বিশাল লক্ষ্য তাড়ায় উড়ন্ত শুরু করার পরও বড় ব্যবধানে হেরে গেল নিউজিল্যান্ড।
ছোট মাঠ ও ব্যাটিং সহায়ক উইকেটে দুই দলই করেছে রানের উৎসব। ভারতের হয়ে ইশান কিষানের বিধ্বংসী সেঞ্চুরি, সুরিয়াকুমার ইয়াদাভের ঝড়ো ফিফটি এবং হার্দিক পান্ডিয়ার ক্যামিওতে গড়া বিশাল সংগ্রহের সামনে লক্ষ্য তাড়া করতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত পৌঁছাতে পারেনি নিউজিল্যান্ড।
পঞ্চম টি-টোয়েন্টিতে ৪৬ রানের জয়ে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল ভারত। চতুর্থ ম্যাচটি কেবল জিতে দিয়েছিল নিউজিল্যান্ডকে কিছু স্বস্তি।
শনিবার থিরুভানান্থাপুরামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ভারত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ২৭১ রান তোলে। এর মধ্যে শেষ ১০ ওভারে আসে ১৬৯ রান।
উত্তর দিতে নেমে নিউজিল্যান্ড ৮ ওভারে এক উইকেটে ১০৫ রানে শক্ত অবস্থানে থাকলেও শেষ পর্যন্ত ২২৫ রানে গুটিয়ে যায় দুই বল বাকি থাকতে। দুই দল মিলিয়ে রান হয়েছে ৪৯৬, যা এই সংস্করণের এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। সর্বোচ্চ রান আগে হয়েছিল ২০২৩ সালে, সেঞ্চুরিয়নে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের ম্যাচে ৫১৭ রান।
ভারতের সফলতম বোলার আর্শদিপ সিং চার ওভারে ৫১ রানে ৫ উইকেট নেন। প্রথম দুই ওভারে তিনি নেন ১ উইকেট খরচে ৪০ রান। শেষ দুই ওভারে মাত্র ১১ রান খরচ করে নেন ৪ উইকেট। ২৬ বছর বয়সী এই বাঁহাতি পেসারের জন্য এটি তার টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারের প্রথমবারের পাঁচ উইকেটের কীর্তি। এর আগে ২০২৪ বিশ্বকাপে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে ৯ রান খরচ করে ৪ উইকেট ছিল তার সেরা বোলিং।
ভারতের জয়ের মূল ভিত্তি গড়ে দেন ইশান কিষান। চোটের কারণে চতুর্থ ম্যাচে বাইরে থাকা এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ৪৩ বল খেলেন ১০৩ রানের বিস্ফোরক ইনিংস, যেখানে ছিল ১০ ছক্কা ও ৬ চারের মার। দেশের হয়ে এটি তার প্রথম টি-টোয়েন্টি সেঞ্চুরি এবং ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হন তিনি।
অধিনায়ক সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ ৩০ বল খেলে ৬৩ রান করে দলের সংগ্রহে অবদান রাখেন। কিষান ও সুরিয়াকুমারের জুটি ৫৮ বলে ১৩৭ রানের, যা ভারতের তৃতীয় উইকেটে রেকর্ড। এর আগে ২০১৬ সালে অ্যাডিলেইডে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সুরেশ রায়না ও বিরাট কোহলির ১৩৪ রানের জুটি ছিল রেকর্ডধারী।
নিউজিল্যান্ডের ওপেনার ফিন অ্যালেন ৮টি চার ও ৬টি ছক্কায় ৩৮ বল খেলেও ৮০ রানের বেশি আর কেউ করতে পারেনি।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- ভারত: ২০ ওভারে ২৭১/৫ (আভিশেক ৩০, স্যামসন ৬, কিষান ১০৩, সুরিয়াকুমার ৬৩, পান্ডিয়া ৪২, রিঙ্কু ৮, দুবে ৭; ডাফি ৪-০-৫৩-১, জেমিসন ৪-০-৫৯-১, ফার্গুসন ৪-০-৪১-২, সোধি ৩-০-৪৮-০, ফিলিপস ১-০-১০৮-০, স্যান্টনার ৪-০-৬০-১)
- নিউজিল্যান্ড: ১৯.৪ ওভারে ২২৫ (সাইফার্ট ৫, অ্যালেন ৮০, রাভিন্দ্রা ৩০, ফিলিপস ৭, মিচেল ২৬, স্যান্টনার ০, জ্যাকবস ৭, জেমিসন ৯, সোধি ৩৩, ফার্গুসন ৩, ডাফি ৯*; আর্শদিপ ৪-০-৫১-৫, পান্ডিয়া ২-০-১৫-০, বুমরাহ ৪-০-৫৮-০, ভারুন ৪-০-৩৬-০, আকসার ৪-০-৩৩-৩, আভিশেক ১-০-১৩-০, রিঙ্কু ০.৪-০-৭-১)
ফল: ভারত ৪৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ৫ ম্যাচের সিরিজে ৪-১ ব্যবধানে জয়ী ভারত
ম্যান অব দা ম্যাচ: ইশান কিষান
ম্যান অব দা সিরিজ: সুরিয়াকুমার ইয়াদাভ