৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের গর্জনের সামনে নিজেদের ইতিহাস আরও সমৃদ্ধ করল পার্থ স্কর্চার্স। বিগ ব্যাশ লিগের ষষ্ঠ শিরোপা জিতে উৎসবে মেতেছে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে সফল ফ্র্যাঞ্চাইজিটি।
বেন ডোয়ার্শিসকে লং-অফ দিয়ে ছক্কায় উড়িয়ে জয়ের শেষ সিলমোহর বসান জশ ইংলিস। অপর প্রান্ত থেকে ছুটে এসে সতীর্থকে জড়িয়ে ধরেন কুপার কনোলি। মুহূর্তের মধ্যেই ডাগআউট থেকে দৌড়ে আসেন মিচেল মার্শ, অ্যাস্টন টার্নাররা। মাঠজুড়ে তখন শুধু উল্লাস—স্টিভেন স্মিথ, মিচেল স্টার্কদের হতাশা আর পার্থ স্কর্চার্সের শিরোপা আনন্দ।
বিগ ব্যাশের ১৫তম আসরের ফাইনালে রোববার অপ্টাস স্টেডিয়ামে সিডনি সিক্সার্সকে ৬ উইকেটে হারায় পার্থ স্কর্চার্স। আগে ব্যাট করে সিক্সার্স গুটিয়ে যায় ১৩২ রানে। এরপর ১৫ বল হাতে রেখেই লক্ষ্য ছুঁয়ে ফেলে পার্থ।
অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে আগে থেকেই সবচেয়ে বেশি শিরোপা জেতা দল পার্থ স্কর্চার্স। ঘরের মাঠে ৫৫ হাজারের বেশি দর্শকের সামনে ষষ্ঠবার চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের আধিপত্য আরও জোরালো করল তারা।
বিগ ব্যাশের ফাইনালে এটি ছিল সিডনি সিক্সার্সের বিপক্ষে পার্থের ষষ্ঠ লড়াই—এর মধ্যে চারবারই জয় তুলে নিল স্কর্চার্স।
এই জয়ের নায়ক বাঁহাতি পেসার ডেভিড পেইন। দুর্দান্ত বোলিংয়ে চার ওভারে মাত্র ১৮ রান খরচায় ৩ উইকেট নেন তিনি। তাকে দারুণভাবে সহায়তা করেন জাই রিচার্ডসন, যিনি ৩২ রানে শিকার করেন ৩ উইকেট।
ম্যাচে কোনো ফিফটি হয়নি। পার্থের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৪ রান করেন মিচেল মার্শ—২টি ছক্কা ও ৪টি চারে সাজানো ইনিংসটি আসে ওপেনার হিসেবে। সিডনি সিক্সার্সের পক্ষে কেউই ২৫ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি।
চতুর্থ শিরোপার লক্ষ্যে অষ্টম ফাইনাল খেলতে নামা সিডনি সিক্সার্স মূলত ব্যাটিং ব্যর্থতার কারণেই পিছিয়ে পড়ে। টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দ্বিতীয় ওভারেই ড্যানিয়েল হিউজকে হারায় তারা।
ভালো ছন্দে থাকা স্টিভেন স্মিথকে এলবিডব্লিউ করেন অ্যারন হার্ডি। ১৩ বলে ২৪ রান করা স্মিথ রিভিউ নিয়েও রক্ষা পাননি। এরপর থিতু হয়ে যাওয়া জশ ফিলিপির ক্যাচ নেন পেইন।
পরের ওভারে জোড়া আঘাত হানেন পেইন—অধিনায়ক মোইজেস হেনরিকেস ও ল্যাচলান শ দুজনই ফেরেন মার্শের হাতে ক্যাচ দিয়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি সিক্সার্স।
১৩৩ রানের লক্ষ্যে নেমে প্রথম বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে শুরু করেন মার্শ। টুর্নামেন্টজুড়ে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফিন অ্যালেনও দ্রুত রান তুলতে থাকেন। দুজনের ব্যাটে ওভারপ্রতি প্রায় ১০ রান করে আসে।
নবম ওভারে ৮০ রানের উদ্বোধনী জুটি ভাঙে অ্যালেনের বিদায়ে। মিচেল স্টার্কের বলে এডওয়ার্ডসের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৩৬ রান করা এই নিউ জিল্যান্ড ওপেনার। এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে ৪৬৬ রান করে টুর্নামেন্ট শেষ করেন তিনি।
এরপর টানা দুই ওভারে হার্ডি, মার্শ ও টার্নার ফিরলেও জয়ের পথে আর বাধা আসেনি। কুপার কনোলি ও জশ ইংলিস অনায়াসে বাকি রান তুলে নেন।
টুর্নামেন্ট সেরার পুরস্কার জিতেছেন মেলবোর্ন স্টার্সের স্যাম হার্পার। ১১ ম্যাচে এক সেঞ্চুরি ও দুই ফিফটিতে করেন ৩৮১ রান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- সিডনি সিক্সার্স: ২০ ওভারে ১৩২
- পার্থ স্কর্চার্স: ১৭.৩ ওভারে ১৩৩/৪
ফল: পার্থ স্কর্চার্স ৬ উইকেটে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ডেভিড পেইন
ম্যান অব দা টুর্নামেন্ট: স্যাম হার্পার