প্রায় একার লড়াইয়ে প্রিটোরিয়া ক্যাপিটালসকে লড়াই করার মতো পুঁজি এনে দিয়েছিলেন ডেওয়াল্ড ব্রেভিস। শুরুতে তার সতীর্থদের বোলিং দেখে মনে হচ্ছিল, এই রানই হয়তো যথেষ্ট হবে। কিন্তু পঞ্চম উইকেটে ম্যাথু ব্রিটস্কি ও ট্রিস্টান স্টাবসের অবিচ্ছিন্ন শতরানের জুটি সব হিসাব বদলে দেয়। তাদের ব্যাটেই এসএ টোয়েন্টিতে তৃতীয় শিরোপা নিশ্চিত করে সানরাইজার্স ইস্টার্ন কেপ।
কেপ টাউনের নিউল্যান্ডসে রোববারের ফাইনালে ৬ উইকেটের জয় পায় ইস্টার্ন কেপ। প্রিটোরিয়ার করা ১৫৮ রানের লক্ষ্য তারা চার বল হাতে রেখেই টপকে যায়।
দক্ষিণ আফ্রিকার এই ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে চার আসরেই ফাইনাল খেলা ইস্টার্ন কেপ গতবার একপেশে ফাইনালে এমআই কেপ টাউনের কাছে হেরেছিল। এবার সেই হতাশা ভুলে শিরোপা পুনরুদ্ধার করল দলটি।
২০২৩ সালের ফাইনালে মাত্র ২ রানে হেরেছিল প্রিটোরিয়া। এবার ব্রেভিসের সেঞ্চুরিতে আবারও স্বপ্ন দেখলেও শেষ পর্যন্ত তা ধরে রাখতে পারেনি তারা। পঞ্চম উইকেটে ৬৫ বলে ১১৪ রানের জুটিতে ব্রিটস্কি ও অধিনায়ক স্টাবস দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দেন।
৭টি ছক্কা ও ৮টি চারে ৫৬ বলে ১০১ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেললেও ফাইনালের সেরা খেলোয়াড় হন ব্রেভিসই।
নিউল্যান্ডসে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় প্রিটোরিয়া। শূন্য রানে কনর এস্টেজেন ও ১ রানে শেই হোপ ফিরে যান। প্রথম ৭ বলেই মাত্র ১ রানে দুই উইকেট হারিয়ে বিপদে পড়ে দলটি।
সেখান থেকে ব্রেভিসের ব্যাটে ঘুরে দাঁড়ায় প্রিটোরিয়া। তৃতীয় উইকেটে ব্রাইস পারসন্সের সঙ্গে ৬৬ বলে ৯৮ রানের জুটি গড়েন তিনি। ১২ ওভারে ২ উইকেটে ৯৮ রান থাকলেও শেষ ৮ ওভারে মাত্র ৬০ রান যোগ করতে পারে দলটি।
৩০ বলে ৩০ রান করা পারসন্স রান আউট হলে ভাঙে সেই জুটি। এরপর আর কেউ বড় অবদান রাখতে না পারলেও প্রায় একাই দলকে দেড়শ ছাড়িয়ে নেন ব্রেভিস। ৫৩ বলে নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন তিনি, যা টি-টোয়েন্টিতে তার তৃতীয় শতক। শেরফেন রাদারফোর্ড করেন ১১ বলে ১৭ রান।
বোলিংয়ে ইস্টার্ন কেপের হয়ে দুর্দান্ত ছিলেন মার্কো ইয়ানসেন। ৪ ওভারে মাত্র ১০ রান দিয়ে নেন ৩ উইকেট। আনরিখ নরকিয়া পান ১টি উইকেট।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম ওভারেই জনি বেয়ারস্টোকে হারায় ইস্টার্ন কেপ। পরে কুইন্টন ডি কক ও ব্রিটস্কির জুটিতে ধাক্কা সামাল দেয় তারা। পাওয়ার প্লের শেষ বলে ডি কক আউট হলে ভাঙে ৩৪ রানের জুটি। দ্রুত আরও দুটি উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় দলটি।
৪৮ রানে ৪ উইকেট হারানো অবস্থায় ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেন ব্রিটস্কি ও স্টাবস। শেষ তিন ওভারে প্রয়োজন ছিল ৪২ রান। ১৮তম ওভারে গিডিয়ন পিটার্সের কাছ থেকে ২১ রান তুলে সমীকরণ সহজ করেন তারা। এরপর লুঙ্গি এনগিডির ওভারে আসে ১২ রান।
শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ৯ রান। পারসন্সের প্রথম দুই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে ম্যাচ শেষ করে দেন স্টাবস। ৪১ বলে ৪ ছক্কা ও ২ চারে ৬৩ রান করেন তিনি। ব্রিটস্কি অপরাজিত থাকেন ৪৯ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৬৮ রানে।