BN

দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপাকে ‘স্পেশাল’ বললেন শান্ত

দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হয়ে শিরোপাকে ‘স্পেশাল’ বললেন শান্ত

গত আসরেও ফরচুন বরিশালের হয়ে বিপিএলের শিরোপা জিতেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে

গত আসরেও ফরচুন বরিশালের হয়ে বিপিএলের শিরোপা জিতেছিলেন নাজমুল হোসেন শান্ত। তবে এবারের ট্রফি এসেছে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের জার্সিতে—আর সেই কারণেই এই শিরোপার গুরুত্ব তার কাছে আলাদা।

ফাইনাল শেষ, পুরস্কার বিতরণীও শেষ। কিন্তু সংবাদ সম্মেলনে আসতে বেশ দেরিই হয়ে গেল। রাত সাড়ে ১১টার দিকে অবশেষে হাজির হলেন রাজশাহী ওয়ারিয়র্স অধিনায়ক শান্ত। সেখানেও অপেক্ষা শেষ হয়নি তখনও। চ্যাম্পিয়ন দলের অধিনায়ক কথা বলবেন, অথচ সামনে ট্রফি নেই! কিছুক্ষণ পর মিডিয়া ম্যানেজার ঝকঝকে ট্রফিটি টেবিলে রেখে গেলেন। ট্রফিটা চোখের সামনে আসতেই শান্তর মুখে ফুটে উঠল প্রশান্তির হাসি। পাশে ট্রফি রেখেই রাজশাহী অধিনায়ক বললেন, এই অর্জন তার হৃদয়ে কতটা জায়গা করে নিয়েছে।

শিরোপার স্বাদ তার কাছে নতুন নয়। গত আসরেও তো চ্যাম্পিয়ন দলের অংশ ছিলেন তিনি। তবে জয় মানেই যে সব সময় এক রকম অনুভূতি দেয় না, সেটা এবার হাড়ে হাড়ে টের পেয়েছেন শান্ত। ফাইনালের পর সেই অনুভূতির কথাই তুলে ধরলেন তিনি।

“চ্যাম্পিয়ন হলে তো ভালো লাগেই। গত বছরও ভালো লেগেছে। কিন্তু এবার অবদান রাখতে পারাটা বাড়তি আনন্দ দিয়েছে। ক্রিকেটার হিসেবে, অধিনায়ক হিসেবে আমি মনে করি এ বছর নিজের ভূমিকা ঠিকভাবে রাখতে পেরেছি। অধিনায়ক হিসেবে এটা আমার প্রথম বিপিএল, তাই জয়টা আমার কাছে অনেক স্পেশাল।”

গত আসরে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে ফরচুন বরিশালে খেলেছিলেন শান্ত। তারকায় ভরা সেই দলে খুব বেশি সুযোগ পাননি তিনি। পাঁচটি ম্যাচ খেললেও পারফরম্যান্স ছিল হতাশাজনক। কিন্তু এবার গল্পটা একেবারেই ভিন্ন। টুর্নামেন্ট শুরুই করেছেন দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরি দিয়ে। যদিও সেই ফর্ম পুরোটা সময় ধরে রাখতে পারেননি, তবুও তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩৫৫ রান—যা তাকে টুর্নামেন্টের চতুর্থ সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের জায়গায় বসিয়েছে।

তবে রাজশাহীর শিরোপা জয়ে শান্তর অবদান শুধু ব্যাট হাতে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি ছিলেন দলের অধিনায়ক, একজন প্রকৃত নেতা। সেই নেতৃত্ব শুধু মাঠেই নয়, মাঠের বাইরেও ছিল চোখে পড়ার মতো। টুর্নামেন্ট শুরুর অনেক আগেই শুরু হয়েছিল তার পরিকল্পনা—দল গঠন, সমন্বয়, যোগাযোগ, সবকিছুতেই তিনি ছিলেন সরাসরি যুক্ত।

