অন্যদিকে হারলেও খুব একটা ক্ষতি হয়নি চট্টগ্রাম রয়্যালসের। আগেই প্লে-অফ নিশ্চিত করেছিল তারা। বড় ব্যবধানে হার সত্ত্বেও শীর্ষ দুয়ে থেকেই শেষ করেছে চট্টগ্রাম, যার অর্থ ফাইনালে ওঠার দুটি সুযোগ পাচ্ছে তারা। তবে মূল লড়াইয়ের আগে টানা দুই ম্যাচের হার যে দুশ্চিন্তার কারণ, তা বলাই বাহুল্য।

ম্যাচসেরা নির্বাচিত হন দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করা সাইফ হাসান।

সর্বশেষ সংবাদ

মাইকেল ক্যারিকের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবারও

আক্রমণভাগ কিংবা মাঝমাঠের কেউ যখন ফিনিশিংয়ে সুবিধা করতে পারছিলেন

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ বলে অপরাজিত

ফুটবল

মাইকেল ক্যারিকের জাদুকরী ছোঁয়ায় বদলে যাওয়া ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আবারও জয়ের

ফুটবল

আক্রমণভাগ কিংবা মাঝমাঠের কেউ যখন ফিনিশিংয়ে সুবিধা করতে পারছিলেন না

ক্রিকেট

কলকাতার ইডেন গার্ডেন্সে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫০ বলে অপরাজিত ৯৭

ক্রিকেট

সন্তানসম্ভবা স্ত্রীর পাশে থাকতে বিশ্বকাপের মাঝপথেই দেশে ফিরেছেন ম্যাট হেনরি।