মিরপুরের শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে রোববার যেন টানটান উত্তেজনার এক মহাকাব্য লেখা হলো। তানজিদ হাসানের দুর্দান্ত সেঞ্চুরি আর তাসকিন আহমেদের আগুনে বোলিংয়ের পর শেষ ওভারের চরম নাটকীয়তায় পাকিস্তানকে ১১ রানে হারিয়ে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ জিতে নিল বাংলাদেশ। এই জয়ের ফলে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ এগিয়ে ৯ নম্বরে উঠে এল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।
তানজিদের ব্যাটে বড় পুঁজি
টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা দারুণ করে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়া দলটি এবার উদ্বোধনী জুটিতেই তোলে ১০৫ রান। ওপেনার তানজিদ হাসান ছিলেন বিধ্বংসী মেজাজে। মাত্র ৪৭ বলে ফিফটি ছোঁয়ার পর তিনি তুলে নেন ক্যারিয়ারের প্রথম আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি (১০৭ বলে ১০৭ রান)। তাকে যোগ্য সঙ্গ দেন সাইফ (৩৬) ও শান্ত (২৭)। শেষ দিকে লিটন (৪১) ও হৃদয়ের (৪৮*) ব্যাটে ভর করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২৯০ রানের চ্যালেঞ্জিং স্কোর দাঁড় করায়।
তাসকিনের তোপ ও সালমানের পাল্টা লড়াই
২৯১ রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে শুরুতেই তাসকিন আহমেদ ও নাহিদ রানার তোপে পড়ে পাকিস্তান। মাত্র ১২ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ধুঁকতে থাকে তারা। তবে সেখান থেকে হাল ধরেন সালমান আলি আগা। একদিকে উইকেট পড়লেও অন্যপ্রান্ত আগলে রেখে ৮৯ বলে সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে ম্যাচ জমিয়ে তোলেন তিনি। শেষ দিকে তাকে সঙ্গ দেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।
নাটকীয় শেষ প্রহর
ম্যাচ যখন পাকিস্তানের হাতের মুঠোয় মনে হচ্ছিল, তখনই আঘাত হানেন তাসকিন। ১০৪ রান করা সালমানকে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে ম্যাচে ফেরান এই পেসার। কিন্তু নাটকের তখনও বাকি ছিল! শেষ ওভারে পাকিস্তানের দরকার ছিল ১৪ রান।
বোলিংয়ে আসেন লেগ স্পিনার রিশাদ হোসেন। দ্বিতীয় বলেই আফ্রিদির ক্যাচ মিস করে ম্যাচ হারানোর শঙ্কায় ফেলে দিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই হতাশা ঝেড়ে ফেলে পরের বলগুলোতে দারুণ নিয়ন্ত্রণ দেখান রিশাদ। আফ্রিদি যেন তার ঘূর্ণির কূলকিনারা পাচ্ছিলেন না। শেষ পর্যন্ত স্নায়ুচাপ ধরে রেখে ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
- বাংলাদেশ: ৫০ ওভারে ২৯০/৫ (সাইফ ৩৬, তানজিদ ১০৭, শান্ত ২৭, লিটন ৪১, হৃদয় ৪৮*, রিশাদ ০, আফিফ ৫*; আফ্রিদি ১০-০-৫৫-১, রউফ ১০-০-৫২-৩, আবরার ১০-০-৪৯-১, ফাহিম ৪-০-২৪-০, মাসুদ ৮-০-৫৫-০, সাদাকাত ১-০-৯-০, সারমান ৭-০-৩৫-০)।
- পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৭৯ (সাহিবজাদা ৬, সাদাকাত ৬, ঘোরি ২৯, রিজওয়ান ৪, সামাদ ৩৫, সালমান ১০৪, মাসুদ ৩৮, ফাহিম ৯, আফ্রিদি ৩৭, রউফ ১, আবরার ০*; তাসকিন ১০-১-৪৯-৪, নাহিদ ১০-০-৬২-২, মুস্তাফিজ ১০-০-৫৪-৩, মিরাজ ১০-০-৩৭-০, রিশাদ , সাইফ ৩-০-১৮-০)।
ফল: বাংলাদেশ ১১ রানে জয়ী।
সিরিজ: তিন ম্যাচ সিরিজে বাংলাদেশ ২-১ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: তানজিদ হাসান।
ম্যান অব দা সিরিজ: তানজিদ হাসান ও নাহিদ রানা।