বিসিবি’র বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন সাবেক যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজিব ভূঁইয়া। তার অভিযোগ, একজন প্রভাবশালী ও স্বনামধন্য ক্রিকেটার আইসিসি যাতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়, সেজন্য জোর লবিং চালাচ্ছেন। এমনকি এই প্রক্রিয়ায় বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকার অবগত কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের দাবি, ওই ক্রিকেটার সম্প্রতি লন্ডনে সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনের সঙ্গে দেখা করেছেন। সেখানে তিনি আইসিসি সভাপতি এবং অমিত শাহর পুত্র জয় শাহর সঙ্গে একটি বৈঠকের ব্যবস্থা করে দিতে পাপনকে অনুরোধ জানান। মূলত বোর্ড ভেঙে দেওয়ার ক্ষেত্রে আইসিসি থেকে যাতে কোনো ধরনের আর্থিক নিষেধাজ্ঞা বা কঠোর ব্যবস্থা না আসে, সেটি নিশ্চিত করতেই এই তৎপরতা চালানো হচ্ছে। সাবেক এই উপদেষ্টা আরও স্মরণ করিয়ে দেন যে, রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কারণে ইতিপূর্বে শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের বিরুদ্ধে আইসিসি কঠোর ব্যবস্থা নিয়েছিল।
বর্তমানে এনসিপির মুখপাত্রের দায়িত্ব পালন করা আসিফ মাহমুদ দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ ও পার্শ্ববর্তী দেশের সংশ্লিষ্টতার খবর শুনে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমানের সরকার কি এসব বিষয়ে অবগত? নাকি সবাই মিলেই হচ্ছে সবকিছু।” তিনি মনে করেন, দেশের মানুষের এই গোপন লবিংয়ের বিষয়গুলো জানা উচিত।
এদিকে, বিসিবি নির্বাচনে অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গঠিত তদন্ত কমিটির ডাকে কেন সাড়া দেননি, তারও একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। তার মতে, বিসিবি একটি স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় মন্ত্রণালয়ের এই তদন্ত করার এখতিয়ার নেই। এছাড়া বিষয়টি উচ্চ আদালতে বিচারাধীন থাকায় এই তদন্তকে তিনি ‘আদালত অবমাননা’ হিসেবে দেখছেন। তিনি অভিযোগ করেন, বর্তমান ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বোর্ড ডিরেক্টরদের পদের লোভ দেখিয়ে অথবা ভয় দেখিয়ে পদত্যাগ করাচ্ছেন। নিয়মবহির্ভূত ও আইনি জটিলতা থাকায় তিনি এই তদন্ত প্রক্রিয়ায় শামিল হননি বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন।