দেড়শর বেশি রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে আভিশেক শার্মা ও সুরিয়াকুমার যাদব উপহার দেন দুটি বিধ্বংসী ইনিংস।
বোলারদের সম্মিলিত নৈপুণ্যে আগে প্রতিপক্ষকে নিয়ন্ত্রণে রাখে ভারত। এরপর ব্যাট হাতে ঝড় তুলে মাত্র ১০ ওভারেই দেড়শ ছাড়ানো লক্ষ্য টপকে যায় স্বাগতিকরা। আভিশেক ও সুরিয়াকুমারের দুই পঞ্চাশোর্ধ্ব ইনিংসে একেবারেই উড়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
গুয়াহাটিতে রোববার সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৮ উইকেটের দাপুটে জয় পায় ভারত। সফরকারীদের করা ১৫৩ রান তারা মাত্র ১০ ওভারেই পেরিয়ে যায়।
আইসিসির পূর্ণ সদস্য দেশগুলোর মধ্যে দেড়শর বেশি রান তাড়া করে এত বল হাতে রেখে জয়—এমন কীর্তি ভারতের আগে আর কেউ গড়তে পারেনি। এর আগে ২০২৪ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে ৩৭ বল বাকি থাকতে জিতেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে প্রথম তিন ম্যাচ জিতে পাঁচ ম্যাচের সিরিজ আগেভাগেই নিজেদের করে নেয় সুরিয়াকুমারের দল। একই সঙ্গে টানা ১১টি টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়ের রেকর্ডে যৌথভাবে শীর্ষে উঠল ভারত। ২০১৬ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানও টানা ১১টি সিরিজ জিতেছিল।
আগের ম্যাচে গোল্ডেন ডাকের হতাশা ভুলে গিয়ে এদিন পুরোপুরি বিধ্বংসী রূপে দেখা যায় আভিশেক শার্মাকে। বাঁহাতি ওপেনার ৫ ছক্কা ও ৭ চারে মাত্র ২০ বলে অপরাজিত ৬৮ রান করেন। ইনিংসের পথে ১৪ বলেই ফিফটি ছুঁয়ে ফেলেন তিনি—যা আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ভারতীয়দের মধ্যে দ্বিতীয় দ্রুততম। সব দল মিলিয়ে এটি যৌথভাবে তৃতীয় দ্রুততম ফিফটি। এই রেকর্ডে সবার ওপরে রয়েছেন ইউভরাজ সিং, যিনি ২০০৭ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ১২ বলে ফিফটি করেছিলেন।
চলতি সিরিজে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করে দলের জয় নিশ্চিত করেন অধিনায়ক সুরিয়াকুমার যাদব। ৩ ছক্কা ও ৬ চারে ২৬ বলে অপরাজিত ৫৭ রান করেন তিনি। আভিশেকের সঙ্গে দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ বলে ১০২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন সুরিয়াকুমার।
টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় নিউজিল্যান্ড। তৃতীয় বলেই মিড-অনে হার্দিক পান্ডিয়ার দুর্দান্ত ক্যাচে আউট হন ডেভন কনওয়ে। পরের ওভারে রাচিন রাভিন্দ্রাকেও ফিরিয়ে দেন পান্ডিয়া। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে টিম সাইফার্টকে বোল্ড করে দেন জাসপ্রিত বুমরাহ।
৩৪ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর দলকে সামাল দেওয়ার চেষ্টা করেন মার্ক চ্যাপম্যান ও গ্লেন ফিলিপস। চতুর্থ উইকেটে ৫৩ রানের জুটি গড়েন তারা। প্রায় এক বছর পর ভারতের হয়ে খেলতে নামা রবি বিষ্ণই ভাঙেন সেই জুটি। ৩২ রান করা চ্যাপম্যানকে কট বিহাইন্ড করেন তিনি।
এরপর ড্যারিল মিচেলকে ফেরান হার্দিক পান্ডিয়া। বিষ্ণইয়ের বলে আউট হন ফিলিপস, যিনি এক ছক্কা ও ৬ চারে সর্বোচ্চ ৪৮ রান করেন। মিচেল স্যান্টনার করেন ১৭ বলে ২৭ রান।
লক্ষ্য তাড়ায় প্রথম বলেই বোল্ড হয়ে ফেরেন সঞ্জু স্যামসন। তবে ক্রিজে এসেই পাল্টা আক্রমণে যান ইশান কিষান। সেই ওভারেই ম্যাট হেনরির ওপর চড়াও হয়ে দুটি ছক্কার পর একটি চার মারেন তিনি। অন্য প্রান্তে আভিশেকও দ্রুত রান তুলতে থাকেন।
চতুর্থ ওভারে ইশ সোধির বলে বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন কিষান। তাতে ভাঙে ৫৩ রানের জুটি। এরপর আর কোনো উইকেট পড়তে দেননি আভিশেক ও সুরিয়াকুমার।
পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে জ্যাকব ডাফির কাছ থেকে দুটি চার ও একটি ছক্কা হাঁকান আভিশেক। ওই ছক্কাতেই ফিফটি পূর্ণ করেন তিনি। একই ওভারে একটি ছক্কা মারেন সুরিয়াকুমারও। ওভারটি থেকে আসে ২২ রান।
৬ ওভার শেষে ভারতের রান ছিল ২ উইকেটে ৯৪। এরপর আভিশেক ও সুরিয়াকুমারের ব্যাটিং ঝড়ে পরের চার ওভারে আরও ৬১ রান যোগ করে অনায়াসে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় ভারত।
দশম ওভারে গ্লেন ফিলিপসকে ছক্কা মারার দুই বল পর চার হাঁকিয়ে ২৫ বলে নিজের ফিফটি পূর্ণ করেন সুরিয়াকুমার। পরের বলেই আরেকটি চারে ম্যাচ শেষ করে দেন তিনি।
আগামী বুধবার সিরিজের চতুর্থ টি-টোয়েন্টিতে আবার মুখোমুখি হবে দুই দল।