টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে শুধু লড়াই নয়, ম্যাচ জিততেই নামতে চায় বাংলাদেশ।
দুটি স্পষ্ট লক্ষ্য নিয়ে নেপালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাই খেলতে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী দল—বিশ্বকাপে জায়গা নিশ্চিত করা এবং টুর্নামেন্টে অপরাজিত থাকা। দুটিই পূরণ হয়েছে। এতে স্বাভাবিকভাবেই সন্তুষ্ট অধিনায়ক নিগার সুলতানা। তবে তাঁর মতে, আসল চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে বিশ্বমঞ্চে। বাছাইপর্বে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর এবার ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বিশ্বকাপে ভালো কিছু করার স্বপ্ন দেখছে বাংলাদেশ।
রোববার নেদারল্যান্ডসকে হারিয়ে বাছাইয়ের অভিযান শেষ করে নিগার সুলতানার দল। গ্রুপ পর্বের চার ম্যাচ জয়ের পর সুপার সিক্সের প্রথম ম্যাচেই থাইল্যান্ডকে হারিয়ে বিশ্বকাপে টিকিট নিশ্চিত করে বাংলাদেশ। এরপর বাকি দুই ম্যাচেও জয় তুলে নিয়ে সাত ম্যাচের সবকটিতেই জিতে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই বাছাই শেষ করে তারা।
নেপালের মুলপানিতে শেষ ম্যাচ জয়ের পর উচ্ছ্বাস লুকাননি অধিনায়ক নিগার সুলতানা।
“নেপালে আসার আগে আমাদের দল হিসেবে লক্ষ্য ছিল প্রথমে কোয়ালিফাই নিশ্চিত করা। তারপর ব্যাক অব দ্য মাইন্ড এটা ছিল, আমরা এই টুর্নামেন্ট জিততে চাই, মানে অপরাজিত থাকতে চাই। আমরা এটা করতে পেরেছি। এখানে সম্পূর্ণ কৃতিত্ব মেয়েদের। মেয়েরা অসম্ভব ভালো খেলেছে টুর্নামেন্টজুড়ে। দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছে। যার যেটা ভূমিকা ছিল তা করার চেষ্টা করেছে।”
বাংলাদেশ দলের দীর্ঘদিনের দুর্বলতা হিসেবে ধরা হয় ব্যাটিং বিভাগকে। তবে এবারের বাছাইপর্বে ব্যাটারদের পারফরম্যান্স ছিল আগের তুলনায় অনেক বেশি ধারাবাহিক ও আত্মবিশ্বাসী। সেটিই সবচেয়ে বেশি আনন্দ দিচ্ছে অধিনায়ককে।
“সবসময় আমাদের ব্যাটারদের নিয়ে অনেক সময় কথা হয়, আমরা ধারাবাহিক না। কিন্তু এই টুর্নামেন্টে ব্যাটাররা বেশ ভালোভাবে ডমিনেট করেছে। বোলাররাও সাথে সাথে অবদান রেখেছে, যে যেখানে পেরেছে। আমার কাছে মনে হয়েছে, দল হিসেবে আমরা আগের চেয়ে অনেক ভালো করেছি, অনেক ধারাবাহিক ছিলাম, দাপুটে ক্রিকেট খেলেছি, এজন্য অনেক বেশি আনন্দিত।”
বাছাইপর্বে ভালো করা বাংলাদেশের জন্য নতুন কিছু নয়। কিন্তু মূল বিশ্বকাপে গিয়ে বারবার ব্যর্থ হওয়ার ইতিহাসও রয়েছে। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত ২৫ ম্যাচ খেলে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি।
২০১৪ সালে দেশের মাটিতে শ্রীলঙ্কা ও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি জয় এসেছিল। এরপর দীর্ঘ অপেক্ষার পর ২০২৪ বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে আরেকটি জয় পায় বাংলাদেশ। এই তিনটি জয় ছাড়া বেশিরভাগ ম্যাচেই বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে দলটিকে।
আগামী জুন-জুলাইয়ে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত হবে এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। কন্ডিশন যেখানে বাংলাদেশের জন্য বেশ চ্যালেঞ্জিং হতে পারে। তবু সেখানেও প্রভাব রাখার স্বপ্ন দেখছেন নিগার সুলতানা। এজন্য বিশ্বকাপের আগে মানসম্মত প্রস্তুতির ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
“এখন আমাদের লক্ষ্য সামনের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স করতে পারি। এজন্য প্রস্তুতিটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। আমরা চাইব যে, বিশ্বকাপের আগে আমরা যদি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে যেতে পারি… কারণ, আগে আমরা যতগুলো টুর্নামেন্ট খেলেছি, নিজেদেরকে ওভাবে প্রস্তুত করতে পারিনি।”
“আমরা শুধ লড়াই করার জন্য ইংল্যান্ডে যাব না। আমরা ওখানে ম্যাচ জিততে চাই এবং ইমপ্যাক্টফুল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দেশের জন্য উপহার দিতে চাই। এজন্য দল হিসেবে এবং আমারো ব্যক্তিগতভাবে চাওয়া, যদি বিশ্বকাপের আগে যদি আমরা টি-টোয়েন্টিতে একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ টুর্নামেন্ট খেলতে পারি…যেমন কোনো ফ্রাঞ্চাইজি লিগ বা টুর্নামেন্ট… আমার মনে হয় দলকে উজ্জীবিত করবে, আমাদের প্রস্তুতির জন্যও ভালো হবে।”