বাঁহাতি স্পিনার মালিন্দা পুষ্পকুমারা বর্তমানে সক্রিয় বোলারদের মধ্যে মাত্র তিনজনের একজন, যাঁরা প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১,০০০ উইকেটের মাইলফলক ছুঁয়েছেন।
মুথিয়া মুরালিধরন (১,৩৭৪), রঙ্গনা হেরাথ (১,০৮০) ও দিনুকা হেট্টিয়ারাচ্চি (১,০০১)–এর পর চতুর্থ শ্রীলঙ্কান হিসেবে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১,০০০ উইকেটের কীর্তি গড়লেন মালিন্দা পুষ্পকুমারা। ৩৮ বছর বয়সী এই বাঁহাতি স্পিনার শ্রীলঙ্কা মেজর লিগের তিন দিনের ম্যাচে মুর্স স্পোর্টস ক্লাবের বিপক্ষে বাদুরেলিয়া স্পোর্টস ক্লাবের হয়ে খেলতে নেমেই এই ঐতিহাসিক মাইলফলকে পৌঁছান।
ম্যাচ শুরুর আগে পুষ্পকুমারার উইকেট ছিল ৯৯৮টি। ম্যাচ শেষে তাঁর বোলিং ফিগার দাঁড়ায় ৭ উইকেট ১৩৭ রানে। তাঁর এই পারফরম্যান্সে ভর করেই বাদুরেলিয়া ইনিংস ও ৪৬ রানে জয় পায়।
ম্যাচের শেষ দিনের সকালে মুর্সের ব্যাটার পাসিন্দু সূরিয়াবান্দারাকে ক্লিন বোল্ড করে নিজের ১,০০০তম উইকেটটি নেন পুষ্পকুমারা।
এই কীর্তির মাধ্যমে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে ১,০০০ উইকেট নেওয়া ২১৮তম খেলোয়াড় হলেন তিনি। একই সঙ্গে বর্তমানে খেলা চালিয়ে যাওয়া বোলারদের মধ্যে এই মাইলফলক ছোঁয়া মাত্র তিনজনের একজন পুষ্পকুমারা। গত বছর সাইমন হার্মার এই কীর্তি গড়েন, আর জেমস অ্যান্ডারসন তা করেছিলেন ২০২১ সালে। সক্রিয় বোলারদের মধ্যে এর পরের অবস্থানে আছেন অস্ট্রেলিয়ার নাথান লায়ন, যার প্রথম শ্রেণির উইকেট সংখ্যা ৮৬০।
২০০৬ সালের নভেম্বর মাসে প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে অভিষেক হওয়া পুষ্পকুমারা এখন পর্যন্ত ১৭৩টি ম্যাচ খেলেছেন। ক্যারিয়ারে তিনি ৮৬ বার পাঁচ উইকেট এবং ২৮ ম্যাচে এক ইনিংসে ১০ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েছেন। শ্রীলঙ্কার প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে সেরা বোলিং ফিগারও তাঁর দখলে—২০১৯ সালে কলম্বো ক্রিকেট ক্লাবের হয়ে ১০ উইকেট ৩৭ রান। প্রমোদয়া উইক্রমাসিংহের পর দ্বিতীয় শ্রীলঙ্কান হিসেবে তিনি এই কৃতিত্ব অর্জন করেন।
২০ বছরের দীর্ঘ ঘরোয়া ক্যারিয়ারে একাধিকবার ঘরোয়া ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারির তালিকায় শীর্ষে ছিলেন পুষ্পকুমারা। তবে তাঁর টেস্ট ক্যারিয়ার খুব দীর্ঘ হয়নি। মূলত মুরালিধরন ও পরবর্তী সময়ে হেরাথের সঙ্গে সময়ের সংঘাতে জাতীয় দলে নিয়মিত সুযোগ পাননি তিনি। ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে চারটি টেস্ট খেলেছেন পুষ্পকুমারা, যেখানে তাঁর সংগ্রহ ১৪ উইকেট, গড় ৩৭.১৪।