তবুও পুরো কৃতিত্বটা নিজের কাঁধে নিতে চান না শান্ত। তার কথাতেই স্পষ্ট, এই সাফল্য এসেছে দলগত প্রচেষ্টায়।

“এটা সত্যিই দারুণ একটা যাত্রা ছিল। যখন দল নিয়ে ভাবনা শুরু হয়, মালিকপক্ষ থেকে ফোন আসে, তখনই দায়িত্বের বিষয়টা পরিষ্কার ছিল। শুরু থেকেই পরিকল্পনা করা হয়েছিল। জানতাম হান্নান ভাই প্রধান কোচ হবেন। তার সঙ্গে আলোচনা করেই আমরা ড্রাফটে গিয়েছি, আর ড্রাফটও আমাদের ভালো হয়েছে। সিনিয়র-জুনিয়র মিলিয়ে একটা দারুণ কম্বিনেশন ছিল আমাদের।”

তিনি আরও বলেন, “শেষ পর্যন্ত মাঠের ক্রিকেটটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। দল যত ভালোই হোক, মাঠে পারফর্ম না করলে কিছুই আসে না। আমরা মাঠে সেই ইমপ্যাক্ট রাখতে পেরেছি। প্রত্যেকে যার যার জায়গা থেকে নিজের দায়িত্বটা পালন করেছে। এই কৃতিত্ব পুরো দলের। পুরো টুর্নামেন্টটাই অসাধারণ ছিল, আর আল্লাহর রহমতে শেষ পর্যন্ত আমরা কাপ জিততে পেরেছি।”

এই শিরোপা শান্তর কাছে বিশেষ হওয়ার আরেকটি বড় কারণ আছে। তিনি রাজশাহীর সন্তান হলেও এর আগে কখনও নিজের জেলার হয়ে বিপিএল খেলতে পারেননি। কুমিল্লা, খুলনা, সিলেট কিংবা বরিশালের হয়ে খেলেছেন, কিন্তু রাজশাহীর হয়ে নয়। সেই অপূর্ণতা এবার পূর্ণতায় রূপ নিয়েছে।

“এই জয়ের সঙ্গে অনেক আবেগ জড়িয়ে আছে। রাজশাহীর হয়ে আগে কখনও খেলার সুযোগ হয়নি। এবার রাজশাহীর হয়ে খেলেছি, অধিনায়ক ছিলাম, আবার দলকে শিরোপাও এনে দিতে পেরেছি—এটা সত্যিই বাড়তি ভালো লাগার। দায়িত্বটা বড় ছিল। রাজশাহীর মানুষের জন্য কিছু দিতে চেয়েছিলাম, আল্লাহর রহমতে সেটা পেরেছি।”

শেষে তিনি কৃতজ্ঞতা জানান দলের কর্ণধার ও ম্যানেজমেন্টকেও।

“আমাদের মালিকপক্ষ আর ম্যানেজমেন্ট খুব সাপোর্টিভ ছিলেন। আশা করি তারাও অনেক খুশি। সব মিলিয়ে মনে হয়, আমরা একটা দারুণ টুর্নামেন্ট কাটাতে পেরেছি।”

সর্বশেষ সংবাদ

দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটসালের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আরবিট্রেশন

বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের অন্যতম কর্ণধার ইশতিয়াক সাদেক ছিলেন

ফুটবল

দক্ষিণ এশিয়ার মেয়েদের ফুটসালের প্রথম আসরেই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ। পুরো

ক্রিকেট

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশ না নেওয়ার বিষয়ে কোনো ধরনের আরবিট্রেশন বা

ক্রিকেট

বিপিএলের দল রংপুর রাইডার্সের অন্যতম কর্ণধার ইশতিয়াক সাদেক ছিলেন বিসিবির

ক্রিকেট

দেশের ক্রিকেট যখন টালমাটাল ও অনিশ্চয়তার ভেতর দিয়ে যাচ্ছে, ঠিক