ইসিবির ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট’ (এনওসি) নীতির কারণে গত মৌসুমে ঘরোয়া ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য হলেও, ৩৯ বছর বয়সে আবার ফিরছেন ইংল্যান্ডের সাবেক অলরাউন্ডার মঈন আলী।
ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসর ভেঙে চলতি মৌসুমেই ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে চুক্তি করেছেন মঈন। আসন্ন টি–টোয়েন্টি ব্লাস্টে তিনি খেলবেন এই কাউন্টির হয়ে। পাশাপাশি দ্য হান্ড্রেডের নিলামেও নাম নিবন্ধনের পরিকল্পনা রয়েছে তার, যে টুর্নামেন্টটি তিনি গত মৌসুমে খেলতে পারেননি।
২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় বলা মঈন গত গ্রীষ্মে টি–টোয়েন্টি ব্লাস্টে ওয়ারউইকশায়ারের হয়ে গ্রুপ পর্বের আটটি ম্যাচ খেলেছিলেন। এরপর মৌসুমের মাঝপথেই তিনি দল ছাড়েন গায়ানা অ্যামাজন ওয়ারিয়র্সের হয়ে গ্লোবাল সুপার লিগ ও ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগ খেলতে। সেই কারণে দ্য হান্ড্রেডেও অংশ নেননি।
ইসিবির নতুন এনওসি নীতির জটিলতা এড়াতেই তখন ইংলিশ ঘরোয়া ক্রিকেট থেকে অবসরের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল মঈনকে। তবে এবার সেই সিদ্ধান্ত বদলে ইয়র্কশায়ারে যোগ দিলেন তিনি। এর আগে ওয়ারউইকশায়ার ও উরচেস্টারশায়ারের হয়ে খেলেছেন এই অলরাউন্ডার।
৩৮ বছর বয়সী মঈনের ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটে ব্যস্ত সময় কাটছে। গত শীতে তিনি খেলেছেন কানাডা সুপার৬০, আবুধাবি টি–টেন, আইএলটি২০ ও বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে। মে মাসে ব্লাস্ট শুরুর আগে পাকিস্তান সুপার লিগেও খেলবেন তিনি।
ইয়র্কশায়ারে যোগ দেওয়ায় আবার একসঙ্গে মাঠে নামার সুযোগ তৈরি হতে পারে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সাবেক ইংল্যান্ড সতীর্থ আদিল রাশিদের সঙ্গে। যদিও ২০২২ সালের পর ব্লাস্টে আর খেলেননি রাশিদ, তবু তিনি এখনও ইয়র্কশায়ারের খেলোয়াড়। এছাড়া দলে থাকবেন আরেক দীর্ঘদিনের সতীর্থ ও ২০১৯ বিশ্বকাপজয়ী জনি বেয়ারস্টো।
ক্লাবের এক বিবৃতিতে মঈন বলেন, “টি–টোয়েন্টি ব্লাস্টে ইয়র্কশায়ারের সঙ্গে যুক্ত হতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এটি একটি ঐতিহ্যবাহী ও বড় ক্লাব। সবচেয়ে ভালো লেগেছে, দলটি কোন পথে এগোচ্ছে। স্কোয়াডে প্রচুর প্রতিভা আছে, আর প্রধান কোচ অ্যান্থনি ম্যাকগ্রাথের সঙ্গে কাজ করে দলকে এগিয়ে নিতে পারাটা আমার জন্য রোমাঞ্চকর।”
তিনি আরও বলেন, “হেডিংলিতে খেলতে আমি সবসময়ই ভালোবাসি। উইকেট, পরিবেশ আর সমর্থকরা জায়গাটিকে বিশেষ করে তোলে। এটি আমার জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ। আমি ক্ষুধার্ত মনোভাব নিয়েই আসছি—নিজের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে চাই, ক্রিকেট উপভোগ করতে চাই এবং ইয়র্কশায়ারকে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এগিয়ে নিতে চাই।”
ইয়র্কশায়ার এখনও পর্যন্ত টি–টোয়েন্টি ব্লাস্টের শিরোপা জিততে পারেনি। গত মৌসুমে নয় দলের নর্থ গ্রুপে তারা অষ্টম হয়েছিল। অফ-সিজনে দল ছেড়েছেন ডেভিড মালান (গ্লস্টারশায়ার) ও জর্ডান থম্পসন (ওয়ারউইকশায়ার)। তবে নতুন করে অস্ট্রেলিয়ান স্যাম হুইটম্যান ও অ্যান্ড্রু টাইকে স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে দলে এনেছে তারা। বিদেশি হিসেবে চুক্তি হয়েছে নাভিন-উল-হক ও লোগান ভ্যান বিকের সঙ্গে।
ইয়র্কশায়ারের ক্রিকেট বিভাগের জেনারেল ম্যানেজার গ্যাভিন হ্যামিলটন বলেন, “মঈন একজন বিশ্বমানের অলরাউন্ডার, যার প্রভাব কেবল মাঠের পারফরম্যান্সেই সীমাবদ্ধ নয়। তার অভিজ্ঞতা ও নেতৃত্ব আমাদের টি–টোয়েন্টি দল গঠনে বড় ভূমিকা রাখবে।”
তিনি যোগ করেন, “ড্রেসিংরুমে তার উপস্থিতি দল ও পুরো ক্লাবের জন্যই ইতিবাচক হবে। ইয়র্কশায়ারে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত আমাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও পরিবেশের প্রতিফলন। পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মানদণ্ড স্থাপন ও দলকে এগিয়ে নিতে মঈন যে ভূমিকা রাখবে, তা নিয়ে আমরা রোমাঞ্চিত।”