যুব বিশ্বকাপে নিজেদের শেষ ম্যাচে জিম্বাবুয়েকে ৭৪ রানে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল।
আজিজুল হাকিমের দারুণ ফিফটি আর মাঝের সারির কয়েকজনের গুরুত্বপূর্ণ অবদানে আগে ব্যাট করে আড়াইশ পেরোনো সংগ্রহ গড়ে তোলে বাংলাদেশ। পরে বল হাতে দুর্দান্ত এক প্রদর্শনী উপহার দেন ইকবাল হোসেন। রেকর্ড গড়া বোলিংয়ে জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯ দলকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে এবারের যুব বিশ্বকাপে পথচলার ইতি টানে আজিজুলদের দল।
এর আগের ম্যাচে ইংল্যান্ডের কাছে হেরে সুপার সিক্স থেকেই বিদায় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের। ফলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ম্যাচটি ছিল মূলত নিয়মরক্ষার। হারারেতে শনিবার সেই ম্যাচেই দাপট দেখায় যুব টাইগাররা। ২৫৩ রানের লক্ষ্য ছুড়ে দিয়ে স্বাগতিকদের গুটিয়ে দেয় ১৭৯ রানে।
এই জয়ে ৩ পয়েন্ট নিয়ে সুপার সিক্স পর্বে চতুর্থ স্থানে থেকে বিশ্বকাপ শেষ করে বাংলাদেশ। ২০২০ সালে শিরোপা জয়ের পর টানা তিনটি যুব বিশ্বকাপেই সেমিফাইনালে উঠতে পারল না বাংলাদেশের যুবারা।
বাংলাদেশের জয়ের নায়ক ছিলেন ইকবাল হোসেন। মাত্র ২৪ রান খরচ করে শিকার করেন পাঁচ উইকেট। যুব ওয়ানডে ক্রিকেটে এটি তার তৃতীয় পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি, যা বাংলাদেশের কোনো বোলারের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ। এর আগে দুইবার করে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি ছিল আবুল হাসান, আল ফাহাদ ও সঞ্জিত সাহার। সব মিলিয়ে যুব ওয়ানডেতে ইকবালের চেয়ে বেশি বার পাঁচ উইকেট নিয়েছেন কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার পেসার কিউনা মাফাকা, যিনি চারবার এই কৃতিত্ব দেখিয়েছেন।
ব্যাট হাতে তিন নম্বরে নেমে ৬টি চার হাঁকিয়ে ৫৯ রানের ঝকঝকে ইনিংস খেলেন আজিজুল। ৬৮ বলে ৪৭ রান করেন রিজান হোসেন, তার ইনিংসে ছিল একটি ছক্কা ও চারটি চার। তবে আজিজুল ও রিজান ছাড়া বাংলাদেশের আর কেউ ২৫ রানের বেশি করতে পারেননি।
জিম্বাবুয়ের হয়ে ম্যাচের সর্বোচ্চ ইনিংসটি খেলেন অধিনায়ক সিম্বারাশে মুদজেনগেরেরে। চার নম্বরে নেমে ১২১ বল খেলে ৮টি চারে ৭০ রান করেন তিনি।
টস জিতে ব্যাট করতে নেমে ভালো শুরুর আভাস দিলেও দ্রুত ফিরে যান রিফাত। এরপর জাওয়াদ ও আজিজুলের ব্যাটে ধাক্কা সামলে নেয় বাংলাদেশ। ৪৮ রানের জুটি ভাঙে জাওয়াদের বিদায়ে। কালাম সিদ্দিকি দুই অঙ্ক ছুঁতে পারেননি। এরপর রিজানকে সঙ্গে নিয়ে ধীরে ধীরে স্কোরবোর্ড এগিয়ে নেন আজিজুল। দুজনের জুটিতে আসে ৮৭ বলে ৭৩ রান।
৭৬ বলে ফিফটি পূর্ণ করা আজিজুল ৩৬তম ওভারে কট বিহাইন্ড হয়ে ফেরেন। পরপর দুই ওভারে মোহাম্মদ আবদুল্লাহ ও রিজান আউট হলে কিছুটা চাপে পড়ে দল। শেষ দিকে আল ফাহাদের ব্যাটে আসে ঝড়ো রান। একটি ছক্কা ও দুটি চারে ১৩ বলে অপরাজিত ২৩ রান করে দলের সংগ্রহ আড়াইশ ছাড়ান তিনি।
লক্ষ্য তাড়ায় নেমে শুরু থেকেই চাপে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ইকবাল ও ফাহাদের তোপে পরপর দুই ওভারে দুই ওপেনারকে হারায় স্বাগতিকরা। তিনে নামা কিয়ান ব্লিগনাট কট বিহাইন্ড হন ফাহাদের বলে। মাত্র ১৫ রানে তিন উইকেট হারিয়ে বসে জিম্বাবুয়ে।
এরপর ইকবাল স্টাম্প ভেঙে ফিরিয়ে দেন লিরয় চিওয়াউলাকে এবং মাইকেল ব্লিগনাটকেও বিদায় করেন। পানাকেশে মাজাইকে বোল্ড করে নিজের পাঁচ উইকেট পূর্ণ করেন এই ডানহাতি পেসার।
একপ্রান্তে সতীর্থদের আসা-যাওয়ার মধ্যেও লড়াই চালিয়ে যান মুদজেনগেরেরে। তাকে ভালো সঙ্গ দেন শেল্টন মাজভিটোরেরা। ১০৯ রানে আট উইকেট হারানো জিম্বাবুয়ে তাদের জুটিতে দেড়শ ছাড়ায়। নবম উইকেটে ৬৪ রানের জুটি গড়ে তারা।
৭৮ বলে ফিফটি করা মুদজেনগেরেরেকে ফিরিয়ে দিয়ে সেই জুটি ভাঙেন ফাহাদ। শেষের আগের ওভারে ওয়েবস্টার মাধিধিকে বোল্ড করে বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত করেন তিনিই।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯: ৫০ ওভারে ২৫৩/৯
- জিম্বাবুয়ে অনূর্ধ্ব–১৯: ৪৮.৪ ওভারে ১৭৯
ফল: বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব–১৯ দল ৭৪ রানে জয়ী
ম্যান অব দ্য ম্যাচ: ইকবাল হোসেন