দুটি নতুন দল যুক্ত হওয়ায় খেলোয়াড় ধরে রাখার (রিটেনশন) নিয়মেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এক দশক আগে যাত্রার পর থেকে যে ড্রাফট পদ্ধতিতে খেলোয়াড় বাছাই করত পিএসএল, সেটির ইতি টেনে এবার নিলামভিত্তিক লিগে রূপ নিচ্ছে টুর্নামেন্টটি। দীর্ঘদিন ধরে দল গঠনের সেরা উপায় নিয়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ও লিগ কর্তৃপক্ষের মধ্যে অনিশ্চয়তা ও মতবিরোধ চলছিল। শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত হয়, পুরো কাঠামোতেই আমূল সংস্কার প্রয়োজন।
এর আগে পিসিবি ড্রাফট চালু রাখা কিংবা ড্রাফট ও নিলামের মাঝামাঝি একটি পদ্ধতি—যাকে তারা ‘ড্রশন’ নাম দিয়েছিল—নিয়ে ভাবনাচিন্তা করলেও শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নতুন ব্যবস্থায় যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। পিসিবির এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই পরিবর্তনের লক্ষ্য হলো “প্রতিযোগিতার ভারসাম্য বাড়ানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং খেলোয়াড়দের আয়ের সুযোগ আরও বিস্তৃত করা।”
এ সংস্কারের অংশ হিসেবে খেলোয়াড় ধরে রাখার নিয়মেও বড় পরিবর্তন এসেছে। এতদিন ছয়টি ফ্র্যাঞ্চাইজি আগের মৌসুম থেকে সর্বোচ্চ আটজন খেলোয়াড় ধরে রাখতে পারত। তবে হায়দরাবাদ ও সিয়ালকোট—এই দুটি নতুন দল যুক্ত হওয়ায় সেই নিয়ম আর কার্যকর রাখা সম্ভব হয়নি। শুক্রবারের সাধারণ পরিষদের বৈঠকে এ নিয়ে উত্তপ্ত আলোচনা হয়। পুরোনো দলগুলো নিজেদের সেরা খেলোয়াড় ধরে রাখতে চাইলেও নতুন দলগুলো চেয়েছিল শক্তিশালী খেলোয়াড়দের একটি বড় পুল থেকে বাছাই করার সুযোগ।
এই দ্বন্দ্বের মাঝখানে সমঝোতার পথ খুঁজেছে পিএসএল। রিটেনশনের সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে চার করা হয়েছে এবং প্রতিটি ক্যাটাগরি থেকে সর্বোচ্চ একজন খেলোয়াড় ধরে রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো দল যদি একই ক্যাটাগরির একাধিক তারকা খেলোয়াড় রাখতে চায়, সেটি আর সম্ভব হবে না। যেমন, লাহোর কালান্দার্স যদি শাহিন আফ্রিদি ও হারিস রউফ—দুজনকেই ধরে রাখতে চায়, তাহলে তা কেবল তখনই সম্ভব হবে, যদি তারা দুজন একই সর্বোচ্চ প্লাটিনাম ক্যাটাগরিতে না থাকেন। চারটি রিটেনশনের মধ্যে থাকবে একটি করে প্লাটিনাম, ডায়মন্ড, গোল্ড ও সিলভার ক্যাটাগরির খেলোয়াড়। তবে কোন খেলোয়াড় কোন ক্যাটাগরিতে থাকবেন, তা এখনও ঘোষণা করা হয়নি।
রিটেনশনের বাইরে থাকা খেলোয়াড়রা ওপেন পুলে চলে যাবেন। সেখান থেকে হায়দরাবাদ ও সিয়ালকোট নিলামের আগে চারজন করে খেলোয়াড় দলে নেওয়ার সুযোগ পাবে, যাতে তারা অন্য ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে সমান অবস্থানে যেতে পারে। এই খেলোয়াড় বাছাই ড্রাফট পদ্ধতিতে হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট করা হয়নি।
এ ছাড়া প্রতিটি দল নিলামের বাইরে সরাসরি একজন খেলোয়াড় চুক্তিবদ্ধ করতে পারবে। একই সঙ্গে দলগুলোর মোট বাজেট বাড়িয়ে ১৬ লাখ মার্কিন ডলার করা হয়েছে, যা আগে ছিল প্রায় ১১ লাখ ডলার। সরাসরি চুক্তির এই সুযোগ কেবল তাদের জন্য প্রযোজ্য, যারা আগের মৌসুমে পিএসএলে অংশ নেননি।
এই সংস্কারগুলো পিএসএলের ইতিহাসে খেলোয়াড় নিয়োগ ব্যবস্থায় সবচেয়ে বড় পরিবর্তন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। নতুন নিয়মে দলবদলের সংখ্যা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি হতে পারে। অতীতে পিসিবি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর বৈঠকে এসব পরিবর্তন নিয়ে আপত্তি উঠেছিল বলেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দেরি হয়েছে।
এখনও নিলামের নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করা হয়নি। একই সঙ্গে মালতান সুলতান্সের মালিকানা কাঠামোও চূড়ান্ত নয়। আগের মালিক আলী তারিন চুক্তি নবায়ন না করায় পিসিবি প্রথমে দলটি নিজেরাই পরিচালনার ঘোষণা দিয়েছিল। তবে হায়দরাবাদ ও সিয়ালকোটের ফ্র্যাঞ্চাইজির বিক্রিমূল্য প্রত্যাশার চেয়ে অনেক বেশি হওয়ায় মালতান সুলতান্সকেও নিলামে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় টেকনিক্যাল বিড জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩০ জানুয়ারি।