হাতিরঝিলের উন্মুক্ত মঞ্চে তখন উৎসবের আমেজ। ট্রফি হাতে নিয়ে যখন বাংলাদেশ অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী গ্যালারির দিকে তাকালেন, তখন সমবেত হাজারো সমর্থকের গগনবিদারী চিৎকারে প্রকম্পিত হলো চারপাশ। অধিনায়ক স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিলেন, “এই ট্রফি আপনাদের জন্য। শুধু আপনাদের জন্য।” সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের এই ঐতিহাসিক শিরোপা জয়কে এভাবেই দেশের সাধারণ মানুষের নামে উৎসর্গ করলেন তিনি।
সাফ জয়ী বীরদের বরণ করে নেওয়ার দৃশ্যটি ছিল দেখার মতো। বিমানবন্দর থেকে ছাদখোলা বাসে করে পুরো পথ নেচে-গেয়ে আর সমর্থকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে রাত ৯টা ৪০ মিনিটে হাতিরঝিলের অ্যাম্ফিথিয়েটারে পৌঁছায় দলটি। বাসের ছাদে দাঁড়িয়ে রাস্তার ধারের গাছের ডালপালা আর নিচু হয়ে থাকা বৈদ্যুতিক তার এড়িয়ে তাদের এই যাত্রা ছিল রোমাঞ্চকর। সবার আগে মঞ্চে প্রবেশ করেন কোচ মার্ক কক্স, আর তার পেছনেই ট্রফি উঁচিয়ে ধরে আসেন অধিনায়ক মিঠু ও টুর্নামেন্ট সেরা গোলকিপার মাহিন। তবে সবার নজর কেড়েছেন ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান, যিনি চোটের কারণে টুর্নামেন্টের মাঝপথে ছিটকে পড়েছিলেন। ক্রাচে ভর দিয়ে যখন তিনি মঞ্চে এলেন, সতীর্থরা তাকে পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন।
অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক এবং বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল খেলোয়াড়দের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। জাতীয় সংগীতের পর যখন স্ক্রিনে মালদ্বীপের সেই রূপকথার জয়ের মুহূর্তগুলো ভেসে উঠছিল, তখন গোটা পরিবেশ আবেগঘন হয়ে ওঠে। নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স ভাঙা ভাঙা বাংলায় ‘আমার হৃদয় বাঙালি’ বলে উপস্থিত সবাইকে চমকে দেন। তিনি খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতাকে ১৯৭১ সালের বীরত্বগাথার সাথে তুলনা করে বলেন, বাংলাদেশের এই ফুটবলাররা বিশ্বমঞ্চে বারবার এমন সাফল্য নিয়ে আসবে।
বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল দর্শকদের ‘১২তম খেলোয়াড়’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের বিশেষ ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, এটি কেবল শুরু; ফুটবলের এই জয়যাত্রা আর থামবে না। তবে সাফল্যের পাশাপাশি অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি সরকারি ও বেসরকারি পৃষ্ঠপোষকদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান, যাতে এই তরুণ তুর্কিদের জন্য বিশ্বমানের সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা যায়। অনুষ্ঠানের শেষ দিকে যখন তাবিথ আউয়াল স্লোগান ধরলেন ‘উই আর দ্য…’, উপস্থিত জনতা একস্বরে গর্জে উঠল— ‘চ্যাম্পিয়ন!’